somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেখুন দক্ষিন আফ্রিকায় বাংলাদেশীরা কী ভাবে মারা যাচ্ছে ?

০২ রা এপ্রিল, ২০১৩ রাত ৩:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঈসা ভাই, আমুদে একটা মানুষ; হাসি ছাড়া কথাই বলতে পারেন না কারো সাথে। বেলকমে বাংলাদেশের তরি-তরকারী-মাছ-মশলার দোকান তার, সামর্থ্যের মধ্যে সম্ভব সকল নদীমাতৃক স্বাদের ভাঁড়ার ছিল প্রিয় ঈসা ভাইর দোকান। আফ্রিকার এই প্রতিকূল মাটিতে পুঁইশাক-পালং শাক-লাউ-ঝিঙ্গা-শসা-বেগুনসহ বাহারি শাক-সবজি চাষাবাদের স্পর্ধা বেলকমে একমাত্র ঈসা ভাই-ই দেখাতে পেরেছিলেন। দুপুরে খবর এল, ঈসা ভাই নেই, না ফেরার দেশে চলে গ্যাছেন। স্তব্দ হয়ে গেলাম, এই আকস্মিক অসম্ভবে নিজেকে সান্ত্বনা দেয়ার মত কোন শব্দ নেই আমার অভিধানে। কয়েক দিনের ব্যবধানে একটি মানুষ এত অকস্মাৎ নিখোঁজ হয়ে যেতে পারে আফ্রিকায়। গেলো সপ্তাহে কয়েক জন নিগ্রো সন্ত্রাসী তার দোকান রোবারিং করতে এলে তিনি নিগ্রোদের হাতে গুলিবিদ্ধ হন, তৎক্ষণাৎ তাকে ব্লুমপন্টেইন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বুকের কাছাকাছি লেগেছিল গুলি, অপারেশানের পর ডাক্তার জানালো শংকামুক্ত। ভেবেছিলাম বেঁচেই যাবেন, আফ্রিকাতে এমন দু-চারটা বুলেটের আঘাত আর পাংগার কোপ হজম করে বেঁচে যাওয়া বাঙালির সংখ্যা নেহায়েত কম না। আমার নিজের পিঠেও এখনও ছুরির আঘাতের চিহ্ন আছে। কিন্তু হায়, অনেকের মত বুক-পকেটে কৃষ্ণ উন্মাদদের নিপীড়নের ক্ষত নিয়ে ফেরা হল না তার। ক্যারাম-বোর্ডটি এখনও চারপায়ে দাড়িয়ে আছে, লাল গুটিটাও প্রস্তুত, শুধু নেই এক জনের উস্কানি__ 'চল ভাই, এক দান খেলি'। চিংড়ি-ভর্তার প্রলোভন আর দেবে না কেউ, পুঁই শাকের ফলনও আর হয়ত হবে না বেলকমে। যমের কাছে বাজেয়াপ্ত হয়ে গ্যাছে হায় ঈসা ভাইর তল্লাটে কত কত রঙচটে সকাল-দুপুর-বিকেল। মৃত্যু আমার কাছে সহজ-স্বাভাবিক-প্রাকিতিক সত্য, তাই কারো মৃত্যুতে খুব বেশি বিমর্ষ হই না আমি। আমি ব্যথিত হই কারো অপমৃত্যুতে, কারো অনাকাক্ষিত অকাল প্রয়াণে। জীবনের অস্বাভাবিক-অপরিণত পরিসমাপ্তি কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জীবন-জীবিকার টানাটানির পাকতালে পড়ে আজ আমরা আশ্রিত আফ্রিকার এই বিভীষিকাময় জনপদে, আমরা ক্রীতদাস তো নই নিগ্রোদের। তিনবেলা এখানে গ্রোসারি দোকানগুলোতে কলুর বলদের পরিশ্রম করে কটা পয়সা নিচ্ছি তোদের ইকোনমি থেকে, চুরি তো করছিনে, ভিক্ষে তো মাগছিনে। ইংরেজ প্রভুদের মত পাছায় চাবুক চালিয়ে তোদের বুকের পাঁজর বিক্রি করে তো আর বাঙালিরা অর্থ উপার্জন করছে না এখানে, নিজেদের শ্রম-ঘাম-মেধার রিটার্নটুকুই নিচ্ছি শুধু। তবে কেন এই অবিচার? যত্র-তত্র মাকুলাদের উপর এমন বর্বর-পাশবিক নিপীড়ন? একের পর এক বাঙালি হতাহত হওয়ার পরও কেন আফ্রিকান পুলিশের এমন নীরবতা? কেন প্রকাশ্যে গুলি করে মাকুলা মারা হলেও এর কোন সুবিচার হয় না আফ্রিকার আদালতে? কোন একটি সেকেন্ডের জন্যও আফ্রিকাতে নিরাপদ নয় উপমহাদেশীয় চামড়ার মানুষেরা? কৃষ্ণাঙ্গ নই বলেই আমরা কি তবে মানুষ নই? জবাব দে, হারামজাদা মাদিবা...
জানি হয়ত আরও অনেক ঈসা ভাই ক্ষয়ে যাবে, আরও অনেক রক্তপানের পর এই আদিম-হিংস্র কৃষ্ণাঙ্গ ভামপায়ারগুলো মানুষ হবে একদিন। উইন্টারের সেই স্নো-বিস্তীর্ণ আভোগ্রাডোবহুল নিরাপদ সকালটা আমাদের দেখা হবে না ঈসা ভাই। তবু যেখানেই থাকো, ভালো থেকো...

(বিঃদ্রঃ 'মাকুলা' একটা প্রচল গালি এখানে, যার অর্থ কুলি। উপমহাদেশীয়দের আফ্রিকান নিগ্রোরা এই নামে ডাকে।)

এই লেখাটি আমার এক বন্ধুর ফেসবুক থেকে নেয়া হয়েছে। লেখক এখানে তার মনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যদিও লেখাটা অনেকটা বর্ণবাদী বলে মনে হবে।
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×