অনুষ্ঠানটি ছিল একটি বইয়ের প্রকাশনা। বইয়ের উপর আলোচনার সহৃত্রে উঠে এলো সেই পুরনো দাবি_বিশ্বের অনন্য স্ট্থাপত্য, বিশ্বখ্যাত স্ট্থপতি লু'ই কানের অমর কীর্তি জাতীয় সংসদ ভবনে দর্শনাথর্ীদের প্রবেশাধিকার চাই। আলোচনা অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে একটা ঐক্যমত্যও দাঁড়িয়ে গেলো। প্রত্যেক বক্তাই এ দাবির প েছিলেন সোচ্চার। করতালির মাধ্যমে দর্শকরাও এ দাবির প্রতি জানিয়ে দিলেন তাদের সমর্থন।
'সমতটে সংসদ : বাংলাদেশের স্ট্থাপত্য সংস্ট্কৃতি, লু'ই কান ও সংসদ ভবন' মীর মোবাশ্বের আলী'র প্রথম গ্রল্প্থ। বাংলাদেশে স্ট্থাপত্য কলা শিার প্রতিষ্ঠানিক রহৃপকারদের অন্যতম পথিকৃত মীর মোবাশ্বের আলী টানা 45 বছর বুয়েটে অধ্যাপনা শেষে গত সল্ফপ্পাহে অবসর গ্রহণ করেছেন। গতকাল হোটেল শেরাটনের মার্বেল রুমে গতকাল বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়।
বইটির উপর আলোচনা করতে গিয়ে অধ্যাপক আবদুল্ক্নাহ আবু সায়ীদ সংসদ ভবন সর্বসাধারনের জন্য খোলে দেয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, অপ্রয়োজন যত বাড়ে শিল্কেপ্পর তত বড় হওয়ার সল্ফ্ভাবনা থাকে। কিল্পস্নু আমাদের জাতীয় সংসদ ভবন একই সগ্ধেগ কাসিক, একই সগ্ধেগ রোমান্টিক, দৃঢ় শক্তিময়, গতিময় এবং প্রয়োজনীয়। বাঙালিদের তুদ্ব করার জন্যই পাকিস্টস্নানি সরকার তৎকালীন সময়ে দুই শ' কোটি টাকা ব্যয় করেছিল ভবন নির্মাণে। তিনি বলেন, দেশের একমাত্র স্ট্থাপত্যকর্ম যা মানুষ দেখতে পায় না। এটা খোলে দেয়া উচিৎ। দেশের স্ট্থাপত্যকীর্তি সবচে' বড় কাজটা দেশের মানুষ দেখুক। দেশের মানুষ দেখতে না পেলেও কালো টাকার মালিকরা ঠিকই দেখতে পায়।
কথাশিল্কপ্পী আনিসুল হক দর্শক সারি থেকে আলোচনা করতে গিয়ে ােভ প্রকাশ করে বলেন, গরীব দেশের মানুষ হয়ে আমি আমি পেন্টাগনে ঢুকেছি, হোয়াইট হাউসে ঢুকেছি কিল্পস্নু আমার দেশের সেরা স্ট্থাপত্য কর্ম, আমার জাতীয় সংসদ ভবন দেখতে পাই না। তিনি বই থেকে উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, পিরাপিট থেকে শুরু করে চার হাজার বছরের ইতিহাসে একশ'টি সেরা স্ট্থাপত্যকর্মের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন। অথচ তা দেখার সুযোগ নেই দেশের মানুষের।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. মুহাল্ফ্মদ ইউনহৃস বলেন, আমাদের জাতীয় সংসদ যে চাঞ্চল্য সৃদ্বিকারি স্ট্থাপত্যকর্ম তা বাইরের মানুষের আগ্রহ দেখে বুঝতে পারি। এ প্রসগ্ধেগ তিনি কিছু দিন আগে বাংলাদেশ সফরী সিএনএন এর মালিক ট্রেড টার্নার-এর কথা উল্ক্নেখ করেন। জানান, টার্নার এয়ারপোর্টে নেমেই জানাতে চান_লুই কানের স্ট্থাপত্য কর্মটি কোথায়। হোটেলে যাওয়ার আগে সেটি দেখা যাবে কি-না। বিষয়টা এরকম ভারতে যাব আর তাজমহল দেখবো না তা হয় না। কিল্পস্নু টার্নার ভিতরে ঢুকতে চাইলেন। তাকে বলা হলো অনুমোতি লাগবে। এটা শোনে তিনি আশ্চর্য হলেন। তিনি বলেন, যে কোন জাতীয় সংসদের বড় শর্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ নিত্যনৈমিত্যিক ঢুকতে পারবে। স্ট্কুল থেকে বাচ্চা যেতে পারবে। দেখবে তাদের জনপ্রতিনিধিরা তাদের জন্য কিভাবে কাজ করছে। কিল্পস্নু আমাদের এখানে তা সল্ফ্ভব নয়। যে ভবনে গণতল্প্পের কথা বলা হয় তার প্রতিচ্ছবি সেখানে নেই। তিনি সর্বসাধারণের জন্য খোলে দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, নিরাপত্তা সারা দুনিয়ার সমস্যা। অনন্যরা যেভাবে মোকাবেলা করছে আমাদেরও সেভাবে করতে হবে। প্রয়োজনীয় তল্ক্নাশী করেও যেন ঢুকতে দেয়া হয়। এটা দেখার সুযোগ সবার আছে। কারণ এটা কোন রাজপ্রাসাদ না। এটা দেশের মানুষের। তিনি বলেন, এই ভবনে বাচ্চাদের নিয়ে গিয়ে আমরা যেন বলতে পারি_এই হচ্ছে আমাদের স্ট্বাধীনতার প্রতীক। এর মালিক আমরা দেশের জনগণ।
প্রত্যেক বক্তাই বাংলা ভাষায় এমন একটি গ্রল্প্থ উপহার দেয়ার জন্য অধ্যাপক মীর মোবাশ্বের আলীকে অভিনন্দন জানান। আমাদের স্ট্থপত্য বিষয়ক প্রকাশনার েেত্র এটি একটি অনন্য সংযোজন হিসেবে অবিহিত করেন।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে লেখক ছাড়াও বক্তৃতা করেন এনা প্রোপার্টিজের ব্যবস্ট্থাপনা পরিচালক এনামুল হক। সভাপত্দি্ব করেন বুয়েটের স্ট্থাপত্য ও পরিকল্কপ্পনা অনুষদের ডীন অধ্যাপক শহীদুল আমিন।
'সমতটে সংসদ : বাংলাদেশের স্ট্থাপত্য সংস্ট্কৃতি, লু'ই কান ও সংসদ ভবন' এলবাম আকারের 224 পৃষ্ঠার বই। মহৃল্য 1200 টাকা। বইয়ে রয়েছে প্রাসগ্ধিগক অনেকগুলো আলোকচিত্র। প্রকাশনা শিল্কপ্প সংশি্নদ্ব নয় এমন একটি প্রতিষ্ঠান বইটি প্রকাশ করেছে। বইতে রয়েছে দুটো ভাগ। প্রথম অংশে প্রধানত বাঙ্গালি সত্তা ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতার ধরন অনুধাবন করার চেদ্ব করা হয়েছে। দ্বিতীয় অংশে কা'নের নিয়োগ, জীবন দর্শন বিষয়ে কিছুটা ও সংসদ ভবন বিষয়ে বিস্টস্নারিত আলোচনা করা হয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সমল্ফপ্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে লেখক লিখেছেন_ 'কা'নের দর্শন, প্রজ্ঞা ও প্রতিভার সবচাইতে বড় ও সার্থক প্রতিফলন এই সংসদ ভবন। যে সময় তৈরী হয়, ভাবধারায় এই ভবন তার চেয়ে অগ্রগামী। অনেক আলোচক এর মধ্যে পোস্টল্ট মডার্নিজমের সূচনা দেখতে পান। এই ভবন শিল্পোত্তীর্ণ ও কালোত্তীর্ণ। সময়ের প্রভাবে এ কখনও অচল ও অগ্রাহ্য হয়ে যাবে না। বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে হয়েও এই ভবন হাতে তৈরী করা। প্রযুক্তির অগ্রগতি ও বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর আকষর্ণ বাড়বে বই কমবে না।'
বইয়ের প্রকাশনা প্রসগ্ধেগ লেখক বলেছেন, ইংরেজীতে এই ভবন সল্ফপ্পর্কে অসংখ্য বর্ণনা, আলোচনা ও সমালোচনা প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাদ্ব্রের পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে লুই কা'ন আর্কাইভেও এ ভবন সল্ফপ্পর্কে সকল প্রকার বিস্টস্নারিত তথ্য পাওয়া যায়। ইন্টারনেটেও এই ভবন সল্ফপ্পর্কে বিস্টস্নারিত জানার সুযোগ আছে। বাংলায় এই ভবন সল্ফপ্পর্কে কিছু পুস্টিস্নকা ছাড়া কোন বিস্টস্নারিত আলোচনা প্রকাশিত হয় নাই অথচ এই ভবন বিষয়ে জনগনের মনে ঔৎসুক্যের অল্পস্ন নাই।
লেখক লিখেছেন_'সংসদ ভবনের যে দিকটা সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করা হয়েছে তা হচ্ছে এর খরচ। তৎকালীন দুইশ কোটি টাকা এই ভবনের নির্মাণ ব্যয়। শুধু এককালীন ব্যয় হলে কথা ছিল না, এর রণাবেণের খরচও অত্যাধিক। অনেক সময় এরকম একটা যুক্তি দাঁড় করান হয় যে, যেখানে সৃজনশীল স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে; যে ভবন সর্বজন নন্দিত এবং স্থাপত্যের ইতিহাসে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে, যে ভবন জনগণের বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করেছে ও যা নিয়ে আমরা গর্বর্ির্ত; সেরকম একটা ভবনের নির্মাণ ও রণাবেণ ব্যয় সম্পর্কে কটা না করে কি পারা যায় না। না, পারা যায় না। কেননা এ ভবন জনসাধারণের।'
আজিজুল পারভেজ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


