আজিজুল পারভেজ
'উললুক হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র বনমানুষ ()। বনমানুষেরা বানরের চেয়ে অনেক আলাদা, এদের লেজ নেই। এদের মাথায় মগজের পরিমাণ বেশী এবং এদের বাল্যকাল অনেক দীর্ঘ'। প্রাণীটির পরিচিতি এ ভাবেই দেয়া হয়েছে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর সু্যভেনীরে। প্রদর্শনী উপলক্ষে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেসে একজন সন্দেহ প্রকাশ করলেন উললুক-কে বনমানুষ বলা যাবে কি না। তিনি জানালেন প্রাণী বিজ্ঞানী ড. আলী রেজা খান এটাকে বলেছেন নরবানর। আলোকচিত্রীও স্বীকার করলেন এটা বিতর্কের উর্ধ্বে নয়। তবে প্রাণীটি যে বিপন্নএ ব্যাপারে কারো সন্দেহ নেই। সচেতন না হলে দক্ষিণ এশিয়ার এ বিশেষ প্রজাতিটি যে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে_এ বিষয়টির প্রতি দৃষ্ঠি আকর্ষণের জন্যই শুরু হয়েছে আলোকচিত্রী সিরাজুল হোসেইনের একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী 'বিপন্ন বনমানুষ'। জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টাশালী প্রদর্শনী কেন্দ্রে গতকাল এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন লেখক-পরিবেশবিদ দ্বিজেন শর্মা।
প্রদর্শনীতে সিলেট অঞ্চলের লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে তোলা 60টি আলোকচিত্র রয়েছে। এর মধ্যে 30টি ছবিই হচ্ছে উল্ললুকের। বাংলাদেশের বনাঞ্চল ও জীবজন্তু নিয়ে গবেষণারত ফিনল্যান্ডের পেট্রা ওসটেরবার্গ-এর সহযোগিতা নিয়ে দেড়মাসে এই আলোকচিত্রগুলো ধারণ করা হয়েছে। যেগুলেতে উল্ক্নুকের দৈনন্দিন কর্মকান্ড ও অভিব্যক্তি ফেমবন্দী করার মাধ্যমে তাদের জীবন ধারার প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। আলোচিত্রী বলেছেন, এই বিশেষ প্রাণীটির জীবন-যাপন যে মানুষের খুব কাছাকছি এ বিষয়টিকে উপলব্দীতে নেয়া উচিত।
পেট্রা ওসটেরবার্গ-এর অনুসন্ধান মতে, বাংলাদেশে বিভিন্নস্থানে বাইশটি বনে সর্বমোট দু'শটি উললুক রয়েছে। এদেশে লাউয়াছড়া বনাঞ্চল হচ্ছে উললুকদের শেষ নিশ্চিত আবাস স্থল। যেখানে বর্তমানে ষোলটি পরিবারে মোট উনষাটটি উললুক বাস করছে। এ বনের আকার এর চেয়ে বেশি উললুককে স্থান দিতে সক্ষম নয়। বিশ্ব প্রকৃতি সংরণ সংঘ (আইইউসিএন) উললুককে একটি বিপন্ন প্রাণী হিসেবে শ্রেণী বিন্যাসিত করেছে। উললুকরা সারা বছর নানারকম ফল ফলারি খেয়ে বেঁচে থাকে। ডুমুর হচ্ছে তাদের প্রিয় ফল। উললুকের বনে প্রচুর ফল থাকা জরুরী। উললুকরা সাধারণ জীবনে তিরিশ বছর পর্যন্তবাঁচে। মেয়ে উললুকরা সারা জীবনে পাচ ছয়টি বাচ্চার জন্ম দেয়। এই প্রাণীটি একগামী। তারা অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান সন্ততির সঙ্গে এক পরিবার কেন্দ্রীক জীবন যাপন করে। ছেলে বা মেয়ে উললুকরা কেউই স্থায়ী সঙ্গী বা নিজস্ব এলাকা পাওয়ার আগে সন্তান জন্ম দেয়না। প্রতিটি উললুক পরিবারের একটি নির্দিষ্ট বিচরণ এলাকা আছে। সম্মিলিত গানের মাধ্যমে তার এর আধিপত্য ঘোষনা করে। তাদের জীবন নির্ভর করে বড় গাছের চির সবুজ বনের উপর। গাছ কাটা মানেই এদের জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনা।
প্রখ্যাত উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ড. নওয়াজেশ আহমেদ জীবজল্পস্নু নিয়ে এরকম কাজকে আমাদের দেশের জন্য দুর্লভ কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এরকম কাজ শুরু হওয়ায় তিনি সন্তুষ প্রকাশ করেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


