প্রথম সপ্টস্নাহেই রেকর্ড সংখ্যক বই
* বাংলা একাডেমির বিকিদ্ধ হ্রাস : অভিধানের জন্য আলাদা কাউন্টার হচ্ছে
আজিজুল পারভেজ
যেমনটি আশংকা ছিল তা ঘটেনি। কাগজের দুর্মহৃল্য, মুদ্রণ খরচ বৃদব্দি আর বাধাই শ্রমিকদের ধর্মঘট মেলায় নতুন বই আসার েেত্র বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। প্রথম সপ্টস্নাহেই বইমেলায় এসেছে রেকর্ড সংখ্যক নতুন বই। গত বছর যেখানে প্রথম সপ্টস্নাহে এসেছিল 3 শ' বই, সেখানে এ বছর এসেছে 4 শ' 54টি। যদিও এখনো নতুন বই আসা পুরোপুরি শুরুই হয়নি। উল্ক্নেখযোগ্য দশটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায় তাদের টার্গেটের এক তৃতীয়াংশেরও কম অর্থাৎ 29 ভাগ বই প্রথম সপ্টস্নাহে মেলায় এসেছে।
এ বছর প্রথম দিন থেকেই উল্ক্নেখযোগ্য সংখ্যক বই মেলায় আসছে। গত বছর যেখানে এসেছিল 4টি, এবছর সেখানে এসেছে 26টি। গতকাল মেলার সপ্টস্নম দিনে নতুন বই এসেছে 87টি। গতবছর এ দিনে এসেছিল 34টি। গতবছর প্রথম সপ্টস্নাহের একদিনও নতুন বইয়ের সংখ্যা তিনের কৌটায় পৌছায়নি। এবার তৃতীয় দিনে 1শ' এবং চতুর্থ দিনে 1শ'8টি বই এসেছে।
মেলায় অংশ নেয়া উল্ক্নেখযোগ্য দশটি প্রকাশনার কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায় তাদের দুই তৃতীয়ংশ বই এখনো মেলায় আসেনি। সাহিত্য প্রকাশ মেলায় আনবে 35টি বই। কিল্পস্নু এ পর্যল্পস্ন এসেছে মাত্র 2টি। শ্রাবণের টার্গেট 25টি। কিল্পস্নু এসেছে 5টি। আগামীর 70টির মধ্যে 25টি, মাওলা ব্রাদার্সের 80টির মধ্যে 23টি, অন্যপ্রকাশের 70টির মধ্যে 15টি, সহৃচিপত্রের 45টির মধ্যে 20টি, অনন্যার 50টির মধ্যে 28টি, শিখা প্রকাশনীর 38টির মধ্যে 5টি, ঐতিহ্যের 86টির মধ্যে 28টি ও অবসরের 34টির মধ্যে 10টি নতুন বই গতকাল পর্যল্পস্ন মেলায় এসেছে।
ঠিক এই কথাটিই প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল গতকাল প্রথম মেলায় আসা সাংবাদিক-গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদের কথায়ও। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, কাগজের দাম বেড়েছে, ছাপার ব্যয়ও বেড়েছে, মনে হচ্ছিল এবার বই কম বের হবে। কিল্পস্নু তা হয়নি। অনেক বেশী এবং ভালভাল বই আসছে। আমাদের মহৃল্যবান সাহিত্যকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য অনেক পুরনো বই মহৃদ্রণ হচ্ছে। যা খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। মৌলিক বইয়ের প্রকাশনার েেত্র কাগজে ভর্তহৃকি দেয়া হলে আমাদের প্রকাশনা শিল্কপ্প এক দশকের মধ্যে দাঁড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজনীতিবিদ ও বিশ্নেষক হায়দার আকবর খান রনোও গতকাল প্রথম মেলায় আসেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রাজনৈতিক সাহিত্যের বই বের হচ্ছে, ভাল চলছে দেখে খুব ভাল লাগছে।
সাবেক আইনমল্প্পী আওয়ামী লীগ নেতা আ্বন্ধুল মতিন খসরুও একটি বইয়ের মোড়ক উল্প্মোচনের জন্য গতকাল মেলায় এসেছিলেন। মোড়ক উল্প্মোচন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মেলায় আরো এসেছিলেন অধ্যাপক আবদুল্ক্নাহ আবু সায়ীদ ও শিল্কপ্পী মোস্টস্নফা মনোয়ার। অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে মেলায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে।
বাংলা একাডেমির বিকিদ্ধ হ্রাস, নতুন বই আসেনি : গতবছরও এই সমস্যাটি হয়েছিল। বইমেলা উপল েবাংলা একাডেমির যে বিকদ্ধয় কেন্দ্র, তাতে পাওয়া যাচ্ছে না একাডেমি থেকে প্রকাশিত অভিধানগুলো। বিকিদ্ধ হচ্ছে একাডেমির স্ট্থায়ী বিকদ্ধয় কেন্দ্র থেকেই। কিল্পস্নু সেখানেও পাওয়া যাচ্ছে না কাগ্ধিখত অভিধান। ইংরেজি-বাংলা অভিধানটি ফুরিয়ে গেছে। পাওয়া যাচ্ছে না উচ্চারণ অভিধান এবং বানান অভিধানও। সগ্ধগত কারণেই তার প্রভাব পড়েছে বাংলা একাডেমির বই বিকিদ্ধর েেত্র। গতবছরের তুলনায় একাডেমির বিকিদ্ধ হূাস পেয়েছে। প্রথম ছয় দিনে গত বছর যেখানে বিকিদ্ধ হয়েছিল 3 লাখ 4 হাজার 2শ' 56 টাকা, সেখানে এ বছর বিকিদ্ধ হয়েছে 2 লাখ 60 হাজার 7শ' 42 টাকা।
বাংলা একাডেমির অভিধান পাঠকদের না পাওয়া প্রসগ্ধেগ একাডেমির ডিজি আবুল কালাম মনজুর মোরশেদের দৃদ্বি আকর্ষণ করা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে আশ্বস্টস্ন করেছেন এ সমস্যা থাকবে না। প্রয়োজনে শুধু অভিধান বিকিদ্ধর জন্য আলাদা একটি কাউন্টার খোলা হবে। তিনি বলেন, পর্যাপ্টস্ন কপি মুদ্রিত আছে। কিল্পস্নু কাভার লেমিনেটিং-এর বিলল্ফ্বের কারণে কিছুটা সমস্যা হয়েছে।
এদিকে, মেলায় বাংলা একাডেমির23টি নতুন বই বের হওয়ার কথা থাকলেও গতকাল পর্যল্পস্ন একটি বইও মেলায় আসেনি।
নতুন আসা বই : গতকাল ঐতিহ্য মেলায় এনেছে সংবাদপত্রে প্রকাশিত সাংবাদিক ফয়েজ আহমদের কলাম সংকলন 'কলাম কলাম'। শ্রাবণ মেলায় এনেছে বদরুদ্দীন উমরের 'বগ্ধগভগ্ধগ ও সাল্ফপ্প্রদায়িক রাজনীতি'। প্রায় পনের বছর আগে কলকাতা থেকে প্রকাশিত বইটির বাংলাদেশ সংস্ট্করণ এটি। এই স্টল্টলে আরো এসেছে এস এম জাকির হোসেনের আইন 'নিত্যদিনের আইন'। মননশীল লেখক আবদুশ শাকুরের ছোটগল্কপ্প সংকলন 'আঘাত' সেলিনা হোসেনের 'জেন্ডার বিশ্বকোষ (দুই খন্ড)' গোলাম মোর্তোজা'র 'ফজলে হাসান আবেদ ও ব্র্যাক', শাহনাজ মুল্পম্নীর ছোটগল্কপ্প 'মাটির ট্রানজিদ্বার' ও বেবী মওদুদের ছড়ার বই 'সুশি পুষি টুশি' মেলায় এনেছে মাওলা ব্রাদার্স। সহৃচিপত্র মেলায় এনেছে মেজর জেনারেল (অব.) মনজুর রশীদ খানের বিশ্নেষণমহৃলক প্রবল্পেব্দর সংকলন 'বাংলাদেশে সামরিকায়ন গণতল্প্পায়ন ও মতার রাজনীতি' ও মোহাম্মদ এমদাদুল হকের 'সংগ্রামী ঠাকুরগাঁও ও একাত্তরের মুক্তিযুদব্দ', খান ব্রাদার্স মেলায় এনেছে বুলবুল চৌধুরীর উপন্যাস 'অপরহৃপ বিল ঝিল নদী' ও মাহবুবুল আলমের বাংলা 'বাংলা বানান ও ভাষারীতি। মোকারম হোসেনের 'বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি' ও মনি হায়দারের উপন্যাস 'সারারাত' পার্ল পাবলিকেশন এবং রতন সিদ্দিকীর উনিশ শতকের বাংলা নাটকে লোক উপাদান' বিশ্ব সাহিত্য ভবন মেলায় এনেছে।
আগামী প্রকাশনী মেলা এসেছে প্রয়াত সাংবাদিক সল্পেস্নাষ গুপ্টেস্নর স্ট্মারক গ্রল্প্থ। এতে সল্পেস্নাষগুপ্টেস্নর আত্দ্মস্ট্মৃতি, সাাৎকার, তার মহৃল্যায়নধমর্ী প্রবল্পব্দ ও নিবেদিত কবিতা। গ্রল্প্থটি সল্ফপ্পাদনা করেছেন সৈয়দ মোহাল্ফ্মদ শাহেদ ও কাজী মদিনা। এ প্রকাশনীতে আরো এসেছে ওবায়েদ আকাশের কবিতা 'পাতাল নির্মানের প্রণালী' ও হেলেন কাদেরের মুক্তিযুদব্দ 'পাকিস্টস্নানে বন্দী জীবন 1971'।
মিজান পাবলিশার্স মেলায় এনেছে আল মাহমুদের উপন্যাস 'জল অরণ্য', শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের রাজনীতি 'জেল হত্যা মামলা', কমলেশ রায়ের রম্য গল্কপ্প 'ফুলকি',
জ্ঞানকোষ প্রকাশনী এস এম জাকির হুসাইনের 'ধর্ম কী? ইসলাম কী?', অনন্যা আল মাহমুদের 'কবিতা সমগ্র-2', জাগৃতি প্রকাশনী মুহম্মদ জাফর ইকবালের প্রবল্পব্দ সংকলন 'আরো একটি বিজয় চাই', সৈয়দ আবিরের 'ইসলামী মহৃল্যবোধ ও বঙ্গবল্পব্দু', শুদব্দঘর সারওয়ার চৌধুরীর উপন্যাস 'এক মুঠো ল্যাবরিল্প্থ মাখা মায়াবী জীবন তৃষষ্ণা', অনন্যা জয়ল্পস্নু কুমার রায়ের 'উত্তরবঙ্গের নগরায়ন নাটোর', গীতালি হাসানের উপন্যাস 'সেদিন বৃদ্বি নেমেছিলো', বিজয় প্রকাশ মঈনুল হাসান সাবেরের উপন্যাস 'কোনো একদিন', অবসর প্রকাশনা সংস্ট্থা আহসান হাবীবের কৌতুক 'শুধু জোকস', সুবর্ণ মুনতাসীর মামুনের 'কিশোর সমগ্র-3', দি ইউনিভার্সেল একাডেমী এ এস এম ভূইয়া শিহাবের কোষ গ্রল্প্থ 'এনসাইকোপিডিয়া অব দ্য ওয়ার্ল্ড' ও শাহ এ এম এস কিবরিয়ার আত্দ্মজীবনী 'পেছন ফিরে দেখা', ইত্যাদি গ্রল্প্থ প্রকাশ নাজিব ওয়াদুদের উপন্যাস 'দ্বিতীয় হূদয়', সোনালি বুকস ঝর্ণা রহমানের কিশোর গল্কপ্প 'ইচ্ছে পহৃরণ রাজা ও বুড়ি মা-র একটি ইচ্ছে', মিয়াজী পাবলিকেশনস মোহাল্ফ্মদ শাহ আলম দাল্পম্নু'র ছোটগল্কেপ্পর বই 'বাস্টস্নবতার অল্পস্নরালে' ও নাহার কামাল আহমদের শিশুতোষ 'ছড়ায় ছড়ায় পড়া' মেলায় প্রকাশ করেছে।
'অ্যা ফিল্ড গাইড টু বাংলাদেশী ফাওয়ার' বইয়ের প্রকাশনা উৎসব : এশিয়াটিক সোসাইটি কতর্ৃক প্রকাশিত 'অ্যা ফিল্ড গাইড টু বাংলাদেশী ফাওয়ার' বইয়ের প্রকাশনা উৎসব গতকাল বিকাল সাড়ে 4টায় সোসাইটির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। বইটির লেখক বিশিদ্ব ফুল গবেষক এন. এস. নওরজ জাহান। বইটিতে 600 প্রকার ফুলের বণ্যনা রয়েছে, যার মধ্যে 118 প্রকার বাংলাদেশে পাওয়া যায়। প্রকাশনা উৎসবে সভাপতিত্দ্ব করেন আল্পস্নর্জাতিক খ্যাতি সমঙ্ল্পম্ন রাদ্ব্র বিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমদ। স্ট্বাগত বক্তব্য রাখেন ড. শাহজাহান মিয়া। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, বিশিদ্ব কৃষি বিজ্ঞানী ড. নোয়াজেস আহমেদ এবং ড. এম মতিউর রহমান। সভাপতির ভাষনে ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এশিয়াটিক সোসাইটি দেশের মেধাবী লেখকদের সেরা লেখা প্রকাশ করতে বদব্দ পরিকর এবং ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি তার কর্মকান্ডের মাধ্যমে এ বিষয়টি প্রমান করেছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




