ধরুন, আপনি একটি রোবোট বানিয়েছেন। সেই রোবোটকে দিয়েছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এখন আপনি রোবটটির কাছ থেকে কী আশা করবেন? আপনি নিশ্চই চাইবেন, রোবটটি তার স্রস্টার কাছ থেকে প্রাপ্ত বুদ্ধিমত্তা প্রদর্শন করুক। এখন রোবটটি যদি আশানুরূপ বুদ্ধির পরিচয় না দিতে পারে, তাহলে আপনি হতাশ হবেন। হয়ত রেগেও যেতে পারেন।
এখন একটু বুদ্ধিমত্তা অথবা বুদ্ধির সংজ্ঞা কী সেটা নির্ধারন করা যাক। একটা ক্লাসরুমের কথাই ধরা যাক। ক্লাসের যে ছেলেটা/মেয়েটা সবচেয়ে বেশী প্রশ্ন করে সাধারনত দেখা যায় সেই ছেলেটা/মেয়েটাই পরীক্ষায় সবচেয়ে ভালো ফলাফল করে। এর করন হল, ক্লাসে যা পড়ানো হচ্ছে তা সেই ছেলেটি/মেয়েটি ঠিকঠাক ভাবে বোঝার চেষ্টা করেছে, এবং বুঝেছে। সেই সব মানুষই বেশী প্রশ্ন করে যারা কোন ঘটনাকে অথবা কোন কিছুকে বোঝার চেষ্টা করে। আর প্রশ্ন আসে সন্দেহ থেকে। কোনকিছু যখন মানুষের বোধগম্য হয় না বা কোন ব্যাপারে মানুষ যখন সন্দিহান হয় তখনই মানুষ প্রশ্ন করে, এবং উত্তর খোঁজার চেষ্টা করে। সুতরাং এই বুদ্ধি প্রদর্শনের ব্যাপারটকে আমরা তিনটি ধাপে সাজাতে পারি।
প্রথম ধাপঃ সন্দেহ করা
দ্বিতীয় ধাপঃ প্রশ্ন করা
তৃতীয় ধাপঃ উত্তর খোঁজা
এখন আসা যাক মহাবিশ্ব এবং প্রান সৃষ্টির প্রসঙ্গে। স্বাভাবিকভাবেই এই প্রসঙ্গে প্রচলিতি ধর্মগুলোর আমদানি ঘটবে। মানুষ সেই আদিকাল থেকেই জানার চেষ্টা করে আসছে কিভাবে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছিল এবং কিভাবে প্রানের সৃষ্টি হয়েছিল। আর এই জটিলতম প্রশ্নগুলোর সহজ উত্তর হিসেবে ধর্মগুলো বরাবরই খুব সহজ উত্তর দিয়ে আসছে, আর সেই সহজ উত্তরটির নাম ইশ্বর। ঈশ্বরই এই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। যেহেতু সবচেয়ে জটিল প্রশ্নের সবচেয়ে সহজ উত্তর দেওয়া হয়েছে, তাই সেখানে যে গোঁজামিল থাকবে সেটা স্বাভাবিক। আর মানুষ যেহেতু বুদ্ধিমান প্রানি, তাই সে তার বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগও করবে। সে সন্দেহ করবে, প্রশ্ন করবে এবং উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবে। সন্দেহের প্রথম পর্যায়েই সে প্রশ্ন করবে আসলেই ইশ্বর নামের কেউ আছেন কিনা। যদি উত্তর আসে "হ্যা" তাহলে সন্দেহ দ্বিতীয় পর্যায়ে গিয়ে প্রশ্ন করবে, ইশ্বর সত্যিই মহাবিশ্ব এবং প্রান সৃষ্টি করেছেন কিনা, করলে কত আগে এবং কিভাবে সৃষ্টি করেছেন।
সমস্যা হচ্ছে মানুষ তার এই আদিম প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রতিমুহুর্তে ইশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ করছে, এবং ঈশ্বরের অস্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। কিন্তু আমাদের প্রচলিত ধর্মগুলো বরাবরের মতই এই কাজটিকে ঘোরতর অপরাধ বলে চিহ্নিত করে আসছে। ধর্মগুলো বলছে কেউ যদি ইশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তাহলে ইশ্বর মারাত্মকভাবে বেজার হবেন এবং তিনি এহেন অপরাধ করার ফলে তার সৃষ্ট সর্বশ্রেষ্ঠ(বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে) প্রানি মানুষকে নরকে নিক্ষেপ করবেন। অর্থাৎ ধর্মগুলো চোখ, মুখ, নাক সব বন্ধ করে বোকার মত ইশ্বরকে বিশ্বাস করতে বলছে, বুদ্ধিমান হয়েও বোকার মত আচরন করতে বলছে।
এইবার আপনি একবার নিজেকে ঈশ্বরের জায়গায় বসিয়ে চিন্তা করুন। মানুষ নামের বুদ্ধিমান প্রানি বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন অথচ আচরন করছে হালের বলদের মত। আপনার কেমন লাগবে?
আমি আর কিছু কমু না, এই মুখে লাগাম দিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১৬ বিকাল ৪:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




