ইদানীং, রাজনৈতিক কারণে চকশায়ার কাউন্টি ফিলিপ স্লেদারবি'র কাছে বিশেষ গুরুত্বপুর্ণ জায়গা হয়ে উঠেছে । চক শায়ার কাউন্টির পুব অঞ্চলে একটি পার্লামেন্ট আসন সরকারী দলের সদস্যের দখলে ছিলো এতোদিন. ভদ্রলোক আর প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন না ঠিক করেছেন । পার্টির স্থানীয় নেতারা স্লেদারবিকেই পরবর্তী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন । সরকারী দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুব বেশি নয়, বিশেষ করে একজন ক্যাবিনেট পর্যায়ের প্রার্থীর জন্য ।
তবু এলাকায় পার্টির সাংগঠনিক তৎপরতা যথেষ্ট মজবুত, সবকিছু ঠিকঠাক চললে উৎরে যেতে পারেন স্লেদারবি, আর হ্যাঁ এলাকায় সল্টপেন-জ্যাগো পরিবারের প্রভাব-প্রতিপত্তির কথা ভুললে চলবেনা । আর সেজন্যই ফিলিপ স্লেদারবির এ যাত্রা । ফিলিপ স্লেদারবি আশা করছেন মিসেস অনোরিয়া সল্টপেন-জ্যাগো, তাঁর বাসায় কিছু পার্টির আয়োজন করবেন তাঁর সন্মানে, যাতে করে এলাকার মান্য-গন্যদের সাথে পরিচিত হতে পারেন হবু প্রার্থী ।
নিজের রাজনীতির অভিজ্ঞতা থেকে জানেন ফিলিপ স্লেদারবি, অনেক কাজে দেয় এসব ইনফর্মাল জমায়েত, এলাকার একজন প্রভাবশালী লোক বা পরিবারকে পকেটে রাখতে পারলে কাজ অনেকটাই হালকা হয়ে যায় ক্যান্ডিডেটের ।
ট্রেন ছাড়ার আগে প্ল্যাটফর্মে স্লেদারবি'র দেখা হয়ে গেছিলো এক ক্লাবের বন্ধুর সাথে, একই কথা বলেছেন তিনিও 'ওহ তুমি মিসেস সল্টপেন-জ্যাগোর বাড়িতে ছুটি কাটাতে যাচ্ছো? বেশ বেশ, আতিথেয়তায় জুড়ি নেই অনোরিয়ার, দেখবে অনেক কাজে আসবে তোমার ইলেকশনে, আমার ট্রেন এসে গেছে চলি ।' গুডবাই জানিয়ে চলে যান বন্ধু ।
বিদায় জানিয়ে ফিলিপ স্লেদারবি নিজের ট্রেনে এসে ওঠেন । জানালার ধারে বসে একটা পত্রিকার পাতা ওল্টাচ্ছেন এমন সময় একটা চাপা গালি শুনে ফিলিপ চমকে তাকান কামরার একমাত্র দ্বিতীয় যাত্রীটির দিকে । উজ্বল গায়ের রঙ, বাদামী চুলের একজন তরুন, বছর বাইশ হবে বয়েস, একটা কিছুর জন্য পাগলের মতো পকেট হাতড়াচ্ছে । না স্লেদারবিকে মুখ খারাপ করছেনা সে, কিছু একটা হারিয়েছে সে, একে একে একটা সিগারেট কেস, চাবি, রুপার পেনসিল কেস আর একটা রেলওয়ে টিকেট জমা হলো সিটের ওপর, কিন্তু কোনটাই তেমন সন্তুষ্ট করতে পারলোননা তরুনকে । একটু পরপর ওয়েস্টকোটের পকেট থেকে একটা ছয় পেন্সের কয়েন বের করে পরীক্ষা করছে সে হতাশ ভাবে । কোন মন্তব্য না করে এক মনে পত্রিকা পড়ে চললেন ফিলিপ স্লেদারবি ।
'আচ্ছা!' হঠাৎ কথা বলে উঠলো তরুন 'প্ল্যাটফর্মে শুনলাম আপনি ব্রিল ম্যানরে যাচ্ছেন? মিসেস সল্টপেন-জ্যাগো আমার মা, ছ'মাস বাড়ির বাইরে ইয়ট নিয়ে পড়ে আছি, আমি বার্টি, বার্টি সল্টপেন-জ্যাগো, দ্বিতীয় ছেলে । সাংঘাতিক ভাগ্য, আমার সাথে আপনার এই দেখা হওয়াটা, বুঝলেন দারুন বিপদে পড়ে গেছি আমি এখন ।'
'একটা কিছু হারিয়েছো তুমি, মনে হচ্ছে ?' জিগ্যেস করলেন স্লেদারবি ।
'ঠিক হারাইনি, ফেলে এসেছি, ব্যাপারটা একইরকম খারাপ । আমার পার্সটা ফেলে এসেছি, একটা চিঠি লেখা শেষ করে খামটায় কিভাবে সিল মারবো ভাবছিলাম, হঠাৎ মনে হলো, আমার পার্সের গায়েই আমাদের পারিবারিক ক্রেস্ট খোদাই করা আছে, তো পার্সটাকেই সিলমোহর হিসেবে ব্যাবহার করলাম । নিশ্চয়ই আহাম্মকের মতো পার্সটা টেবিলেই ফেলে এসেছি, চার পাউন্ড মতো ছিলো ওর ভেতর । পকেটে কিছু খুচরা পয়সা ছিলো বলে পার্স নেই সেটা টের পাইনি , ট্যাক্সি ভাড়া দেবার আর ট্রেনের টিকেট কাটার পর দেখি পার্স নেই আর পকেটে মাত্র ছয় পেন্স আছে, কী সাংঘাতিক ব্যাপার ! পরের স্টেশন ব্রন্ডকে'তে নেমে যাবো আমি । সেখানে একটা ছোট্ট সরাইখানায় থেকে দিন কয়েক মাছ ধরার পরিকল্পনা আমার; কেউ চেনেনা আমায় ব্রন্ডকে'তে, সেখানে স্টেশনে যাওয়া আসা, সরাইভাড়া, বখশিস আর সেখান থেকে ব্রিল ম্যানরের যাওয়ার জন্য ট্রেনের টিকেট কাটা, এটা সেটা মিলে অন্তত দু'তিন পাউন্ড দরকার আমার ; হবে নাকি আপনার কাছে দু'তিন পাউন্ড? আপনার সাথে দেখাতো হবেই ব্রিল ম্যানরে কয়েকদিন পরে, তখন শোধ দিয়ে দেবো ।'
'আমার মনে টাকাটা আমি দিতে পারবো' একমুহুর্ত ইতস্তত করে বললেন ফিলিপ স্লেদারবি ।
'অসংখ্য ধন্যবাদ, খুব ভালো মানুষ আপনি, আমার ভাগ্য ভালো যে মায়ের এক পরিচিত জনের সাথে এভাবে পথে দেখা হয়ে গেলো । সত্যি, আমার একটা শিক্ষা হলো, তলোয়ার দিয়ে যেমন দাড়ি কামানো ঠিক নয়, সেরকম পার্স দিয়ে সিল মারাও উচিৎ নয়, যদিও সেখানে পারিবারিক ক্রেস্ট খোদাই করা আছে, কী বলেন ?'
'তোমাদের পারিবারিক প্রতীকটা যেন কী ?' যেন কিছু আসে যায়না এমনভাবে জানতে চাইলেন ফিলিপ স্লেদারবি ।
'খুব প্রচলিত প্রতীক নয় আমাদের' বললো বার্টি 'একটা সিংহ, একটা ক্রসকে তুলে ধরে করে আছে ।'
'তোমার মা চিঠি লিখেছিলেন আমাকে, ট্রেনের একটা তালিকা দিয়ে, আমি দেখেছিলাম প্যাডের কাগজের ওপর অন্যরকম ক্রেস্ট, একটা দাঁড়িয়ে থাকা গ্রে হাউন্ডের ছবি ছিলো সেখানে,' সামান্য শীতল শোনালো স্লেদারবি'র কন্ঠ ।
'ওটা জ্যাগো ক্রেস্ট!' বিন্দুমাত্র দমে না গিয়ে বললো বার্টি 'গ্রেহাউন্ড হচ্ছে আমাদের আরেকটা পারিবারিক প্রতীক, সিংহ হচ্ছে সল্টপেনদের প্রতীক, যদিও সল্টপেন-জ্যাগো আমাদের পরিবারের নাম, আমরা আসলে মুলতঃ সল্টপেনই ।'
কামরায় কয়েকমুহুর্ত নিরবতা, র
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৮:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



