দুর্গের দরজাটা যখন ওর মুখের উপর বন্ধ হয়ে গেল তখন ওর মাথাটা ঠিক পরিষ্কার ছিল না । ওর প্রথম চিন্তা ছিল জেনারেল জারফের সাথে দুরত্ব বাড়ানো । অনেকটা আতংক তাড়িত হয়ে অন্ধের মত কাজটা করেছে ও । নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে এলে থেমে পরিস্থিতির জরিপ করল ও । সে বুঝতে পারছে সামনে গিয়ে কোন ফায়দা নেই, শেষমেষ ওকে সাগরে গিয়ে থামতে হবে । ওর গতিবিধি যেহেতু দ্বীপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, সুতরাং একথা বিবেচনা করেই তাকে চলতে হবে ।
'আমি ওকে একটা ট্রেইল দেব অনুসরণ করার জন্য,' বিড়বিড় করল রেইন্সফোর্ড । বুনোপথটা ছেড়ে সোজা পথহীন জঙ্গলে ঢুকে পড়ল ও । চলার পথে একের পর এক জটিল প্যাঁচ তৈরি করছে ও । ইংল্যান্ডের শিয়াল শিকারের সব কাহিনী মনে করে শিয়ালের মতন ডজ দেয়ার চেষ্টা করছে ও । রাতের বেলা, বনে ঢাকা একটা রিজের উপর উঠে এল ক্লান্ত রেইন্সফোর্ড । হাত পা ছিলে গেছে গাছের ডালের ঘষায় । এখন গায়ে শক্তি থাকলেও সামনে এগোনো ঠিক হবে না, জানে ও । বিশ্রাম নেয়া দরকার, 'শিয়ালের খেলা খেলেছি আমি, এবার গল্পের বিড়াল হতে হবে আমাকে,' ভাবল ও । বড় বড় ডালপালা নিয়ে একটা মস্ত বড় গাছ কাছেই দাঁড়িয়ে, তরতর করে গাছটায় উঠে, একটা ডালে শরীরটা এলিয়ে দিল ও । বিশ্রামের পর কিছুটা আত্ববিশ্বাস ফিরে এল ওর । এমন কী জেনারেল জারফের মত দুঁদে শিকারীও ওর হদিস পাবে না এখানে । রাতের বেলা ওর জঙ্গলের মধ্যে ওর ট্রেইল ধরে অনুসরণ করে আসতে পারে কেবল এক শয়তান, হতে পারে জেনারেল নিজেই এক শয়তান--
আহত সাপের মত এগিয়ে এল রাত । কিন্তু রেইন্সফোর্ডের চোখে ঘুম এল না যদিও অরণ্যের মৃত্যুর নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে । ভোরের দিকে যখন হালকা ধুসর রং নিচ্ছে আকাশ, তখন কোন হঠাৎ জেগে ওঠা পাখির ডাকে জেগে উঠল রেইন্সফোর্ড । রেইন্সফোর্ড যে পথে এসেছিল ঠিক সেই পথেই কেউ সাবধানে ঝোপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে কেউ এগিয়ে আসছে । ডালের সাথে শরীরটাকে মিশিয়ে পাতার পর্দার ফাঁক দিয়ে সাবধানে নীচে চাইল রেইন্সফোর্ড ।
জেনারেল জারফ নীচে দাঁড়িয়ে আছেন, অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে তিনি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন চারপাশটা । একেবারে গাছটার নীচে এসে হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে পড়লেন তিনি । চিতাবাঘের মত নিজেকে ঝাঁপিয়ে পড়তে যাচ্ছিল, কিন্তু ও থেমে গেল যখন ও দেখল জেনারেলের হাতে একটা ছোট অটোমেটিক পিস্তল শোভা পাচ্ছে ।
বেশ কয়েকবার মাথা নাড়লেন জেনারেল, যেন ব্যাপারটা ধাঁধায় ফেলছে তাঁকে । তারপরে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে একটা কালো সিগারেট ধরালেন তিনি । ধুপের মত সুবাস এসে লাগল রেইন্সফোর্ডের নাকে ।
নিশ্বাস বন্ধ করে রাখল রেইন্সফোর্ড । মাটি থেকে ইঞ্চি ইঞ্চি করে উপরের দিকে চোখ বোলাচ্ছেন জেনারেল । সবগুলো পেশী শক্ত করে ঝাঁপ দেয়ার জন্য তৈরী হল রেইন্সফোর্ড, কিন্তু শিকারীর তীক্ষ্ণ চোখ রেইন্সফোর্ড যে ডালে আছে তার ঠিক নীচে এসে থেমে গেল; রোদে পোড়া মুখে হাসি দেখা গেল । খুব কায়দা করে একটা ধোঁয়ার রিং ছেড়ে যেপথে এসেছিলেন সেদিকে ফিরে গেলেন জেনারেল জারফ ।
ফুসফুসে আটকা বাতাসটা শব্দ করে ছাড়ল রেইন্সফোর্ড । প্রথম চিন্তাটা প্রায় অবশ করে দিল ওকে । জেনারেল তাহলে রাতের বেলাতেও এরকম কঠিন ট্রেইল অনায়াসে ট্র্যাক করতে পারেন ! অলৌকিক ক্ষমতা আছে তাহলে জেনারেলের । একটুর জন্য শিকারকে মিস করেছেন কসাক জেনারেল ।
রেইন্সফোর্ডের দ্বিতীয় আরো ভয়ংকর চিন্তাটায় , সমস্ত শরীর বেয়ে শিরশিরে একটা অণুভুতি নেমে গেল তার । জেনারেল হাসলেন কেন ? কেনই বা ফিরে গেলেন তিনি ফিরতি পথে ?'
জেনারেল আসলে খেলা করছেন ওর সাথে! বিশ্বাস করতে না চাইলেও সকালের সুর্যের মতই পরিষ্কার । আরেক রাতের শিকারের জন্য ওকে তুলে রেখেছেন । কসাক এখানে বিড়াল আর রেইন্সফোর্ড ইঁদুর । তাড়া খাওয়া শিকারের অন্ধ আতংকের ধাক্কাটা জীবনে প্রথম বুঝল রেইন্সফোর্ড ।
'আমাকে নার্ভ হারালে চলবে না ।'
গাছ থেকে পিছলে নেমে পড়ল ও, মনকে বাধ্য করছে ও একটা প্যাটার্নের মধ্যে চিন্তা করতে । তিনশো গজ দূরে একটা বিশাল মরে যাওয়া গাছ আরেকটা ছোট জীবিত গাছের উপর হেলান দিয়ে রয়েছে । খাবারের পোঁটলাটা ফেলে, খাপ থেকে ছুরি বের করে কাজে নেমে পড়ল রেইন্সফোর্ড ।
কাজটা শেষ হল অবশেষে । শ খানেক ফিট দূরে একটা পড়ে থাকা গাছের গুঁড়ির নীচে শুয়ে অপেক্ষা করতে লাগল রেইন্সফোর্ড । বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না । বিড়াল আবার এল ইঁদুরের সাথে খেলা করতে ।
ব্লাডহাউন্ডের মত আত্ববিশ্বাসী ভঙ্গিতে ট্রেইল ধরে এগিয়ে এলেন জেনারেল জারফ । কোন কিছুই ওই কালো চোখজোড়া থেকে এড়াচ্ছে না, ঘাসের একটা বাঁকা ডগা কী শ্যাওলার উপর ক্ষীণ আঁচরের দাগ । এত মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করছিলেন জেনারেল, যে রেইন্সফোর্ডের পাতা ফাঁদটা দেখার আগেই বেরিয়ে থাকা ফাঁদের ট্রিগারের কাজ করা ডালটায় পা দিয়ে বসলেন । কিন্তু স্পর্শ করার সাথে সাথে বানরের ক্ষিপ্রতায় পিছু হটলেন জেনারেল । কোনমতে জীবিত গাছটা দিয়ে ঠেকনা দেয়া মরাগাছটা হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়ল । দ্রুত সরে যাওয়াতে কাঁধে আঘাত পেলেন জেনারেল নাহলে এর তলে পিষ্ট হয়ে যেতেন তিনি । টলে গেলেও পড়ে গেলেন না তিনি, হাত থেকে পিস্তলটাও পড়ল না । একহাতে আহত কাঁধটা ডলতে লাগলেন । তারপর রেইন্সফোর্ড জেনারেলের অট্টহাসি শুনতে পেল ।
'রেইন্সফোর্ড,' বললেন জেনারেল । 'আপনি যদি কথা শোনার আওতার মধ্যে থেকে থাকেন তবে আপনাকে কনগ্রাচুলেট করতে চাই আপনাকে । পৃথিবীর খুব বেশি সংখ্যক মানুষ এই মালয় মানুষধরা ফাঁদ বানাতে জানে । আমার সৌভাগ্য যে আমিও মালাক্কাতে শিকার করেছি । আপনি খুবই ইন্টারেস্টিং লোক দেখা যাচ্ছে । আমি এখন আমার জখমটা ব্যান্ডেজ করতে যাচ্ছি, আঘাতটা খুবই অল্প অবশ্য । আমি আবার ফিরে আসব ।'
আহত কাঁধটা ডলতে ডলতে জেনারেল চলে গেলেন । রেইন্সফোর্ড তার পালানো অব্যাহত রাখল । কয়েক ঘন্টা অন্ধের মত ছুটল ও । সন্ধ্যা নামল আঁধার এল, এখনো ও ছুটে চলেছে । পায়ের মোকাসিনের নীচে মাটি এখন নরম ঠেকছে । ঝোপঝাড় এখানে ঘন, বাতাসে দুর্গন্ধ ভাসছে । পোকা মাকড় ওকে কামড়াচ্ছে সাংঘাতিকভাবে ।
তারপর হঠাৎ আগে বাড়তেই পা ডুবে গেল নরম কাদায় । পা টা টেনে তোলার চেষ্টা করল ও, কিন্তু কাদা এমনভাবে ওর পা টেনে ধরল যেন একটা প্রকান্ড জোঁক আটকেছে পায়ে । সাংঘাতিক বেগ পেতে হল ওকে পা টা মুক্ত করার জন্য । ও জানে এখন ও কোথায়, ডেথ সোয়াম্প--মৃত্যু জলায় চোরাবালি এলাকায় এসে পড়েছে ও ।
হাতজোড়া এমন শক্তভাবে মুঠি পাকিয়ে আছে যেন স্নায়ুগুলো অন্ধকারে কোন অদৃশ্য শক্তি ছিঁড়ে নিতে চাইছে । নরম মাটি একটা আইডিয়ার বীজ রোপন করল রেইন্সফোর্ডের মনে । ডজনখানেক ফুট পিছনে হটল রেইন্সফোর্ড, তারপরে একটা প্রাগৈতিহাসিক বিভারের মতন মাটি খুঁড়তে লেগে গেল ।
যুদ্ধের সময় ফ্রান্সে মাটি খুঁড়েছে রেইন্সফোর্ড, যখন একমুহুর্তের দেরী মৃত্যু ডেকে আনতে পারে । সেসব খোঁড়াখুঁড়ি আজকের খোঁড়ার তুলনায় নস্যি । গর্তটা ক্রমেই বড় হলো, এবং যখন ওর কাঁধ পর্যন্ত গভীর হল গর্তটা । তখন উঠে কিছু শক্ত ডাল কেটে আগা ছুরি দিয়ে চোখা করল ও । সেগুলো গর্তের নীচে এভাবে পুঁতে দিল যেন চোখা দিকটা থাকে উপরে । তারপরে ক্ষিপ্র হাতে ঘাস, লতাপাতা দিয়ে একটা মাদুর মত বানিয়ে সেটা দিয়ে গর্তটা ঢেকে তার উপরে মাটি চাপা দিল । তারপরে ঘামে ভেজা ক্লান্ত শরীরে একটা বাজপড়া গাছের পিছনে গুঁড়ি মেরে বসল ।
সে জানে তার অনুসরণকারী আসছে তার পিছন পিছন । নরম মাটিতে আলকা পায়ের আওয়াজ পেল ও, তারপরে জেনারেলের সিগারেটের সুবাস ভেসে এল ওর নাকে । রেইন্সফোর্ডের মনে হল জেনারেল অস্বাভাবিক দ্রুত আসছেন, গাছের নীচে গুঁড়ি মেরে বসে ও জেনারেল বা ওর পাতা ফাঁদ কোনটাই দেখতে পাচ্ছে না । ফাঁদের ডালপালা ভেঙ্গে পড়ার শব্দে ও আরেকটু হলে আনন্দে চিৎকার করে উঠত, কারন এর পরেই তীক্ষ্ণ একটা চিৎকার শুনতে পেল ও । লাফিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছিল ও, কিন্তু সাথে সাথেই বসে পড়ল ও । গর্তটার ইলেকট্রিক টর্চ হাতে তিন ফিট দূরে একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে ।
'চমৎকার দেখিয়েছেন আপনি রেইন্সফোর্ড,' বললেন জেনারেল । 'আপানার বার্মিজ বাঘ-ধরা ফাঁদ আমার একটা অন্যতম সেরা কুকুরের প্রাণ নিয়েছে । আবারো আপনি টেক্কা দিলেন । আমি দেখতে চাই পুরো হাউন্ডের পালটার বিরুদ্ধে আপনি কী করতে পারেন । চমৎকার সন্ধ্যাটার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ মি. রেইন্সফোর্ড ।'
পরদিন সুর্য ওঠার সময় একটা নতুইন শব্দ শুনে বুঝল রেইন্সফোর্ড নতুন হুমকি উপস্থিত এখন । একপাল ব্লাডহাউন্ডের গলাছেড়ে ডাকার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে ।
রেইন্সফোর্ড জানে সে দুটো কাজ করতে পারে, একটা হচ্ছে সে যেখানে আছে সেখানেই বসে থাকতে পারে, সেটা হবে আত্বহত্যা । আর হচ্ছে সে এখান থেকে পালাতে পারে, তা হবে অবশ্যম্ভাবী পরিনতিকে কিছুক্ষণের জন্য ঠেকিয়ে রাখা । এক মুহুর্ত দাঁড়িয়ে চিন্তা করল ও, একটা অসম্ভব আইডিয়া মাথায় আসতেই ও বেল্ট কষে বেঁধে জলাভুমি ছেড়ে অন্যদিকে হাঁটা ধরল ও ।
কুকুরের ডাক কাছিয়ে আসছে, আরো কাছে, আরো । একটা রিজের উপরে জন্মানো গাছে চড়ে রেইন্সফোর্ড দেখল মাত্র সিকি মাইল দূরে ঝোপের মধ্যে নড়ছে একটা কিছু । চোখ সরু করে ও জেনারেল জারফের ঋজু দেহায়বটা দেখতে পেল । পাশেই ইভানের বিশাল কাঠামোটা যেন কোন অদৃশ্য শক্তি টেনে নিয়ে চলেছে, বোঝা গেল কুকুরপালের লাগাম ধরে আছে ইভান ।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা তার খোঁজ পেয়ে যাবে । পাগলের মত চিন্তা চলছে রেইন্সফোর্ডের মাথায় । উগান্ডায় শেখা একটা কৌশল মনে পড়ল ওর । একটা নমনীয় ডালে ধনুকের মত বাঁকিয়ে তার মাথা শিকারের ছুরিটা বাঁধলো ও যেন ফলাটা থাকে ট্রেইলের দিকে । একটা জংলী লতা দিয়ে ডালটা বেঁধে রাখল ও । এর পরে প্রাণভয়ে ছুট দিল ও । নতুন ঘ্রাণ পেয়ে গলা চড়ালো শিকারী কুকুরের দল । রেইন্সফোর্ড এখন বুঝতে পারছে তাড়া খাওয়া জানোয়ারের মনের অনুভুতি ।
দম নিতে থামতে হলো ওকে । ব্লাডহাউন্ডগুলোর চিৎকারও হঠাৎ থেমে গেছে, ছুরিটার কাছে নিশ্চয়ই পৌঁছে গেছে ওরা ।
উত্তেজিতভাবে একটা গাছে চেপে ফেলে আসা পথের দিকে চাইল ও । মনের কোনে আশাটা নিভে গেল দপ করে যখন দেখল জেনারেল জারফ বহাল তবিয়তেই দাঁড়িয়ে আছেন, তবে ইভান খতম হয়েছে । ফাঁদের ডালটায় বাঁধা ছুরিটা একেবারে ব্যার্থ হয়েছে তা বলা যাবে না ।
ও গাছে থেকেই নামতেই হাউন্ডের দল আবার গর্জে উঠল ।
'মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে ! মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে !' হাঁপাতে হাঁপাতে বিড়বিড় করল রেইন্সফোর্ড । সামনে আছপালার ফাঁক দিয়ে এক চিলতে নীল সমুদ্র দেখা যাচ্ছে । কাছিয়ে আসছে কুকুরের দল । সাগরের দিকে ছুটল রেইন্সফোর্ড, জঙ্গল ছেড়ে বেরিয়ে আসতেই দুর্গের একটা অংশ চোখে পড়ল তার দূরে । কিন্তু সৈকতটা পানির বিশফুট উপরে গিয়ে শেষ হয়েছে । একমুহুর্ত ইতস্ততঃ করল সে, তারপর কুকুরের ডাকটা শুনে পানিতে ঝাঁপ দিল ।
জেনারেল আর তাঁর কুকুরের দল যখন সাগরের ধারে পৌঁছালো, থমকে দাঁড়ালেন কসাক । বেশ কয়েকমিনিট সাগরের নীল-সবুজ পানির দিকে তাকিয়ে থাকলেন তিনি । তারপর কাঁধ ঝাঁকি দিয়ে বসে পড়লেন মাটিতে । রুপার ফ্লাস্ক খুলে ব্র্যান্ডিতে চুমুক দিতে দিতে সিগারেট ধরিয়ে 'ম্যাডাম বাটারফ্লাই' অপেরা থেকে গুনগুন করে গান ধরলেন তিনি ।
কাঠের প্যানেল দেয়া মস্ত ডাইনিং রুমে সে রাতের জেনারেলের ডিনারটা চমৎকার হল । এক বোতল পোল রজার আর আধ বোতল শামবারতঁ খতম করলেন তিনি । কিন্তু দুটো ঘটনার স্মৃতি ডিনারটা পুরো উপভোগ করতে দিল না । এক, ইভানের মতন আরেকটা লোক জোগার করাটা বেশ কঠিন হবে; দুই তাঁর শিকার ধরা পড়েনি । ডিনার শেষের ড্রিংকে চুমুক দিতে দিতে ভাবলেন জেনারেল, অবশ্য আমেরিকান লোকটা নিয়ম মেনে খেলেনি । লাইব্রেরিতে গিয়ে রোমান সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াসের রচনা পড়ে নিজেকে শান্ত করলেন তিনি । দশটা সময় নিজের শোয়ার ঘরে গেলন তিনি, চমৎকার ক্লান্তির আলস্য ভর করছে তাঁর শরীরে । সামান্য চাঁদের আলো আছে, তাই জানালার ধারে গিয়ে নীচের উঠানে চড়ে বেড়ানো কুকুরদের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'পরেরবার ভাল শিকার হবে ।' তারপর ঘুরে আলো জ্বালালেন ।
বিছানার চাঁদোয়ার পিছনে লুকিয়ে থাকা একটা লোক এখন ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে !
'রেইন্সফোর্ড!' চিৎকার করলেন জেনারেল । 'এখানে এলে কীভাবে?'
'সাঁতরে এসেছি,' জবাব দিল রেইন্সফোর্ড । 'জঙ্গলের ভিতর দিয়ে হেঁটে আসা থেকে অনেক তাড়াতাড়ি হয়েছে আমার ।'
শব্দ করে শ্বাস টানলেন জেনারেল । 'আপনি অভিবাদন করছি আপনাকে,' হেসে বললেন তিনি । 'আপনি খেলায় জিতেছেন ।'
রেইন্সফোর্ড হাসলো না । 'আমি এখনো একটা তাড়া খাওয়া জানোয়ার,' নীচু, খসখসে গলায় ফিসফিস করে বলল ও । 'তৈরী হোন জেনারেল ।'
অনেক নীচু হয়ে বাউ করলেন জেনারেল । 'আমি বুঝতে পারছি,' বললেন তিনি । 'আমাদের মধ্যে একজন নীচের কুকুরগুলোর খোরাক হবে । আর আরেকজন এই চমৎকার নরম বিছানায় ঘুমাবে । সুতরাং হুঁশিয়ার !'
এত আরামদায়ক বিছানায় আসলেই কখনো ঘুমায়নি স্যাঙ্গার রেইন্সফোর্ড !
শেষ:
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ৯:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


