somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সবচেয়ে বিপজ্জনক শিকার (ধারাবাহিক রোমাঞ্চ গল্প, ষষ্ঠ ও শেষ পর্ব)

২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৫:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুর্গ থেকে বেরোনোর পরের দু'ঘন্টা ধরে ঝোপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে ছুটে চলছে রেইন্সফোর্ড । 'আমাকে অবশ্যই স্নায়ুর জোর ধরে রাখতে হবে,' দাঁতে দাঁত চেপে বলল ও ।

দুর্গের দরজাটা যখন ওর মুখের উপর বন্ধ হয়ে গেল তখন ওর মাথাটা ঠিক পরিষ্কার ছিল না । ওর প্রথম চিন্তা ছিল জেনারেল জারফের সাথে দুরত্ব বাড়ানো । অনেকটা আতংক তাড়িত হয়ে অন্ধের মত কাজটা করেছে ও । নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে এলে থেমে পরিস্থিতির জরিপ করল ও । সে বুঝতে পারছে সামনে গিয়ে কোন ফায়দা নেই, শেষমেষ ওকে সাগরে গিয়ে থামতে হবে । ওর গতিবিধি যেহেতু দ্বীপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, সুতরাং একথা বিবেচনা করেই তাকে চলতে হবে ।

'আমি ওকে একটা ট্রেইল দেব অনুসরণ করার জন্য,' বিড়বিড় করল রেইন্সফোর্ড । বুনোপথটা ছেড়ে সোজা পথহীন জঙ্গলে ঢুকে পড়ল ও । চলার পথে একের পর এক জটিল প্যাঁচ তৈরি করছে ও । ইংল্যান্ডের শিয়াল শিকারের সব কাহিনী মনে করে শিয়ালের মতন ডজ দেয়ার চেষ্টা করছে ও । রাতের বেলা, বনে ঢাকা একটা রিজের উপর উঠে এল ক্লান্ত রেইন্সফোর্ড । হাত পা ছিলে গেছে গাছের ডালের ঘষায় । এখন গায়ে শক্তি থাকলেও সামনে এগোনো ঠিক হবে না, জানে ও । বিশ্রাম নেয়া দরকার, 'শিয়ালের খেলা খেলেছি আমি, এবার গল্পের বিড়াল হতে হবে আমাকে,' ভাবল ও । বড় বড় ডালপালা নিয়ে একটা মস্ত বড় গাছ কাছেই দাঁড়িয়ে, তরতর করে গাছটায় উঠে, একটা ডালে শরীরটা এলিয়ে দিল ও । বিশ্রামের পর কিছুটা আত্ববিশ্বাস ফিরে এল ওর । এমন কী জেনারেল জারফের মত দুঁদে শিকারীও ওর হদিস পাবে না এখানে । রাতের বেলা ওর জঙ্গলের মধ্যে ওর ট্রেইল ধরে অনুসরণ করে আসতে পারে কেবল এক শয়তান, হতে পারে জেনারেল নিজেই এক শয়তান--

আহত সাপের মত এগিয়ে এল রাত । কিন্তু রেইন্সফোর্ডের চোখে ঘুম এল না যদিও অরণ্যের মৃত্যুর নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে । ভোরের দিকে যখন হালকা ধুসর রং নিচ্ছে আকাশ, তখন কোন হঠাৎ জেগে ওঠা পাখির ডাকে জেগে উঠল রেইন্সফোর্ড । রেইন্সফোর্ড যে পথে এসেছিল ঠিক সেই পথেই কেউ সাবধানে ঝোপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে কেউ এগিয়ে আসছে । ডালের সাথে শরীরটাকে মিশিয়ে পাতার পর্দার ফাঁক দিয়ে সাবধানে নীচে চাইল রেইন্সফোর্ড ।

জেনারেল জারফ নীচে দাঁড়িয়ে আছেন, অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে তিনি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন চারপাশটা । একেবারে গাছটার নীচে এসে হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে পড়লেন তিনি । চিতাবাঘের মত নিজেকে ঝাঁপিয়ে পড়তে যাচ্ছিল, কিন্তু ও থেমে গেল যখন ও দেখল জেনারেলের হাতে একটা ছোট অটোমেটিক পিস্তল শোভা পাচ্ছে ।

বেশ কয়েকবার মাথা নাড়লেন জেনারেল, যেন ব্যাপারটা ধাঁধায় ফেলছে তাঁকে । তারপরে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে একটা কালো সিগারেট ধরালেন তিনি । ধুপের মত সুবাস এসে লাগল রেইন্সফোর্ডের নাকে ।

নিশ্বাস বন্ধ করে রাখল রেইন্সফোর্ড । মাটি থেকে ইঞ্চি ইঞ্চি করে উপরের দিকে চোখ বোলাচ্ছেন জেনারেল । সবগুলো পেশী শক্ত করে ঝাঁপ দেয়ার জন্য তৈরী হল রেইন্সফোর্ড, কিন্তু শিকারীর তীক্ষ্ণ চোখ রেইন্সফোর্ড যে ডালে আছে তার ঠিক নীচে এসে থেমে গেল; রোদে পোড়া মুখে হাসি দেখা গেল । খুব কায়দা করে একটা ধোঁয়ার রিং ছেড়ে যেপথে এসেছিলেন সেদিকে ফিরে গেলেন জেনারেল জারফ ।

ফুসফুসে আটকা বাতাসটা শব্দ করে ছাড়ল রেইন্সফোর্ড । প্রথম চিন্তাটা প্রায় অবশ করে দিল ওকে । জেনারেল তাহলে রাতের বেলাতেও এরকম কঠিন ট্রেইল অনায়াসে ট্র্যাক করতে পারেন ! অলৌকিক ক্ষমতা আছে তাহলে জেনারেলের । একটুর জন্য শিকারকে মিস করেছেন কসাক জেনারেল ।

রেইন্সফোর্ডের দ্বিতীয় আরো ভয়ংকর চিন্তাটায় , সমস্ত শরীর বেয়ে শিরশিরে একটা অণুভুতি নেমে গেল তার । জেনারেল হাসলেন কেন ? কেনই বা ফিরে গেলেন তিনি ফিরতি পথে ?'

জেনারেল আসলে খেলা করছেন ওর সাথে! বিশ্বাস করতে না চাইলেও সকালের সুর্যের মতই পরিষ্কার । আরেক রাতের শিকারের জন্য ওকে তুলে রেখেছেন । কসাক এখানে বিড়াল আর রেইন্সফোর্ড ইঁদুর । তাড়া খাওয়া শিকারের অন্ধ আতংকের ধাক্কাটা জীবনে প্রথম বুঝল রেইন্সফোর্ড ।

'আমাকে নার্ভ হারালে চলবে না ।'

গাছ থেকে পিছলে নেমে পড়ল ও, মনকে বাধ্য করছে ও একটা প্যাটার্নের মধ্যে চিন্তা করতে । তিনশো গজ দূরে একটা বিশাল মরে যাওয়া গাছ আরেকটা ছোট জীবিত গাছের উপর হেলান দিয়ে রয়েছে । খাবারের পোঁটলাটা ফেলে, খাপ থেকে ছুরি বের করে কাজে নেমে পড়ল রেইন্সফোর্ড ।

কাজটা শেষ হল অবশেষে । শ খানেক ফিট দূরে একটা পড়ে থাকা গাছের গুঁড়ির নীচে শুয়ে অপেক্ষা করতে লাগল রেইন্সফোর্ড । বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না । বিড়াল আবার এল ইঁদুরের সাথে খেলা করতে ।

ব্লাডহাউন্ডের মত আত্ববিশ্বাসী ভঙ্গিতে ট্রেইল ধরে এগিয়ে এলেন জেনারেল জারফ । কোন কিছুই ওই কালো চোখজোড়া থেকে এড়াচ্ছে না, ঘাসের একটা বাঁকা ডগা কী শ্যাওলার উপর ক্ষীণ আঁচরের দাগ । এত মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করছিলেন জেনারেল, যে রেইন্সফোর্ডের পাতা ফাঁদটা দেখার আগেই বেরিয়ে থাকা ফাঁদের ট্রিগারের কাজ করা ডালটায় পা দিয়ে বসলেন । কিন্তু স্পর্শ করার সাথে সাথে বানরের ক্ষিপ্রতায় পিছু হটলেন জেনারেল । কোনমতে জীবিত গাছটা দিয়ে ঠেকনা দেয়া মরাগাছটা হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়ল । দ্রুত সরে যাওয়াতে কাঁধে আঘাত পেলেন জেনারেল নাহলে এর তলে পিষ্ট হয়ে যেতেন তিনি । টলে গেলেও পড়ে গেলেন না তিনি, হাত থেকে পিস্তলটাও পড়ল না । একহাতে আহত কাঁধটা ডলতে লাগলেন । তারপর রেইন্সফোর্ড জেনারেলের অট্টহাসি শুনতে পেল ।

'রেইন্সফোর্ড,' বললেন জেনারেল । 'আপনি যদি কথা শোনার আওতার মধ্যে থেকে থাকেন তবে আপনাকে কনগ্রাচুলেট করতে চাই আপনাকে । পৃথিবীর খুব বেশি সংখ্যক মানুষ এই মালয় মানুষধরা ফাঁদ বানাতে জানে । আমার সৌভাগ্য যে আমিও মালাক্কাতে শিকার করেছি । আপনি খুবই ইন্টারেস্টিং লোক দেখা যাচ্ছে । আমি এখন আমার জখমটা ব্যান্ডেজ করতে যাচ্ছি, আঘাতটা খুবই অল্প অবশ্য । আমি আবার ফিরে আসব ।'

আহত কাঁধটা ডলতে ডলতে জেনারেল চলে গেলেন । রেইন্সফোর্ড তার পালানো অব্যাহত রাখল । কয়েক ঘন্টা অন্ধের মত ছুটল ও । সন্ধ্যা নামল আঁধার এল, এখনো ও ছুটে চলেছে । পায়ের মোকাসিনের নীচে মাটি এখন নরম ঠেকছে । ঝোপঝাড় এখানে ঘন, বাতাসে দুর্গন্ধ ভাসছে । পোকা মাকড় ওকে কামড়াচ্ছে সাংঘাতিকভাবে ।

তারপর হঠাৎ আগে বাড়তেই পা ডুবে গেল নরম কাদায় । পা টা টেনে তোলার চেষ্টা করল ও, কিন্তু কাদা এমনভাবে ওর পা টেনে ধরল যেন একটা প্রকান্ড জোঁক আটকেছে পায়ে । সাংঘাতিক বেগ পেতে হল ওকে পা টা মুক্ত করার জন্য । ও জানে এখন ও কোথায়, ডেথ সোয়াম্প--মৃত্যু জলায় চোরাবালি এলাকায় এসে পড়েছে ও ।

হাতজোড়া এমন শক্তভাবে মুঠি পাকিয়ে আছে যেন স্নায়ুগুলো অন্ধকারে কোন অদৃশ্য শক্তি ছিঁড়ে নিতে চাইছে । নরম মাটি একটা আইডিয়ার বীজ রোপন করল রেইন্সফোর্ডের মনে । ডজনখানেক ফুট পিছনে হটল রেইন্সফোর্ড, তারপরে একটা প্রাগৈতিহাসিক বিভারের মতন মাটি খুঁড়তে লেগে গেল ।

যুদ্ধের সময় ফ্রান্সে মাটি খুঁড়েছে রেইন্সফোর্ড, যখন একমুহুর্তের দেরী মৃত্যু ডেকে আনতে পারে । সেসব খোঁড়াখুঁড়ি আজকের খোঁড়ার তুলনায় নস্যি । গর্তটা ক্রমেই বড় হলো, এবং যখন ওর কাঁধ পর্যন্ত গভীর হল গর্তটা । তখন উঠে কিছু শক্ত ডাল কেটে আগা ছুরি দিয়ে চোখা করল ও । সেগুলো গর্তের নীচে এভাবে পুঁতে দিল যেন চোখা দিকটা থাকে উপরে । তারপরে ক্ষিপ্র হাতে ঘাস, লতাপাতা দিয়ে একটা মাদুর মত বানিয়ে সেটা দিয়ে গর্তটা ঢেকে তার উপরে মাটি চাপা দিল । তারপরে ঘামে ভেজা ক্লান্ত শরীরে একটা বাজপড়া গাছের পিছনে গুঁড়ি মেরে বসল ।

সে জানে তার অনুসরণকারী আসছে তার পিছন পিছন । নরম মাটিতে আলকা পায়ের আওয়াজ পেল ও, তারপরে জেনারেলের সিগারেটের সুবাস ভেসে এল ওর নাকে । রেইন্সফোর্ডের মনে হল জেনারেল অস্বাভাবিক দ্রুত আসছেন, গাছের নীচে গুঁড়ি মেরে বসে ও জেনারেল বা ওর পাতা ফাঁদ কোনটাই দেখতে পাচ্ছে না । ফাঁদের ডালপালা ভেঙ্গে পড়ার শব্দে ও আরেকটু হলে আনন্দে চিৎকার করে উঠত, কারন এর পরেই তীক্ষ্ণ একটা চিৎকার শুনতে পেল ও । লাফিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছিল ও, কিন্তু সাথে সাথেই বসে পড়ল ও । গর্তটার ইলেকট্রিক টর্চ হাতে তিন ফিট দূরে একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে ।

'চমৎকার দেখিয়েছেন আপনি রেইন্সফোর্ড,' বললেন জেনারেল । 'আপানার বার্মিজ বাঘ-ধরা ফাঁদ আমার একটা অন্যতম সেরা কুকুরের প্রাণ নিয়েছে । আবারো আপনি টেক্কা দিলেন । আমি দেখতে চাই পুরো হাউন্ডের পালটার বিরুদ্ধে আপনি কী করতে পারেন । চমৎকার সন্ধ্যাটার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ মি. রেইন্সফোর্ড ।'

পরদিন সুর্য ওঠার সময় একটা নতুইন শব্দ শুনে বুঝল রেইন্সফোর্ড নতুন হুমকি উপস্থিত এখন । একপাল ব্লাডহাউন্ডের গলাছেড়ে ডাকার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে ।

রেইন্সফোর্ড জানে সে দুটো কাজ করতে পারে, একটা হচ্ছে সে যেখানে আছে সেখানেই বসে থাকতে পারে, সেটা হবে আত্বহত্যা । আর হচ্ছে সে এখান থেকে পালাতে পারে, তা হবে অবশ্যম্ভাবী পরিনতিকে কিছুক্ষণের জন্য ঠেকিয়ে রাখা । এক মুহুর্ত দাঁড়িয়ে চিন্তা করল ও, একটা অসম্ভব আইডিয়া মাথায় আসতেই ও বেল্ট কষে বেঁধে জলাভুমি ছেড়ে অন্যদিকে হাঁটা ধরল ও ।

কুকুরের ডাক কাছিয়ে আসছে, আরো কাছে, আরো । একটা রিজের উপরে জন্মানো গাছে চড়ে রেইন্সফোর্ড দেখল মাত্র সিকি মাইল দূরে ঝোপের মধ্যে নড়ছে একটা কিছু । চোখ সরু করে ও জেনারেল জারফের ঋজু দেহায়বটা দেখতে পেল । পাশেই ইভানের বিশাল কাঠামোটা যেন কোন অদৃশ্য শক্তি টেনে নিয়ে চলেছে, বোঝা গেল কুকুরপালের লাগাম ধরে আছে ইভান ।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা তার খোঁজ পেয়ে যাবে । পাগলের মত চিন্তা চলছে রেইন্সফোর্ডের মাথায় । উগান্ডায় শেখা একটা কৌশল মনে পড়ল ওর । একটা নমনীয় ডালে ধনুকের মত বাঁকিয়ে তার মাথা শিকারের ছুরিটা বাঁধলো ও যেন ফলাটা থাকে ট্রেইলের দিকে । একটা জংলী লতা দিয়ে ডালটা বেঁধে রাখল ও । এর পরে প্রাণভয়ে ছুট দিল ও । নতুন ঘ্রাণ পেয়ে গলা চড়ালো শিকারী কুকুরের দল । রেইন্সফোর্ড এখন বুঝতে পারছে তাড়া খাওয়া জানোয়ারের মনের অনুভুতি ।

দম নিতে থামতে হলো ওকে । ব্লাডহাউন্ডগুলোর চিৎকারও হঠাৎ থেমে গেছে, ছুরিটার কাছে নিশ্চয়ই পৌঁছে গেছে ওরা ।

উত্তেজিতভাবে একটা গাছে চেপে ফেলে আসা পথের দিকে চাইল ও । মনের কোনে আশাটা নিভে গেল দপ করে যখন দেখল জেনারেল জারফ বহাল তবিয়তেই দাঁড়িয়ে আছেন, তবে ইভান খতম হয়েছে । ফাঁদের ডালটায় বাঁধা ছুরিটা একেবারে ব্যার্থ হয়েছে তা বলা যাবে না ।

ও গাছে থেকেই নামতেই হাউন্ডের দল আবার গর্জে উঠল ।

'মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে ! মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে !' হাঁপাতে হাঁপাতে বিড়বিড় করল রেইন্সফোর্ড । সামনে আছপালার ফাঁক দিয়ে এক চিলতে নীল সমুদ্র দেখা যাচ্ছে । কাছিয়ে আসছে কুকুরের দল । সাগরের দিকে ছুটল রেইন্সফোর্ড, জঙ্গল ছেড়ে বেরিয়ে আসতেই দুর্গের একটা অংশ চোখে পড়ল তার দূরে । কিন্তু সৈকতটা পানির বিশফুট উপরে গিয়ে শেষ হয়েছে । একমুহুর্ত ইতস্ততঃ করল সে, তারপর কুকুরের ডাকটা শুনে পানিতে ঝাঁপ দিল ।

জেনারেল আর তাঁর কুকুরের দল যখন সাগরের ধারে পৌঁছালো, থমকে দাঁড়ালেন কসাক । বেশ কয়েকমিনিট সাগরের নীল-সবুজ পানির দিকে তাকিয়ে থাকলেন তিনি । তারপর কাঁধ ঝাঁকি দিয়ে বসে পড়লেন মাটিতে । রুপার ফ্লাস্ক খুলে ব্র্যান্ডিতে চুমুক দিতে দিতে সিগারেট ধরিয়ে 'ম্যাডাম বাটারফ্লাই' অপেরা থেকে গুনগুন করে গান ধরলেন তিনি ।

কাঠের প্যানেল দেয়া মস্ত ডাইনিং রুমে সে রাতের জেনারেলের ডিনারটা চমৎকার হল । এক বোতল পোল রজার আর আধ বোতল শামবারতঁ খতম করলেন তিনি । কিন্তু দুটো ঘটনার স্মৃতি ডিনারটা পুরো উপভোগ করতে দিল না । এক, ইভানের মতন আরেকটা লোক জোগার করাটা বেশ কঠিন হবে; দুই তাঁর শিকার ধরা পড়েনি । ডিনার শেষের ড্রিংকে চুমুক দিতে দিতে ভাবলেন জেনারেল, অবশ্য আমেরিকান লোকটা নিয়ম মেনে খেলেনি । লাইব্রেরিতে গিয়ে রোমান সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াসের রচনা পড়ে নিজেকে শান্ত করলেন তিনি । দশটা সময় নিজের শোয়ার ঘরে গেলন তিনি, চমৎকার ক্লান্তির আলস্য ভর করছে তাঁর শরীরে । সামান্য চাঁদের আলো আছে, তাই জানালার ধারে গিয়ে নীচের উঠানে চড়ে বেড়ানো কুকুরদের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'পরেরবার ভাল শিকার হবে ।' তারপর ঘুরে আলো জ্বালালেন ।

বিছানার চাঁদোয়ার পিছনে লুকিয়ে থাকা একটা লোক এখন ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে !

'রেইন্সফোর্ড!' চিৎকার করলেন জেনারেল । 'এখানে এলে কীভাবে?'

'সাঁতরে এসেছি,' জবাব দিল রেইন্সফোর্ড । 'জঙ্গলের ভিতর দিয়ে হেঁটে আসা থেকে অনেক তাড়াতাড়ি হয়েছে আমার ।'

শব্দ করে শ্বাস টানলেন জেনারেল । 'আপনি অভিবাদন করছি আপনাকে,' হেসে বললেন তিনি । 'আপনি খেলায় জিতেছেন ।'

রেইন্সফোর্ড হাসলো না । 'আমি এখনো একটা তাড়া খাওয়া জানোয়ার,' নীচু, খসখসে গলায় ফিসফিস করে বলল ও । 'তৈরী হোন জেনারেল ।'

অনেক নীচু হয়ে বাউ করলেন জেনারেল । 'আমি বুঝতে পারছি,' বললেন তিনি । 'আমাদের মধ্যে একজন নীচের কুকুরগুলোর খোরাক হবে । আর আরেকজন এই চমৎকার নরম বিছানায় ঘুমাবে । সুতরাং হুঁশিয়ার !'

এত আরামদায়ক বিছানায় আসলেই কখনো ঘুমায়নি স্যাঙ্গার রেইন্সফোর্ড !

শেষ:
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ৯:৫৬
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ ইলিশ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:২৬


ইলিশ!ইলিশ!! রূপালী ইলিশ, কোথায় তোমার দেশ? 
ভোজন রসিকের রসনায় তুমি তৃপ্তি অনিঃশেষ। 

সরষে- ইলিশ, ইলিশ-বেগুন আরও নানান পদ
যেমন তেমন রান্না তবুও খেতে দারুণ সোয়াদ

রূপে তুমি অনন্য ঝলমলে ও চকচকে।
যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মানবাধিকার' (অণু গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪

'মানবাধিকার' একটা এনজিও। তারা বিদেশী সহায়তা নিয়ে মানুষ, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করে। আজ তারা একটা বড় সমাবেশ করছে প্রেসক্লাবে। সমাবেশে সাংবাদিকসহ নানান পেশার মানুষ অংশ নিয়েছে। টিভি সাংবাদিকেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু দ্বিতীয় রিফাইনারি (ERL-2) টা করে দেখান , সবার মুখ বন্ধ হয়ে যাবে !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গতকাল নাটকীয়তায় ভরা একটা দিন আমরা পার করলাম । রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন ঝড় বয়ে গেল। পুরো সোশ্যাল মিডিয়া যেন দুই ভাগে ভাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×