আসলে সরকারী কর্মচারী ও নির্বাচিত প্রতিনিধিবর্গের বিরুদ্ধে স্বাভাবিক নিয়মে অভিযোগ দায়ের ও তদন্ত করার পথ রুদ্ধ করে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)কে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে বিশেষ লাভ নেই ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে বটে কর্তারা বাগানের সব আগাছা উপড়ে ফেলবেন । তার কারন হচ্ছে বর্তমানের অস্বাভাবিক কর্মকান্ডের একটা 'সার্জ' চলছে । আশংকা করার যথেষ্ট কারন আছে যে এই আন্দোলন ভেজাল বিরোধী অভিযানের মতই মিইয়ে যাবে দ্রুত । কারন অভিযানের নিয়ামক/অনুঘটক কর্তাব্যাক্তিরা সরে গেলে বা তাঁদের অভিযানের আপাতঃ প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেলে তাঁরা তাদের কর্মকান্ডও গুটিয়ে নেবেন ও এ ব্যাপারে কারো কোন হস্তক্ষেপেরও অবকাশ থাকবে না ।
এবারে আসি দুর্নীতি উৎস/আবহ পরিপ্রেক্ষিত আলোচনায় । দুর্নীতির শিক্ষাগত/মনস্তাতি্বক বিশ্লেষন আপাততঃ আমাদের আলোচনার বাইরে রাখি । চেষ্টা করি ঠিক কোন কোন প্রধান ছিদ্রপথ ধরে দুর্নীতি বীরদর্পে প্রবেশ করে প্রশাসনের অন্দরমহলে । আশা করি একমত হবেন নীচের কারনগুলো করাপ্শন সৃষ্টির সবচেয়ে বড় কারন ।
১) পাবলিক ওয়ার্কসের জন্য কাজের ঠিকা বা টেন্ডার প্রদান,
২) কাজে নিয়োগ, বদলী ও পদোন্নতি,
৩) আয়কর, ও বানিজ্যে শুল্ক প্রদান ও ছাড়পত্র প্রদান ,
৪) জমির রেকর্ড সংক্রান্ত সকল জটিলতা ও খাজনা প্রদান ।
৫) সরকারী সম্পত্তির বিক্রি এবং লীজ প্রদান ।
ধারনা করা হয় যে কোন এক্সপার্ট বা নির্বাহী কমিটি সঠিক যাচাই-বাছাই ও বিবেচনার পর । যোগ্য প্রার্থীকে কোন কাজের জন্য টেন্ডার প্রদান করবেন । যদিও আশাটি খুবই অযৌক্তিক উচ্চাশা । এইখানে 'কোন কারন দর্শানো ব্যাতিরেকেই' ক্লজটি অনেক দুষণের মুল । কারন যদি নাই দর্শান তাহলে টেন্ডার ডাকা কেন ? কারা টেন্ডার পায়? সিংহভাগ সময়ে ট্রেড ইউনিয়ন এবং কর্তাব্যাক্তিদের কেউ কী? সিদ্ধান্ত নেবার প্রক্রিয়াটি কী ? ভোট বা ভেটো কী প্রকাশ্যে দেয়া হয়?
প্রকাশ্যে কর্তাব্যাক্তিরা ব্লাইন্ড ব্যালটে সিদ্ধান্ত নিলে ক্ষতি কী ? তা না হলে প্রকাশ্যে টেন্ডার বাক্স বসানোরই বা দরকারটা কী ?
উপরের এক থেকে পাঁচ পর্যন্ত সবগুলো সম্ভাব্য খাত গুলো খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে করাপশন হয় প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং মুলতঃ কতিপয় ব্যাক্তিবিশেষের সিদ্ধান্ত গ্রহনের প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে ।
সোজা কথায় সরকারী কর্মচারী হিসেবে আমি কী সিদ্ধান্ত নিলাম, সেটা অনেক লোকের, অনেক ক্ষমতাধর ও শক্তিশালী লোকের মাথাব্যাথার কারন । মাথাব্যাথা অবশ্য আমারও, কারন আমিও এই ফাঁকতালে নিজের স্বার্থ গুছিয়ে নিতে পারি । যেখানে এই আত্বস্বার্থের বৃত্তকে বাইরের ভীতি ও প্রলোভনের বৃত্ত অধিক্রমণ করছে, সেখানেই দুর্নীতি ঘটে ।
অন্য কথায় কেউ আপনার টেবিলের উপর এক বস্তা টাকা এনে ফেলল । লোভ লাগল আপনার, দোনোমনো করলেন, দেখলেন এইটাকায় অনেকেরই নেকনজর আছে । লুটের মালের হিস্যা দিলে সানন্দে মুখ বুঁজে থাকবে সবাই । নেবেন না কেন আপনি ?
হতে পারে আপনি তবুও অস্বীকার করতে পারেন । হতে পারে দুর্নীতি করার মত দুঃসাহস আপনার কম, হতে মনের ভিতর নৈতিকতা নামের বেড়াজালের খুঁতখুঁতানি থাকলেও থাকতে পারে আপনার । এমন সময়ে একটা বন্দুকের নল এসে ঠেকলো আপনার মাথার পিছনে ।
এবার কোথায় যাবেন আপনি ? টাকা নেবেন না জান দেবেন? (অথবা মান, হতে পারে দুটোই?) ।
ভয় আর প্রলোভন ।
প্রলোভন আর ভয় ।
অভাবে স্বভাব নষ্ট (আপনি তো অভাবীই এক হিসাবে তাই না? ভেবে দেখুন আপনি প্রাইভেট সেক্টরে কাজ করলে কত কামাতে পারতেন আপনি) । স্বভাব নষ্ট সঙ্গদোষেও ।
স্বভাব কেন নষ্ট হয় সে বুলি না কপচে, তাদের কী শাস্তি দেয়া উচিৎ সে বাকওয়াসে না গিয়ে আমরা কী আমাদের, মানে জনগনের সেবকদের কী ভাবে ভয় ও প্রলোভন থেকে মুক্তি দিতে পারি?
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



