somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মার্ক টোয়েন (পর্ব 19)

২৪ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ১২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাঠক, আসলে মিসিসিপি নদীর মাঝাখানে জ্যাকসন্স আইল্যান্ড সত্যিই আছে, সত্যি ওখানে একটা বাদুরভর্তি গুহা ছিল স্যামের ছোটবেলায় । মার্ক টোয়েনের ছোটবেলায় দ্বীপটার মালিক ই. ডি. ম্যাকডোয়েল নামে একজন একটু পাগলাটে ডাক্তার । সেইন্ট লুইতে একটা মেডিক্যাল কলেজ চালাতেন ড. ম্যাকডোয়েল । ছোটবেলায় সত্যিই বন্ধুদের সাথে গিয়ে ওই দ্বীপে বেশ কয়েকদিন গা ঢাকা দিবে থাকতেন স্যাম আর তার বন্ধুরা । এতো লম্বা সময় লুকিয়ে থাকত ছেলেরা যে বাড়ির লোকেরা ভাবতো বুঝি নদীতে ডুবে মরেছে পাজীগুলো ।

সে যাহোক, টম সয়্যার বইটা একটু বিশ্লেষন করলেই দেখা যাবে নিজের আর বন্ধুদের কথাই বলেছেন মার্ক টোয়েন । ভুমিকাতে তিনি নিজেই লিখেছেন, "এই বইটা মুলতঃ, আমার আর আমার চেনা কয়েকজন ছেলের বালকবেলার কিছু স্মৃতির সমাহার, শুধু নামগুলো পাল্টে দেয়া হয়েছে ।"

আর বইটার উৎসর্গ পত্রে মার্ক টোয়েন নিজেই লিখেছেন,

"Most of the adventures recorded in this really occured, one or two were experiences of my own, rest those of boys who were schoolmates of mine. The Huck Finn is drawn from life;Tom Sawyer also, but not from an individual---he is combination of characteristics three boys whom I know, therefore belongs to the composite architecture of things.

এখন দেখা যাক আসলে কে কী!

টম হচ্ছে স্যাম ক্লিমেন্স কোনো সন্দেহ নেই, তবে আরো কিছু চরিত্রের ছায়া পড়েছে এতে । সিড হচ্ছে স্যামের ছোটভাই হেনরি ক্লিমেন্স (হেনরি একটা দুঃখজনক স্টিমার দুর্ঘটনায় মারা যায় গৃহযুদ্ধের ঠিক আগে ) । পলি খালা আসলে স্যামের মা, জেইন ক্লিমেন্স । বড়বোন পামেলাকেই, টমের বড়বোন "ভাল মেয়ে" মেরির চরিত্রে আরোপ করেছেন টোয়েন ।

বিশেষ প্রিয় বন্ধু উইল বাউয়েন আর জো ব্রিগসের একটা সংমিশ্রন হচ্ছে জো হার্পার । এই দুই বন্ধুই স্যামের মতো মিসিসিপি স্টিমারের পাইলট ও পরে ক্যাপ্টেন হয়েছিল । আর এদের বন্ধু ছিল শহরের বিশিষ্ট মাতাল আর ভবঘুরে উডসান ব্ল্যাংকেনশিপের ছেলে টম ব্ল্যাংকেনশিপ হচ্ছে আমাদের প্রিয় হাকলবেরি ফিনের আসল প্রেরনা!

"ছেলেটা বড়ই ভাগ্যবান, কখনো স্কুলে যেতে হয় নি তাকে ।" অন্যের ফেলে দেয়া কাপড় চোপড়ের ধ্বংসাবশেষ পরে থাকতো ও । শরতে সবার শেষে জুতা পড়া শুরু করতো সে আর বসন্তে সবার আগে জুতা ছেড়ে খালি পায়ে চলতে করত ও । যখন ইচ্ছা মাছ ধরতে যেত, পাইপ টানত, যতরাত খুশি জেগে থাকত । পিপের ভিতরে ঢুকে ঘুম দিত, রাত কাটাত একটা পরিত্যাক্ত চামড়ার কারখানায় একদল শুয়োরের সাথে । মোট কথা যাকে বলে একজন আদর্শ রোমান্টিক চরিত্র! কোনো সন্দেহ নেই সব ছেলেরা হিংসা করত এই অনাথ ঘরছাড়া বালককে ।

ভাবতে পারেন এই ছেলেটা কী পরিনতি হয়েছিল ? হাকলবেরি ফিন নামে গোটা দুনিয়ার লোকতো তাকে চিনেছেই উপরন্তু সে আইন পড়ে পশ্চিমের একটা শহরে "জাস্টিস অভ দ্য পিস" হয়েছিল । হাকলবেরি ফিন আদালতের হাকিম! ভাবতেও কেমন লাগে!!

আর টমের 'লেডিলাভ' বেকি থ্যাচার সে মেয়েটার আসল হচ্ছে লরা হকিন্স! লরা হকিন্সের সাথে পিকনিকে গিয়ে আসলেই একবার সুরঙ্গে হারিয়ে গিয়েছিল টম স্য়্যার থুক্কু স্যাম ক্লিমেন্স । রাস্তার ওপাশেই থাকতো সোনালী চুল মেয়েটা । তার মন জয় করার জন্য ছেলেদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলত । সেকালে একটা রেওয়াজ ছিল ক্লাসরুমে শয়তানী করলে শাস্তি (?) ছেলেদেরকে মেয়েদের দিকটায় বসিয়ে দেয়া । তো স্যামের জন্য তা ছিল শাপে বর, কারন লরার পাশে বসতে পারতো সে । একদম টিনএজ পর্যন্ত স্যাম-লরার প্রেম ছিল, স্যাম যখন স্টিমারের কাজ শেখার জন্য চলে যায় তার আগে পর্যন্ত । শেষ পর্যন্ত তারা অন্য মানুষকে বিয়ে করবে কিন্তু ওদের মধ্যে যোগযোগ থাকবে বহুদিন ।

তবে বাস্তবে ওরা কোনো মোহরের থলে পায়নি! যদিও গুপ্তধনের জন্য খোঁড়াখুঁড়ির কোনো অন্ত ছিল না স্যামের দলবলে । হতে পারে বইটা "হ্যাপি এন্ডিং" দেবার জন্যই গুপ্তধনের আমদানী করেছেন টোয়েন, গুপ্তধন পেলে আর এই বই লেখার খুব একটা দরকার পড়তো না টোয়েনের । আর জাজ থ্যাচারের চরিত্রটা খুব সম্ভব মার্ক টোয়েনের নিজের বাবা জন মার্শাল ক্লিমেন্স থেকেই নেয়া ! জন ক্লিমেন্সও তো হ্যানিবাল (বইতে সেইন্ট পিটার্সবুর্গ) শহরের হাকিম ছিলেন ।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ২:৩৪
১৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×