বিদেশে এসে বাঙালির প্রথম কর্তব্যগুলোর একটি হলো ভয়াবহভাবে দেশের বদনাম করা। কথায় কথায় এই নেই সেই নেই, দুর্নীতি, অনিয়ম, রাজনীতিকিকরণ, জ্যাম, বেতন কম, ঘুষ, লোডশেডিং, খাদ্যে ভেজাল, মানহীন শিক্ষা, ধূলা-বালি, ভিক্ষাবৃত্তি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে বিদেশের মাটিতে বসে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ ঝাড়ে বেশির ভাগ বাঙালি।
উন্নত দেশগুলোর সব কিছুর সঙ্গে বাংলাদেশকে তুলনা করে এরা প্রায়ই এক ধরনের বিকৃত আনন্দ পায়। অ্থচ এ তুলনা যে কত বড় অসম চিন্তা তা একবারও ভাবে না।
ইতিহাস বলছে, যারা দেশে ভাল পড়াশুনা শেষ করে এসব দেশে স্কলারশিপে উচ্চশিক্ষায় এসেছে তাদের অধিকাংশই গবেষণায় দারুণ সব সফলতা দেখাচ্ছেন। কিন্তু তাদের গবেষণায় পাওয়া কর্মটি পেটেন্ট করছেন স্কলারশিপ দেয়া দেশ বা সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়টির নামে। একবারের জন্যও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের যে ‘অজিউল্লাহ স্কুল’ বা ‘বোঁচারাম কলেজ’ এর কথা মুখেও আনছেন না- যেখানে প্রায় বিনামূল্যে জীবনের অধিকাংশ শিক্ষা অর্জন করেছেন।
সফলতার সঙ্গে পিএইচডি বা মাস্টার্স শেষে এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা/গবেষণা বা ভাল চাকরিতে ঢুকে পড়ার কিছুদিন পর ‘কেঅস’ ‘জেলাস’ বা ‘টকেটিভ’ আখ্যা দিয়ে এখানকার নিজ কমিউনিটি থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এরপর তিনি উচ্চ বেতন নিয়ে ফার্স্ট ওয়াল্ডে হাই ক্লাসে পরিবারসমেত বিলাসী জীবন যাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ভুলে যান মাসে ১৫ টাকা ফি’তে দেশের সবচেয়ে ওজনদার বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পড়াশুনা বা এক হাজার টাকা চুক্তিতে তিন বেলা পুরো মাস হলের মেসে পেটচুক্তিতে খাওয়া ও ফ্রিতে থাকার ন্যুনতম সুবিধা নেয়ার কথাটুকুও।
অতপর দেশ তার চির বিশৃংখলা নিয়ে যথারীতি দেশের মতই থাকে আর বদলে দেয়ার মতো কাণ্ডারীরা নিজেকে পশ্চিমা সমাজের অংশ হিসেবে মনে করে বায়বীয় এক আত্মপ্রসাদে ভোগে।
অকৃতজ্ঞতা নিপাত যাক, কৃতজ্ঞতাবোধ মুক্তি পাক...
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০১৭ দুপুর ২:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



