somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

বাবুই বাবু
সৃষ্টির সেরা প্রাণী আমি তবে নামে মাত্র, কর্ম এখন সম্পূর্ন রুপে প্রমান করে না। লেভেল লো, ডে বাই ডে আপডেটের প্রয়াসে আছি। দেখতে, বলতে, শুনতে, করতে চাই সেরা। তারপর সেরাদের সেরা। আমি ছাত্র, প্রকৃতি আমার শিক্ষক।

“১ ঘন্টার প্রেম হলেও ১০০% পিওর”

০২ রা জুলাই, ২০১৪ দুপুর ১২:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুন্দরী, তবে তার চেয়েও বেশি যা ছিল, তা শুধু তারই ছিল। রূহীন অনুভব করলাম এই অজানা অচেনা মেয়েটা আমাকে চুম্বকের মতো টানছে। শুধু তার চোখে চোখ পড়তেই আমরা দু-জনই নিজেদের মধ্যে এক ভালোলাগা অনুভব করলাম। তার পর দীর্ঘ ১ ঘন্টার জার্নি সাথে চোখা-চোখি দেখা-দেখি, মুচকি হাসি, এরই মাঝে আবার অভিমান এ ভাবেই চলতে থাকে আমাদের নিরব হৃদয় ক্ষরন প্রেমের কাহিনী।
পরীর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা আজ ০২.০৭.২০১৪ ইং সকাল ৭:৩০ মিনিট। বাসা থেকে বের হয়ে অফিসের উদ্দেশ্য রওয়ানা হলাম। একটা স্টপিস পার হতেই পরী বাসে উঠলো, পরী বসেছিল মহিলা সিটে, আর আমি এমন জায়গায় বসেছিলাম যেন সামনের দিকে তাকালেই দু-জন দু-জনকে চোখে চোখ পরে যাবে। পরী বাসে উঠে বসে প্রথমে আমার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিলেন যে হাসি এসে আমার কলিজায় আঘাত করলো আমি কোন রকমে নিজিকে সামলিয়ে সুন্দর করে একটা হাসি দিয়ে রিপ্লাই দিলাম। কিছু সময় পরে পরীকে বেশ নার্ভাস বলেই মনে হচ্ছিল আমার কাছে। চলতে চলতে খুঁটিয়ে দেখছিলাম পরীর আচরণ। বারবার এদিকে-ওদিকে তাকাচ্ছিল সে। আমার অতি আগ্রহী হয়ে ওঠার ব্যাপারটা পরী খেয়াল করেছিল। সুন্দরী পরী যখন আমার আগ্রহ দেখে আরো চনচল হয়ে উঠলো আর তখনই সম্ভবত আমার ঘাড়ে প্রেমের ভূতটা চেপে বসেছিল। প্রথম দেখায় প্রেম বুঝি একেই বলে।
গাড়ীর মধ্যে অনেক মানুষ কিছু কিছু সময় মানুষের ভীরে পরী আমাকে না দেখতে পেয়ে সিট থেকে উঠে উকি মের আমাকে দেখছিল আর আমি থুথু ফেলানোর ছলে পরীকে দেখছিলাম। কোন একটা সময় আমার পাশের সিট ফাকা হতেই আমি পরীকে ঈশারা করায় পরী এসে আমার পাশে বসলো, আমি খেয়াল করলাম পরীর চোখ গড়িয়ে পানি পরছে, পরী কাঁদছো কেন, তখন পরি বললো আমি আপনার পাশে বসতে পেরে…………… আর কিছু বলতে পারলো না।

যাই হোক প্রেমে পড়ার ব্যাপারটা পরীকে তখন আমি বলিনি বা বুঝতে দেইনি। উল্টো পরী কোথায় যাচ্ছে, পড়া লেখা ইত্যাদি ইত্যাদি জানতে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করেছিলাম। পরী আমাকে বলছিল আমাকে দেখেই নাকি তার মন বলছিল, আমি ছেলেটা অন্য আর দশটা ছেলের মত নয়। আমার ওপর নাকি নিশ্চিন্তে নির্ভর করা যায়। কি দেখে পরী নামের মিষ্টি মেয়েটা আমার ওপর নির্ভর করেছিল, সেটা এখন পর্যন্ত আমি জানি না। তবে সেই যে নির্ভর করে পথচলা শুরু, সেই পথ চলা আর থামেনি।যত সময় আমরা এক সাথে বাসের মধ্যে ছিলাম বন্ধুত্বের পথ পেরিয়ে আমরা দু’জনে ভালোবাসার পথে চলতে শুরু করি। পরিচয়ের ৩০ মিনিট মধ্যে এভাবে প্রেম হয়ে যায় কারও সঙ্গে, এ কথা শুথু গল্প, কবিতা আর সিনেমা, উপন্যাসেই পেয়েছি। এখন আমার জীবনেও যে এমন সিনেমাটিক স্টাইলের প্রেম এসে ধরা দেবে, কস্মিনকালেও সে কথা আমি ভাবিনি।

বেশ ভালোই চলছিল আমার আর পরীর প্রেম। কিছু সময় পরে হঠাৎ দেখি আমার প্রাণপাখি পরীর মনটা খারাপ। কারন জিজ্ঞেস করতেই পরী বললো আর কিছু সময় পরেইতো আমরা দু-জন দু-জন থেকে অনেক দুরে চলে যাবো বলেই পাগলী পরী গাড়ী ভর্তী মানুষের মাঝে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো। শেষ অবধি প্রিয়তমার পরীর কান্না থামাতে খুব শির্ঘ্যই দেখা করার প্রতিশ্রুতি দিলাম। আমার প্রতিশ্রুতিতে পরীর কান্নামাখা মুখে যে হাসিটা ফুটল, সে হাসি তো লাখ টাকাতেও কেনা সম্ভব নয়। যথা সময়ে আমি আমার গন্তব্যে এসে পরলাম আমি সিট থেকে উঠে এক-পা দু-পা করে সামনের দিকে এগোচ্ছি আর পরীর কলিজায় যেন একেকটা ছুরির আঘাত পড়ছে। দু-চোখ গড়িয়ে গড়িয়ে জ্বল পরছে……………….।
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×