মা, তুমি বলেছিলে ডিসেম্বরে ফাইনাল পরিক্ষা হলেই আমার ছুটি ।
তখন আমি ক্লাস থ্রীতে পড়ি,ছুটির আনন্দে বিহ্বল এক শিশু
ডিসেম্বর যেন আসতেই চায় না...।
তোমার সাথে চুক্তি ছিল ছুটিতে আমাকে দুপুর রোদে ফরিং ধরতে দেবে
গাঁয়ের ছেলেদের সাথে নদীতে যেতেও বাধা দেবে না
বিকেলে গোল্লাছুট খেলতে সন্ধ্যা হলেও বলবে না কিছু।
আরও কথা ছিল ছুটিতে আমি যেন রাত জেগে গল্পের বই পড়তে পারি-
সেজন্য আমার হারিকেনে ভরা থাকবে দু টাকার বেশি কেরোসিন।
আমার এত শর্ত মেনে নিয়েও শুধু তোমার শর্ত ছিল-
আমাকে এ কয়দিন ভালমত পড়তে হবে।
তুমি জান, আমি তোমার শর্ত অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি
তোমার চুলোর পাশে শপ পেড়ে কুপি বাতির আলোয় অনেক রাত অবধি পড়েছি ।
রাজ্যের ঘুম নেমে এসেছে আমার দুচোখে তবুও জেগে থেকেছি,
আমার যে ছুটি চাই।একটুখানি ছুটি, অনেকখানি মুক্তি।
কখনও তুমিই বিরক্ত হয়ে বলেছ- আজ আর পড়তে হবে না বাবু,
খেয়ে ঘুমুতে যা।
তবু আমি ঘুমাইনি, যদি তুমি রাগ করো; ছুটি না দাও!
একদিন ডিসেম্বর এল; শেষ পরিক্ষা দিয়ে দুপুরে এসেই বললাম-
এখন আমার ছুটি তাই না মা ! আমি ফরিং ধরতে যাই।
তুমি বল্লে-"এই দুপুর রোদে ফরিং ধরা কিসের ! ঘুমুতে যাও।
বিকেলে খেলতে যেও।"
আমি বললাম- মা, আমার যে আজ ছুটি!!!
তুমি ধমক দিয়ে বললে-"তাই বলে এত রোদের মধ্যে ফরিং ধরতে যেতে হবে?"
বিকেলেও সন্ধ্যা হবার আগেই
তুমি আমাকে ডাকলে-" আর কত খেলবে ! এখন আজান দেবে চলে আস"
আমার খেলা শেষ করা হয়নি।
তারপর থেকে ওরা আর আমাকে কখনই খেলায় রাখেনি
রাখবেই বা কেন? যে দল আমাকে নেবে
খেলা শেষ হবার আগেই তাদের একজন কম পড়ে যাবে যে!
সন্ধ্যেবেলায় আবিস্কার করলাম আমার হারিকেনটাতেই তেল নেই
কিন্তু ওইটাতেই দুটাকার বেশি তেল থাকার কথা ছিল
রাত জেগে গল্পের বই পড়ব বলে।
মা, আমার ছুটি ছিল, তুমিই কথা দিয়েছিলে ছুটি দেবে
তবু আমার ফরিং ধরতে যাওয়া হল না, গাঁয়ের ছেলেদের সাথে মাঝ নদীতে
আয়না দেখা হল না, বিকেলবেলায় খেলা হল না গোল্লাছুট।
আমার কিছুই করা হল না।
দুপুরে আমার ঘুম আসতো না, তবু তোমার পাশে শুয়ে থাকতে হত
তুমি ঘুমিয়ে পড়লে বদ্ধ জানালার ফাঁক দিয়ে চেয়ে দেখতাম
রফিক, সুমন ও পাড়ার কাজল সবাই ফরিং ধরছে
রানী ফড়িং,রাজা ফড়িং, হেলিকাপ্টার ফড়িং কত রকম ফড়িং।
নিজের পৃথিবীটাকে বড্ড বেশি ছোট মনে হত।
তারপরও ছুটির স্বপ্ন দেখেছি, নিজের অজান্তেই কতবার তোমাকে
জিজ্ঞাসা করেছি -মা, কবে ছুটি হবে?
তুমি বলতে-" ভাল করে পড়, একদিন ছুটি হবে।"
আজ অনেক বছর পেরিয়ে গেছে,
আমার গায়ে এখন আর তেমন ফড়িঙের মেলা বসে না
নদীতে চর পড়েছে, ছেলেরা গোল্লাছুটের বদলে কম্পিউটারে গেম খেলে
বিদ্যুৎ থাকায় হারিকেনে তেল ভরার ঝামেলাও নেই।
তবু আজও অনেকেই ছুটি চায়, ওরা জানেনা-
একদিন ছুটি হবে।
মা, তুমি বলেছিলে ডিসেম্বরে ফাইনাল পরিক্ষা হলেই আমার ছুটি ।
তখন আমি ক্লাস থ্রীতে পড়ি,ছুটির আনন্দে বিহ্বল এক শিশু
ডিসেম্বর যেন আসতেই চায় না...।
তোমার সাথে চুক্তি ছিল ছুটিতে আমাকে দুপুর রোদে ফরিং ধরতে দেবে
গাঁয়ের ছেলেদের সাথে নদীতে যেতেও বাধা দেবে না
বিকেলে গোল্লাছুট খেলতে সন্ধ্যা হলেও বলবে না কিছু।
আরও কথা ছিল ছুটিতে আমি যেন রাত জেগে গল্পের বই পড়তে পারি-
সেজন্য আমার হারিকেনে ভরা থাকবে দু টাকার বেশি কেরোসিন।
আমার এত শর্ত মেনে নিয়েও শুধু তোমার শর্ত ছিল-
আমাকে এ কয়দিন ভালমত পড়তে হবে।
তুমি জান, আমি তোমার শর্ত অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি
তোমার চুলোর পাশে শপ পেড়ে কুপি বাতির আলোয় অনেক রাত অবধি পড়েছি ।
রাজ্যের ঘুম নেমে এসেছে আমার দুচোখে তবুও জেগে থেকেছি,
আমার যে ছুটি চাই।একটুখানি ছুটি, অনেকখানি মুক্তি।
কখনও তুমিই বিরক্ত হয়ে বলেছ- আজ আর পড়তে হবে না বাবু,
খেয়ে ঘুমুতে যা।
তবু আমি ঘুমাইনি, যদি তুমি রাগ করো; ছুটি না দাও!
একদিন ডিসেম্বর এল; শেষ পরিক্ষা দিয়ে দুপুরে এসেই বললাম-
এখন আমার ছুটি তাই না মা ! আমি ফরিং ধরতে যাই।
তুমি বল্লে-"এই দুপুর রোদে ফরিং ধরা কিসের ! ঘুমুতে যাও।
বিকেলে খেলতে যেও।"
আমি বললাম- মা, আমার যে আজ ছুটি!!!
তুমি ধমক দিয়ে বললে-"তাই বলে এত রোদের মধ্যে ফরিং ধরতে যেতে হবে?"
বিকেলেও সন্ধ্যা হবার আগেই
তুমি আমাকে ডাকলে-" আর কত খেলবে ! এখন আজান দেবে চলে আস"
আমার খেলা শেষ করা হয়নি।
তারপর থেকে ওরা আর আমাকে কখনই খেলায় রাখেনি
রাখবেই বা কেন? যে দল আমাকে নেবে
খেলা শেষ হবার আগেই তাদের একজন কম পড়ে যাবে যে!
সন্ধ্যেবেলায় আবিস্কার করলাম আমার হারিকেনটাতেই তেল নেই
কিন্তু ওইটাতেই দুটাকার বেশি তেল থাকার কথা ছিল
রাত জেগে গল্পের বই পড়ব বলে।
মা, আমার ছুটি ছিল, তুমিই কথা দিয়েছিলে ছুটি দেবে
তবু আমার ফরিং ধরতে যাওয়া হল না, গাঁয়ের ছেলেদের সাথে মাঝ নদীতে
আয়না দেখা হল না, বিকেলবেলায় খেলা হল না গোল্লাছুট।
আমার কিছুই করা হল না।
দুপুরে আমার ঘুম আসতো না, তবু তোমার পাশে শুয়ে থাকতে হত
তুমি ঘুমিয়ে পড়লে বদ্ধ জানালার ফাঁক দিয়ে চেয়ে দেখতাম
রফিক, সুমন ও পাড়ার কাজল সবাই ফরিং ধরছে
রানী ফড়িং,রাজা ফড়িং, হেলিকাপ্টার ফড়িং কত রকম ফড়িং।
নিজের পৃথিবীটাকে বড্ড বেশি ছোট মনে হত।
তারপরও ছুটির স্বপ্ন দেখেছি, নিজের অজান্তেই কতবার তোমাকে
জিজ্ঞাসা করেছি -মা, কবে ছুটি হবে?
তুমি বলতে-" ভাল করে পড়, একদিন ছুটি হবে।"
আজ অনেক বছর পেরিয়ে গেছে,
আমার গায়ে এখন আর তেমন ফড়িঙের মেলা বসে না
নদীতে চর পড়েছে, ছেলেরা গোল্লাছুটের বদলে কম্পিউটারে গেম খেলে
বিদ্যুৎ থাকায় হারিকেনে তেল ভরার ঝামেলাও নেই।
তবু আজও অনেকেই ছুটি চায়, ওরা জানেনা-
একদিন ছুটি হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


