somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসঙ্গঃ অনন্ত জলিল(এজে)

১৩ ই আগস্ট, ২০১৪ দুপুর ১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমার কর্তা মশাইয়ের খুব দুঃখ। সবাই যখন অনন্ত জলিলের গল্প করে তখন তাকে নির্বিকার থাকতে হয় কারন তিনি অনন্ত জলিলের কোন মুভি দেখেন নাই। বাংলা সিনেমার প্রতি তার এই ভালবাসার ফলশ্রুতিতে কাল রাতে “নিঃস্বার্থ ভালবাসা” দেখতে বসলাম। যদিও বহুল আলোচিত হৃদয় খান খান করা দৃশটি আমি আগেই দেখেছিলাম। যাই হোক, মুভি দেখছি। কেন জানি মনে হচ্ছিল নায়ক-নায়িকা দুজনই ইংরেজিভাষী অথবা অন্য কোন ভাষায় দক্ষ কারন তাদের বাংলা বলতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। প্রত্যেক শব্দের মাঝে “চার আলিফ” পরিমাণ টান আছে। আমার দমটা একটু আটকে আটকে আসছিল। অতঃপর মনোনিবেশ। কারণ পুরো মুভি দেখতে হবে উদ্দেশ্য কর্তার অনন্ত বিষয়ক জ্ঞান অর্জন এবং সেই হৃদয় নিংড়ানো (হার্ট বের করা) দৃশ্যে পৌঁছানো। আপনার মনে হতে পারে অনন্ত অনেক মুভি দেখেন কারণ তার যখন যে মুভির যে দৃশ্য ভাল লেগেছে তাই অ্যাড করেছেন, কাহিনী যাক তীর্থে। এই যেমন নায়িকার কার এক্সিডেন্টের ফোন পেয়ে ছুটে বেরিয়েছেন, পৌঁছে গেলেন আশ্রয়কেন্দ্র উদ্ধারে। ছোটবেলায় যত মহৎ ব্যক্তির জীবনী পড়েছেন সব ই দিয়েছেন নিজের চরিত্রে। নায়িকার অংশটুকু বাদ ই দিলাম।
এখানে সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ নায়ক-নায়িকার অভিনয় মারাত্মক হার্ট অ্যাটাক এর কারণ হতে পারে। এতদিন বাংলা সিনেমায় মিশা সওদাগর কে দেখলে রাগ হলেও এখানে শেষ মুহূর্তে তার আগমন আর অভিনয় মরুর বুকে এক ফোঁটা জলের মত মনে হল।
অনন্ত সাহেব তার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, মুভিত শেষ করতেই হবে। তবে এক মুঠো পাথর চিবানো আমার জন্য এর চেয়ে সহজ ছিল। ওঃ, একটা কথা না বললেই নয়, মুভির শুরুতে নির্মল বিনোদনের কারণ হতে পারে প্রথম সাক্ষাতে নায়ককে নায়িকার “ভাইয়া ভাইয়া” বলে শতাধিকবার সম্বোধন। এত কিছুর পরও বুঝলাম কর্তা মশাই ধৈর্য হারান নি, কারণ শেষ দৃশ্যের আগ মুহূর্তে আমার গমনোদ্যত ভঙ্গি দেখে বললেন, “আরে দাড়াও, এখনি হার্ট টা বের করবে”।
তবে ইদানীং যারা বলেন, অনন্ত বাংলা সিনেমায় সুদিন ফিরিয়ে আনছেন, তাদের সাথে আমি কিঞ্চিত দ্বিমত পোষণ করবো। কারণ সিনেমার উন্নতি হলেও অভিনয়ের অবনতি হতে হতে একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। যিনি ভাবেন ইমপোর্টেড হোয়াইট স্কিন মানেই আধুনিকতা তার আরও আধুনিক হবার প্রয়োজন আছে। অভিনয় দিয়ে হাসানোটা কমেডি আর অভিনয় দেখে লোকজন হাসাহাসি করলে সেটা তামাশা। আর তার ই বা দোষ কি! আমাদের মন্ত্রি মহোদয় এক শুধু দেশের চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েন, কাজ করার সময় পান না আর ইনিতো বিসনেস, প্রযোজনা, পরিচালনা, কাহিনী, সংলাপ, লিরিক, চিত্রনাট্য সব ই করেন, অভিনয়ের সময় কই...
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×