কোন বিশেষ জাতি বলতে যে জনসমাজ বোঝায় তার মধ্যে নারী ও পুরূষ উভয়ের সহান বিদ্যমান । শুধু পুরূষ নিয়ে যেমন সমাজ হতে পারেনা, তেমনি শুধু নারীকে দিয়েও সমাজ কল্পনা করা যায়না । কিন্ত দুঃখের বিষয় ঃ সেই আদি যুগ থেকে শুরূ করে আজ অবদি নারীরা নানা ভাবে নির্যাতিতা ও নিগৃহীতা হয়ে আসছে । কন্যা সন্তানের জীবন্ত কবর, নারীর সমহরণ, সতীদাহ প্রথা আজও বিবেকবান মানুষকে শিহরিত করে ।
ইসলাম সকল যুগের সকল কুসংস্কারের বিরূদ্্বে এক নির্ভীক প্রতিবাদ । ছেলে সন্তানের ন্যায় কন্যা সন্তানেরও বেঁচে থাকার অধিকার সহ নারীদের সকল অধিকার ইসলাম নিশ্চিত করেছে । আল্লাহ তায়ালা বলেছেন ঃ
''হে নারী-পুরূষরা ! তোমরা পরস্পরের অংশ'' । (সুরা আল ইমরান ঃ 195)
তবে আল্লাহ পাক নারী ও পুরূষের কর্ম ক্ষেত্র ভিন্ন ভিন্ন করে নির্ধারন করেছেন । কারন তিনি নারী ও পুরূষকে বৈসাদৃশ্যময় দেহ দান করেছেন । আলাদা আলাদা শক্তি দিয়েছেন, অভ্যাস ও স্বভাব দিয়েছেন । দিয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা । যাকে মা-হওয়ার ক্ষমতা দিয়েছেন, তাকে ধর্য্য ও সহনশীলতা দান করেছেন । তার মেজাজ কোমলতা সৃষ্টি করেছেন । তাদের হৃদয়ে স্নেহ -মমতা , ভালোবাসা দিয়েছেন । যা না দিলে আপনি আমি ভালোয়-ভালোয় বড় হতে পারতামনা ।
''মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত'' এই হাদীসটিই সত্য উপলব্ধির জন্য যতেষ্ট । অন্য দিকে পুরূষকে নারীদের অভিভাবক করা হয়েছে ।
কারণ ঃ নারীরা দৈহিক ভাবে কিছুটা দুর্বল । আর এ জন্য হয়তো নারীর অধিকারগুলোকে পুরূষের হেফাযতে রেখে অধিক সংরক্ষিত করেছেন । কিন্ত পাশা পাশী এটাও বলে দিয়েছেন ঃ
'' আর পুরূষদের যেমন স্ত্রীদের উপর অধিকার রয়েছে, তেমনি ভাবে স্ত্রীদেরও ন্যায়সংগত অধিকার রয়েছে পুরূষের উপর '' ।(সুরা বাকারা ঃ 228)
পুরূষকে নারীদের অভিভাবক করা হয়েছে , আর এই অভিভাবকত্বের দাবীতে পুরূষরা নারীদের প্রতি অবিচার করে থাকেন । অথচ আল কোরআন পুরূষকে অভিভাবক করেছে এই জন্য যে, পুরূষ যেন নারীদের প্রতি যথাযথ ভাবে দায়িত্ব পালন করেন । এবং নারীদের অধিকার সঠিকভাবে সংরক্ষন করেন । নারীদের প্রতি মাত্রতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করার অধিকার পুরূষকে দেওয়া হয়নি । পুরূষ তার খেয়াল খুশি মত যা ইচ্ছা তা করতে পারবেনা । বরং পুরূষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে ,
''স্ত্রীদের সাথে সমীচীন পন্থায় উত্তম আচরণের সাথে জীবন-যাপন কর '' । (সুরা নিসা ঃ 19)
এখন এ অভিভাবকত্ব স্বৈরাচার মূলক ভাবে প্রয়োগ করার জন্য যদি বাংঙালি গৃহবধু ফারবিন আপা তার পাষন্ড স্বামীর হাতের পিটুনি খান ; তাহলে কোরআনের কি দোষ ?
দীক্ষক সাহেব ! বিদ্্বেষের বশবর্তী হয়ে নয় - সুসহ মস্তিস্কে চিন্তা করে জবাব দিবেন ।
শিক্ষা-দীক্ষা ও সমাজ গঠনেও ইসলাম নারীদের অধিকার দিয়েছে । এই জন্য নবীজী (সাঃ) নারীদেরকে নামাজ আদায় করতে মসজিদে যেতে বলতেন । বৃহত্তর কল্যাণের ক্ষেত্রে নিজেদের জড়িত ও মুসলিম উম্মাহর দাওয়াতে শরীক হতে বলতেন । কারণ তাহারা যেন দ্্বীন ও কল্যাণের শিক্ষা অর্জন করতে পারে । তবে শর্ত হল যেন তাহারা তাদের শরীর আবৃত করে যায় । একজন শিক্ষিতা মা'ই একটি সুসভ্য জাতি উপহার দিতে পারেন । তাই নবীজীর (সাঃ) পরিবারের সবাই শিক্ষা-দীক্ষায় অগ্রণী ছিলেন ।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন ঃ ''হে নবীর স্ত্রীগণ ! তোমাদের গৃহে যে আল্লাহর বাণী পাঠ করা হয় এবং হিকমত বা হাদীস পরিবেশন করা হয় , তা তোমরা স্মরণ কর-প্রচার কর '' । (সুরা আহযাব ঃ 34) নবীজীর (সাঃ) স্ত্রীরা তো অবশ্যই হাদীস ও শিক্ষা জ্ঞানের সাগর ছিলেনই -এমনকি জগত বিখ্যাত পন্ডিত হজরত আলী(রাঃ) নবীজীর দাসী হজরত মাইমুনা থেকেও শিক্ষা গ্রহন করেছেন ।
ইসলাম নারীকে পরিশ্রম করে ভোগ করার অধিকারও দিয়েছে । নবীজী (সাঃ) একজন তালাকপ্রাপ্তা মহিলাকে নিজের বাগানের খেজুর গাছের ডাল কেটে বিক্রয় করার অনুমতি দিয়েছিলেন । মহানবীর (সাঃ) সময়ে নারীগণ জীবিকার প্রয়োজনে ঘরের বাইরে, দোকানে, ক্ষেত-খামারে যেতেন । হজরত সাওদা (রাঃ) পর্দা করে গৃহ হতে দু'মাইল দূরে অবসহিত জমি থেকে খেজুর বীজ সংগ্রহ করে আনতেন ।
যা হোক , নারীর অধিকার ও মর্যাদা বিষয়ক এই সংক্ষিপ্ত আলোচনাটির সমাপ্তি এখানেই টানা যায় যে, ইসলামের দৃষ্টিভঙি দ্্বারা নারীর অধিকার ও মর্যাদা সুস্পষ্ট ভাবে সংরক্ষিত । যার সুফল আপনার-আমার ব্যাঙের আধুলি পরিমান জ্ঞান দিয়ে বুঝা সম্ভব নয় । যার দ্্বারা এ মর্যাদার প্রতি কটাক্ষ করা আল্লাহর সাথে বিদ্রোহ করারই নামান্তর ।
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০০৬ দুপুর ১:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


