somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলামের দৃষ্টিতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা

২০ শে মার্চ, ২০০৬ দুপুর ১২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোন বিশেষ জাতি বলতে যে জনসমাজ বোঝায় তার মধ্যে নারী ও পুরূষ উভয়ের সহান বিদ্যমান । শুধু পুরূষ নিয়ে যেমন সমাজ হতে পারেনা, তেমনি শুধু নারীকে দিয়েও সমাজ কল্পনা করা যায়না । কিন্ত দুঃখের বিষয় ঃ সেই আদি যুগ থেকে শুরূ করে আজ অবদি নারীরা নানা ভাবে নির্যাতিতা ও নিগৃহীতা হয়ে আসছে । কন্যা সন্তানের জীবন্ত কবর, নারীর সমহরণ, সতীদাহ প্রথা আজও বিবেকবান মানুষকে শিহরিত করে ।
ইসলাম সকল যুগের সকল কুসংস্কারের বিরূদ্্বে এক নির্ভীক প্রতিবাদ । ছেলে সন্তানের ন্যায় কন্যা সন্তানেরও বেঁচে থাকার অধিকার সহ নারীদের সকল অধিকার ইসলাম নিশ্চিত করেছে । আল্লাহ তায়ালা বলেছেন ঃ
''হে নারী-পুরূষরা ! তোমরা পরস্পরের অংশ'' । (সুরা আল ইমরান ঃ 195)
তবে আল্লাহ পাক নারী ও পুরূষের কর্ম ক্ষেত্র ভিন্ন ভিন্ন করে নির্ধারন করেছেন । কারন তিনি নারী ও পুরূষকে বৈসাদৃশ্যময় দেহ দান করেছেন । আলাদা আলাদা শক্তি দিয়েছেন, অভ্যাস ও স্বভাব দিয়েছেন । দিয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা । যাকে মা-হওয়ার ক্ষমতা দিয়েছেন, তাকে ধর্য্য ও সহনশীলতা দান করেছেন । তার মেজাজ কোমলতা সৃষ্টি করেছেন । তাদের হৃদয়ে স্নেহ -মমতা , ভালোবাসা দিয়েছেন । যা না দিলে আপনি আমি ভালোয়-ভালোয় বড় হতে পারতামনা ।
''মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত'' এই হাদীসটিই সত্য উপলব্ধির জন্য যতেষ্ট । অন্য দিকে পুরূষকে নারীদের অভিভাবক করা হয়েছে ।
কারণ ঃ নারীরা দৈহিক ভাবে কিছুটা দুর্বল । আর এ জন্য হয়তো নারীর অধিকারগুলোকে পুরূষের হেফাযতে রেখে অধিক সংরক্ষিত করেছেন । কিন্ত পাশা পাশী এটাও বলে দিয়েছেন ঃ
'' আর পুরূষদের যেমন স্ত্রীদের উপর অধিকার রয়েছে, তেমনি ভাবে স্ত্রীদেরও ন্যায়সংগত অধিকার রয়েছে পুরূষের উপর '' ।(সুরা বাকারা ঃ 228)

পুরূষকে নারীদের অভিভাবক করা হয়েছে , আর এই অভিভাবকত্বের দাবীতে পুরূষরা নারীদের প্রতি অবিচার করে থাকেন । অথচ আল কোরআন পুরূষকে অভিভাবক করেছে এই জন্য যে, পুরূষ যেন নারীদের প্রতি যথাযথ ভাবে দায়িত্ব পালন করেন । এবং নারীদের অধিকার সঠিকভাবে সংরক্ষন করেন । নারীদের প্রতি মাত্রতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করার অধিকার পুরূষকে দেওয়া হয়নি । পুরূষ তার খেয়াল খুশি মত যা ইচ্ছা তা করতে পারবেনা । বরং পুরূষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে ,
''স্ত্রীদের সাথে সমীচীন পন্থায় উত্তম আচরণের সাথে জীবন-যাপন কর '' । (সুরা নিসা ঃ 19)
এখন এ অভিভাবকত্ব স্বৈরাচার মূলক ভাবে প্রয়োগ করার জন্য যদি বাংঙালি গৃহবধু ফারবিন আপা তার পাষন্ড স্বামীর হাতের পিটুনি খান ; তাহলে কোরআনের কি দোষ ?
দীক্ষক সাহেব ! বিদ্্বেষের বশবর্তী হয়ে নয় - সুসহ মস্তিস্কে চিন্তা করে জবাব দিবেন ।

শিক্ষা-দীক্ষা ও সমাজ গঠনেও ইসলাম নারীদের অধিকার দিয়েছে । এই জন্য নবীজী (সাঃ) নারীদেরকে নামাজ আদায় করতে মসজিদে যেতে বলতেন । বৃহত্তর কল্যাণের ক্ষেত্রে নিজেদের জড়িত ও মুসলিম উম্মাহর দাওয়াতে শরীক হতে বলতেন । কারণ তাহারা যেন দ্্বীন ও কল্যাণের শিক্ষা অর্জন করতে পারে । তবে শর্ত হল যেন তাহারা তাদের শরীর আবৃত করে যায় । একজন শিক্ষিতা মা'ই একটি সুসভ্য জাতি উপহার দিতে পারেন । তাই নবীজীর (সাঃ) পরিবারের সবাই শিক্ষা-দীক্ষায় অগ্রণী ছিলেন ।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন ঃ ''হে নবীর স্ত্রীগণ ! তোমাদের গৃহে যে আল্লাহর বাণী পাঠ করা হয় এবং হিকমত বা হাদীস পরিবেশন করা হয় , তা তোমরা স্মরণ কর-প্রচার কর '' । (সুরা আহযাব ঃ 34) নবীজীর (সাঃ) স্ত্রীরা তো অবশ্যই হাদীস ও শিক্ষা জ্ঞানের সাগর ছিলেনই -এমনকি জগত বিখ্যাত পন্ডিত হজরত আলী(রাঃ) নবীজীর দাসী হজরত মাইমুনা থেকেও শিক্ষা গ্রহন করেছেন ।

ইসলাম নারীকে পরিশ্রম করে ভোগ করার অধিকারও দিয়েছে । নবীজী (সাঃ) একজন তালাকপ্রাপ্তা মহিলাকে নিজের বাগানের খেজুর গাছের ডাল কেটে বিক্রয় করার অনুমতি দিয়েছিলেন । মহানবীর (সাঃ) সময়ে নারীগণ জীবিকার প্রয়োজনে ঘরের বাইরে, দোকানে, ক্ষেত-খামারে যেতেন । হজরত সাওদা (রাঃ) পর্দা করে গৃহ হতে দু'মাইল দূরে অবসহিত জমি থেকে খেজুর বীজ সংগ্রহ করে আনতেন ।
যা হোক , নারীর অধিকার ও মর্যাদা বিষয়ক এই সংক্ষিপ্ত আলোচনাটির সমাপ্তি এখানেই টানা যায় যে, ইসলামের দৃষ্টিভঙি দ্্বারা নারীর অধিকার ও মর্যাদা সুস্পষ্ট ভাবে সংরক্ষিত । যার সুফল আপনার-আমার ব্যাঙের আধুলি পরিমান জ্ঞান দিয়ে বুঝা সম্ভব নয় । যার দ্্বারা এ মর্যাদার প্রতি কটাক্ষ করা আল্লাহর সাথে বিদ্রোহ করারই নামান্তর ।



[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০০৬ দুপুর ১:৩৯
২৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Victims of enforced disappearances পার্সন হিসেবে আমার বক্তব্য.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:২১

গত ২৫ এবং ২৬ এপ্রিল ২০২৬ এ মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার' এবং World Organization Against Torture (OMCT) এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় “The Prevention of Torture and the Implementation of UNCAT and... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×