গত ছুটিতে নিজের পছন্দে বিয়ে করেছিল । বউটা খুবি সন্দরী-যেন আকাশের চাঁদের মত । অতি মায়াবতী, প্রেমময়ী, হাসিতে মন কেড়ে নেয় । এসব আমার কথা নয় ; ফরহাদের মুখ থেকে শুনা তাঁর বউয়ের হাজারো প্রসংশা ।
ফরহাদকে নিয়ে মার্কেটে গেলাম । তাঁর বাবা-মা,ভাই-বোন এবং তাঁর বউয়ের জন্য কাপড়-ছোপড় কিনলাম । স্বর্ণের দোকান থেকে অনেক খুজা-খুজির পর 'এস'অক্ষরের একখানা মালা কিনলাম । কারণ ঃ তাঁর বউয়ের নামের প্রথম অক্ষর হল 'এস । মালা খানা হাতে পেয়ে তাঁর মন যেন কোথায় হারিয়ে গেল । প্রিয়তামা বউয়ের ছবিখানা যেন তাঁর চোঁখের সামনে ভেসে উঠল । তার কানের পাশে যেন দুলে উঠল প্রিয়ার অলক-কন্ডল, কব্জিতে বেজে উঠা কনকন রিনি ঝিনি ।
মৃদু ধমক দিলাম , বললাম-''আর চাঁরটা দিন সবুর করোনা ভাইটি ! তার পর বউয়ের সাথে প্রেম প্রেম খেলা করো ; যত মনে চায়,এখন বাসায় চল '' । বাসায় ফিরে খাওয়া দাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়লাম । গভীর রাতে উঠে বাথরূমে যাব - দেখি ! ফরহাদ মজলিস রূমে পায়চারী করছে । ঘুম আসছেনা , মনটা নাকি খুব উতলা হয়ে আছে । এমন তো কখনও হয়না ! সে বলে-''ভাইজান ! এই কয়টা দিন এভাবেই কাটাতে হবে , দেশে গেলে যত পারি আরামে ঘুমাব । বাবা-মা,ভাই-বোন ও বউটা যেন আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে ''।
সকাল বেলা আমাদের বাসার পাশে বাঙালী দোকানের জিতুভাই ফরহাদকে নাম ধরে ডাকছেন । দেশ থেকে ফোন এসেছে , জরূরী ফোন । সে তারা তারী চলে গেল । পিছে পিছে আমিও গেলাম । ফোনে কি যেন আলাপ করল ! হঠাৎ হাত থেকে ফোন খসে পড়ে গেল । অমঙল আশংকায় তার কাছে গেলাম । তার চোঁখে-মুখে বিষাদের ছাপ, কি হারানো বেদনা অনুভব করলাম । সে কাঁদছে ; আমি টেনে বাসায় নিয়ে আসলাম । তার পর যা শুনলাম ! যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে ।
কারণ ঃ তাঁর সেই প্রিয়তামা বউটি নাকি দূর সম্পর্কের এক খালাত্ব ভাইয়ের হাত ধরে পালিয়েছে । সে কাঁদছে আর বলছে '' ভাই জান ! আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে....সর্বনাশ....হয়ে গে..ছে । ফরহাদের কান্না দেখে আমিও চোঁখের পানি ধরে রাখতে পারিনি । শান্তনা দেওয়ার ভাষাটাও যেন হারিয়ে ফেলেছিলাম । তবুও টেনে টেনে এতটুকুই বলতে পেরেছিলম-''ফরহাদ দুঃখ করোনা ভাই , এ পৃথিবীতে বাঁচতে হলে তোমাকে জীবন সংগ্রামে জয়ী হতেই হবে'' ।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ১১:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


