প্রিয় ভাই বোনেরা ! সকলের সুস্বাসহ্যের কথা চিন্তা করে একটি বাংলা ম্যাগাজিন থেকে কাঁট-ছাঁট করে আপনাদের মঙলের জন্য এই লেখাটি পোষ্ট করলাম । অবশ্যই এতে আমার কোন কৃতিত্ব নেই ।
প্রকৃতি আপনাকে রোগ ঠেকানোর জন্যে দিচ্ছে এমন এক শক্তি, যা আপনার রোগ প্রতিরোধের ইমিউন সিস্টেমকে করে তুলছে পালোয়ানের মত শক্তিশালী । নিম্নে কিছু টিপস দেওয়া হল ।
(1) পর্যাপ্ত ঘুম দিন
ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের ভেতর মানুষের ইমিউন সিস্টেম বিশেষভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে । একটা মানুষ যদি রাতে সাত-আট ঘণ্টা ঘুম না দেয়, তাহলে তার অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় ।
(2) মজার ছবি দেখুন
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, হাসি আনন্দ মানুষের ইমিউন সিস্টেমকে সবল করে তুলতে পারে এবং ক্ষয় করতে পারে ইমিউন সিস্টেমকে দমিয়ে রাখার অপশক্তিকে। ইংল্যান্ডের এক ক্যান্সার সেন্টারে পাঁচ বছর ধরে এক গবেষণা চালিয়ে এক বিশেষজ্ঞ শেষতক এই সিদ্ধান্তে পেঁৗছেন, হাসি আনন্দ অনেকাংশে উজ্জীবিত করে থাকে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ।
(3) পানি পান করুন
বর্তমানে গোটা বিশ্বজুড়েই কোল্ড ড্রিংকের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা । আমাদের দেশেও অনেকে কোল্ড ড্রিংক বলতে অজ্ঞান । বিশেষ করে গরমের সময় ছেলে বুড়ো সবাই মেতে ওঠে কোল্ড ড্রিংক নিয়ে । বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কোল্ড ড্রিংক সাময়িকভাবে প্রাণ ঠাণ্ডা করলেও সত্যিকারে কাজের কাজ কিছু করে না । তারচেয়ে বরং এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পানে অনেক উপকার পাওয়া যায় । রোগ প্রতিরোধে যে মিউকাস মেমব্রেন কার্যকরী ভূমিকা রাখে, পানি সেগুলোকে আদর্্র এবং অধিক ফলদায়ক করে তোলে ।
(4) বাড়ির পরিবেশ পরীক্ষা করুন
পরিবেশের জন্যে সীসা একটি মারাত্মক হুমকি । ঢাকার বাতাসে প্রচুর সীসা রয়েছে বলে ঢাকাবাসীরা ডুবে আছে ব্যাপক বায়ুদূষণের ভেতর । এবার খেয়াল করে দেখুন, এই সীসা আপনার বাড়িতে কি পরিমাণ রয়েছে । যে সব রঙে সীসা থাকে, বাড়িঘরে সে সব রঙ লাগালে স্বাস্থ্য হানি ঘটতে পারে । আবার সঁ্যাতসেঁতে কার্পেটে যে ছত্রাক পড়ে সেটাও স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর।
(5) খোশগল্প করুন
খোশগল্পের ফলে ঝরঝরে হয়ে ওঠে মন । আর মনের এই কল্যাণকর প্রভাব পড়ে শরীরে। অবসরে প্রিয় কোন বন্ধুর সাথে বসে আলাপ করুন । মজার মজার কত বিষয়ই তো আছে । এ ধরনের গল্পগুজবে মনে ধনাত্মক আবেগ সৃষ্টি হয় । মানবদেহে করসিটল নামে এক ধরনের হরমোন রয়েছে, যা ইমিউন সিস্টেমকে দমিয়ে রাখার জন্যে চাপ দেয় । ঘনিষ্ঠ কারও কাছে কথা বলে মন হালকা করলে এবং হাসিখুশি থাকলে কমে আসে এই করসিটলের স্তর । মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ভাল বোধ করাটা শরীরের জন্যে ভাল। মনের আনন্দ ইমিউন সিস্টেমকে যেমন শক্তিশালী করে, তেমনি মানুষকে করে দীর্ঘজীবী ।
(6) প্রার্থনা করুন বা ধ্যানে বসে যান
শরীরের সাথে মনের সম্পর্ক নিবিড় । একটিকে বাদ দিয়ে আরেকটির কথা ভাবা যায় না। মন ভাল থাকলে শরীর ভাল । আবার শরীর ভাল থাকলে মানসিক অস্থিরতার সময় অটল থাকা যায় । মনস্তত্ত্ববিদরা বলেছেন, মন ভাল করার বা মানসিক চাপ কমানোর উত্তম উপায় হচ্ছে_প্রার্থনা করা, ধ্যানে বসে যাওয়া । তবে এই প্রার্থনা বা ধ্যান অবশ্যই যেন আপনার দৈনন্দিন জীবনের একটা অর্থবহ অংশ হয় ।
(7) সামুদ্রিক খাবার খান
সী ফুড বা সামুদ্রিক খাবার অনেকেরই পছন্দ । কিন্তু এখাবার সহজলভ্য নয়। আর যাও বা পাওয়া যায়, দাম খুব বেশি । এরপরেও সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ নেয়ার সুযোগ পেলে হাতছাড়া করবেন না । সামুদ্রিক খাবারগুলোতে রয়েছে আয়রন, জিঙ্ক, সেলিনিয়াম, কপার এবং ম্যাগনেসিয়াম_যে সব জিনিস আপনার ইমিউন সিস্টেমের জন্যে ভাল কাজ দেবে ।
(8) নিয়মিত হাঁটুন
হাঁটা একটা উত্তম ব্যায়াম । নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করলে শরীর যেমন ঝরঝরে লাগে, তেমনি মনও থাকে ফুরফুরে । প্রতিদিন জোর কদমে গড়ে 45 মিনিট করে হাঁটুন । পুরো সপ্তা এভাবে চালিয়ে যেতে না পারলে অন্তত 5টা দিন মেনে চলুন এ নিয়ম । দেখবেন, আপনার ইমিউন সিস্টেম যেমন সবল হয়ে উঠেছে, তেমনি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও কমে গেছে প্রায় অর্ধেক । হাঁটার সময় পারলে একটা ওয়াকম্যান নেবেন সঙ্গে। হাঁটতে হাঁটতে প্রিয় কোন গান শুনবেন । গবেষণায় দেখা গেছে, প্রিয় সুরের মূর্ছনা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উজ্জীবিত করে। তাতে ইমিউন সিস্টেমের কার্যকারিতা চলে আসতে পারে 'এ' লেভেলে ।
(9) একটু-আধটু কলজে খান
গরু, খাসি বা মুরগির কলজে অনেকেরই বেশ পছন্দ । ইমিউন সিস্টেমকে সবল করে তোলার সব ধরনের উপাদান পুরো মাত্রায় রয়েছে কলজের ভেতর । কলজের যে সব উপাদান রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় কাজে লেগে থাকে, সেগুলো হচ্ছে_সেলিনিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, কপার, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি-6 এবং বি-12 । তবে কলজের ভেতর মুরগির কলজে খাওয়াই ভাল ।
(10) ভালবাসার শক্তি দিয়ে রোগ তাড়ান
ভালবাসার দুর্বার শক্তির কথা কার না জানা আছে । এই শক্তিটাকে আপনি কাজে লাগাতে পারেন রোগ প্রতিরোধেও । গবেষণায় দেখা গেছে, স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক ভালবাসা দু'জনের ইমিউন সিস্টেমের জন্যে যথেষ্ট উপকারী। সেই সঙ্গে সপ্তায় দু'একবার যদি একান্ত ব্যাপারটিও ঘটে, তাহলে তো আরও ভাল । এর ফলে ইমিউন সিস্টেমের এ-লেভেলের শক্তি বেড়ে যায়, রক্তের বি-সেল থেকে রোগজীবাণু হঠানো অ্যান্টিবডি নিঃসৃত হয় ।
(11) মনের সুখে তান ধরুন
কখনও গান গায়নি এমন মানুষ পৃথিবীতে নেই । মায়ের পেট থেকে পড়েই মানুষ টঁ্যা-টঁ্যা শুরু করে দেয়। এটাও এক ধরনের গান । চূড়ান্ত রকমের গম্ভীর লোককেও দেখা গেছে বাথরুম সিঙ্গার সাজতে । গানের মাধ্যমে মানুষের মনের নানা রকম প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পেয়ে থাকে। তবে মনের আনন্দে গান গাওয়াটাই শ্রেয় । ইমিউন সিস্টেমের একটা পর্যায় রয়েছে ইমিউনোগ্লোবিন-এ নামে । এ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ স্যালাইভেরি লেভেলকে বাড়িয়ে তোলে সঙ্গীত।
(12) অ্যালকোহল ছেড়ে দিন
অ্যালকোহলের বদঅভ্যাস যাদের রয়েছে, ছেড়ে দিন মদ্যপান। কারণ বেশিরভাগ মদ ইমিউন সিস্টেমে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে থাকে । একান্ত যদি মদটাকে বিসর্জন নাই দিতে পারেন, তাহলে শুধু রেড ওয়াইনটাকে বেছে নিন। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, রেড ওয়াইন বরং ইমিউন সিস্টেমের উপকারই করে থাকে । এমনকি হৃৎপিণ্ডের জন্যেও ভাল ।
(13) বেশি করে গমের খাবার খান
আগুনে সেঁকা শস্য জাতীয় খাবার স্বাস্থ্যের জন্যে ভাল । সেখানে এক নম্বরে এসে যায় গমের রুটি। গমের সিরিয়ালও খেতে পারেন। গম জাতীয় এসব খাবারে শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করার মত বিভিন্ন উপাদান রয়েছে। যেমন_ম্যাগনেসিয়াম, সেলিনিয়াম এবং জিঙ্ক । গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত গমের খাবার খেলে মেয়েদের সেক্স হরমোন ঈস্ট্রাডিওলের স্তরকে কমিয়ে আনে। হরমোন নির্ভর ক্যান্সারের সাথে যোগসূত্র রয়েছে এই হরমোনের ।
( মূল ঃ ইন্দ্র নীল )
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


