ছয় এপ্রিল ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ।
সেই পাখিদের সাথে আমার দূর সম্পর্কেরও পরিচয় ছিলো না।
কুষ্টিয়ার ধলনগরের অভয়াশ্রমে নিহত পাখিদের কোন হিসেবই রাখতাম না
যদি না সেখানে এদিন বৈশাখী ঝড়ের সহগামী পাপিষ্ট শিলা আমার প্রেমিকা কে
নির্মম ভাবে হত্যা না করতো।
আমার প্রেমিককার সাথে সেদিন নির্মমভাবে শহীদ হয় প্রায় দশ লাখ
দোয়েল, ঘুঘু, বনটিয়া, ভাত শালিক, গো-শালিক, বুজুর্গ ঝুটিশালিক ও অন্যান্যরা।
তোমার মৃত্যুতে আমার মাতম দেখতে এসে গ্রামবাসী আফসোস করে বলে,
হায়, আমাদের অভয়াশ্রমে আজ থেকে আর কোন পাঁখি ডাকবে না!
ক্ষতি বলতে তাদের যেনো এতোটুকুই।
তারা তোমার মৃত্যুর কষ্ট ভিন্ন উচ্চারণে মুখে তোলেনি।
গ্রামবাসীর প্রতি তথাপি আমার কোন অভিমান নেই,
অভয়াশ্রমে তাদের নিরাশ্রু উপস্থিতির জন্য তবুও আমি কৃতজ্ঞ।
আমি জানি সুদূর সাইবেরিয়া থেকে তুমি কেবল আমার ডাকে সাড়া দিতেই
এসেছিলে আমার জন্মভূমে, এই বাংলাদেশে।
আমার দেশ দেখে তুমি খুশিতে আত্মহারা, ঘুরেছিলে চৈতের রোদে পর্যটন বিনোদনে।
সেদিন অভয়াশ্রমে কালো রাত নেমে আসবে তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি।
তোমার মরদেহের পাশে সর্বহারা আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় বসেছিলাম বর্ষণের ঝরা পাতার সাথে।
হয়তো একদিন নির্মম ধবল শিলার প্রক্ষেপনে পিষ্ট হওয়া স্বপ্নের সাক্ষী হয়ে থাকবে
রাষ্ট্রীয় সকল শোক বইয়ের কালো পাতা ।
আমার কষ্ট দেখে ক্ষত বিক্ষত নির্বাক ঝরা পাতা অঝোরে কেঁদেছিলো।
পরিযায়ী, কেবল তুমি অভিমান করে ঘুমিয়ে থাকলে দশ লাখ মৃত পাখির সাথে,
মুখ তুলে দেখলে না ।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০১৬ দুপুর ১:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


