আমি আমার পাপিষ্ঠ ছায়া কে দস্তানার মতো শরীর থেকে খুলে ফেলেছি ।
এখন আমি ছায়াহীন আলপনার মতো বিচরণ করি বেশ্যালয়ে।
এখানে ছায়াময়ীরা কিভাবে বসন্ত বিকালে চায়ের কাপে চুমুক দেয়, সোনালু ফুলে সুখ ভেজায়
সন্ধ্যার আলোহীনতার সাথে আপস করে, আমি মনে মনে তার ছবি আঁকতে চাই।
একটু পিছনের কথা বলি, যেমন এখানে আমার নাগরিকতার কথা বলি।
একদা দরিদ্র নুলো পিতার কষ্টের ভার লাঘব করবে বলে
মা কে বলে কথা দিয়েছিলো হনুফা।
নদী ভাঙগা, আশ্রয়হীন দৈ খাওয়া চরের ত্রয়োদশী হনুফা
স্কুল পড়ুয়া ওর ছোট ভাই কে ফুটপাতের দোকান থেকে
একটি নতুন শার্ট কিনে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজের সন্ধানে গঞ্জে যায়।
সেখানেই নেমে আসে আঁধারের ছামিয়ানা, অস্তমিত হয় বিলক্ষণ স্বপ্নের সূর্য।
দালালের খপ্পরে পড়ে হনুফা।
চাকুরির বদলে ওরা বাধ্যতামূলকভাবে তার নাম লেখায় বারবনিতার খাতায়।
ইচ্ছে ছিলো সেদিনই পরাজিত সিগালের সাথে জাহাজের পিছে উড়ে উড়ে
প্রস্থান করি এ লোকালয়। এখানে আর ফিরবো না কোন দিন।
কোন দিন না।
আমার তা হয়ে ওঠেনি।
হনুফা কে পায়ে ঠেলে যেতে পারি নি কোথাও।
লড়াকু সৈনিকের মতো একটি মুক্তির স্বপ্ন সংক্রান্ত যুদ্ধ পিপাসা আমাকে গ্রাস করে নেয়।
একটা শার্টের আবদার আমাকে এ জাহান্নামে আঠার মতো আটকে রাখে।
আমি পড়ে থাকি বেশ্যালয়ে।
শিশু মুখের একটি শখের হাসির বাজার দর এ সমাজে কতো কে বলতে পারে!


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

