somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আত্মকেন্দ্রিকতা আর প্রযুক্তি ... পরিসর ক্ষুদ্র

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ বাসার সবাই একসাথে খেলা (ICC) দেখছিলাম। অনেক দিন পর সবাই একসাথে। এমনিতে সবাই যার যার কাজ নিয়ে ব্যাস্ত। বাকি সময় সবার হাতে যার যার মোবাইল ফোন। সরাসরি কথার চাইতে সবাই ফেইসবুকে কমেন্ট বক্স এ বেশি হয়।

মনে পরলো, একটা সময় ছিলো যখন আমাদের গ্রামে তিন- চার এলাকা মিলে একটি সার্কাস বা যাত্রাপালা হতো। সবাই মিলে যাওয়া হতো সেই যাত্রা আর সার্কাস দেখতে। আমি যেতাম বাবার হাত ধরে। তিন চার গ্রামের লোক একসাথে, একটা উদ্দেশ্যে। চেনা জানা হতো, কথা বার্তা হতো। বিনোদন সামাজিকতা একসাথে।

এলো টেলিভিশন। আনন্দ আর দেখে কে আমার! মিনা কার্টুন ছিলো আমার প্রিয়। শুক্রবারের সিনেমা আর আলিফ লায়লার কথা তো বলাই বাহুল্য। শুক্রবার এলে, টেলিভিশন বারান্দায় এনে রাখা হতো। উঠানে মাদুর মেতে দেয়া হত প্রতিবেশীদের জন্য। সবাই একসাথে একটা সিনেমা। মুখে পান নিয়ে পাড়ার চাচিরা মেতে উঠতেন সিনেমার শেষে নায়ক জসীম এর কী হবে, এসব নিয়ে। কী অদ্ভুত একটা সময়!

এলাকায় এলো বিদ্যুৎ। সাথে এলো ঘরে ঘরে টেলিভিশন। এখন আর কেউ কারো বাসায় গিয়ে টিভি দেখে না। আমাদের বাসার টিভিটা ছিলো দাদুর ঘরের ড্রয়িং রুম এ। আমাদের পরিবারে তখন সদস্য ১৭ জন। সবাই রাত ৮ টার খবর দেখতাম একসাথে। আর ফুপুদের সাথে বসে ছায়াছন্দ দেখাটা ছিলো আরেকটা প্রিয় কাজ। পারিবারিক মিলবন্ধন হয়ত একেই বলে।
এলাকায় এলো স্যাটেলাইট চ্যানেল। এক বাড়িতে একাধিক টিভি। কারো পছন্দ কার্টুন, কারো গানের চ্যানেল, কারো ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, কারো নাটক। একই বাড়িতে বিভিন্ন ঘরে বিভিন্ন চ্যানেল। কোনমতে একসাথে রান্না খাওয়া শেষ করেই যার যার ঘরে দৌড়; যার যার টিভির সামনে।

বাড়ি ছেড়ে এলাম শহরে। কলেজ হোস্টেল অনেক ছাত্র একসাথে থাকতাম। একসাথে আড্ডা, গলা মিলিয়ে গান, পাল্লা দিয়ে পড়াশোনা। একজনের সমস্যা মানে সবার সমস্যা। কেউ বিপদে পড়লে সবাই মিলে ছুটতাম। মোবাইল ফোন তখনও হাতে হাতে পৌছায় নি। চলতো প্রেমিকার সাথে চিঠি বিনিময়। কতো চিঠি যে লিখে দিয়েছে বন্ধুদের হিসেব নেই। ইন্টারনেট ছিল তথ্য আদান প্রদানের মাধ্যম। তখনও বিনোদন হিসেবে ইন্টারনেট জনপ্রিয় হয়নি। সকালে কে আগে সংবাদপত্র পরবে তা নিয়ে পাল্লা চলতো। ফেইসবুক এ ফ্রেন্ড ছিলো ৪০ জন; যার ৩২ জন ই ছিলো অপরিচিত বিদেশী।

কলেজ এর সীমানা পার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে এলাম। মেস বাসায় আমরা ৪ জন। একসাথে থাকা, খাওয়া, আড্ডা, ঘোরাঘুরি, তাস খেলা, ছাদে গান গাওয়া। কোথাও কনসার্ট হলেই চলে যেতাম দল বেঁধে। বাংলা গান ইন্টারনেট এ পাওয়া যেতো না। সবাই মিলে একটা সিডি কিনতাম। বাসায় কম্পিউটার মাত্র একটা। পাড়ার সিডির দোকান থেকে ডিভিডি ভাড়া করে মুভি দেখতাম সবাই মিলে। ব্রডব্যান্ড ছিলো ১২৮ কেবিপিএস এর। মেইল দেয়া নেয়া চলতো তাতে।
মোবাইল ইন্টারনেট এলো। সবাই ইন্টারনেট এ আগ্রহী। তারপরও একসাথে থাকা হতো বিভিন্ন কাজে।

প্রযুক্তির বিস্ফোরণ ঘটলো হঠাত। সিম্বিয়ান কে পেছনে ফেলে এগিয়ে এলো এন্ড্রয়েড। হাতে হাতে ফোন। যার যার নিজের কম্পিউটারও এলো। সবার কানে হেডফোন। যার যার নিজের জগত। পার্সোনাল একটা জগত সবার; নিজের কাছে বন্দী। প্রেম ভালোবাসা, দুঃখকষ্ট সব যার যার। শেয়ার বলতে মোবাইল ফোন আর পার্সোনাল কম্পিউটার এর বেঁধে দেয়া জায়গাগুলো। মানুষগুলো মেকি হতে লাগলো।

সবাই আজ বেশিই হতাশ।আজ আর সহানুভুতি, সমানানুভুতির স্থান নেই ; সবই যেনো লোক দেখানো। প্রযুক্তি অনেক কিছুই দিয়েছে, বিনিময়ে কেঁড়ে নিয়েছে অনেক বেশি। এতোটাই বেশি যে তা থেকে ফিরে আসা অসম্ভব। আমরা প্রযুক্তির সৃষ্টি করেছি আর আজ প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রন করছে আমাদের।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুপ্তদের সকল অপকর্মের তদন্ত হোক....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮


সময় যত যাচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে অস্বস্তিকর সত্য!
সময় গড়িয়ে যাচ্ছে- আর অতীতের অনেক ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্য ও তথ্য সামনে আসছে-
যেখানে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবির বিরুদ্ধে কবি

লিখেছেন অতন্দ্র সাখাওয়াত, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:১০

হে মৃত্যুহীন কবি,
কোন এক কোমল রাতে
তোমার সাথে পায়ে পায়ে
চলতে চাই হাজার বছর।
তারপর তুমি
মিলিয়ে যাবে তারার মাঝে —
তখন আমি লিখবো
তোমার না-লেখা পঙ্ক্তিমালা
কোন এক পূর্ণিমাতে।

হয়তো প্রথম পঙ্ক্তি হবে —
"সে তোমাকে ভালোবাসতো।"
তারপর সমুদ্রের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষকের মর্যাদা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৩


কবিতাটার কথা কি মনে আছে? বাদশাহ আলমগীর একদা প্রভাতে গিয়ে দেখলেন, শাহজাদা এক পাত্র হাতে নিয়ে শিক্ষকের চরণে পানি ঢালছে, আর শিক্ষক নিজ হাতে নিজের পায়ের ধূলি মুছে সাফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×