somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাবিতে বিএনপি-জামায়াত চক্রের গোপন মিশন:মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ক্ষেপিয়ে সরকার ও যুদ্ধাপরাধের বিচার বিরোধী আন্দোলন তৈরির লক্ষ্য

২৬ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে ছদ্মবেশী বিএনপি-জামায়াত চক্র মহাজোট সরকারকে ইসলাম বিরোধী প্রমাণ করে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্র পাকাপোক্ত করে ফেলেছে। এলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ভর্তি পরীক্ষায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বাদ দিতে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ এবং কলা ও মানবিকী অনুষদের সকল বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল বিষয়ে ২০০ নম্বর আবশ্যিক করে ভর্তির খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর নেপথ্যে বিএনপি-জামায়াত চক্রের যুদ্ধাপরাধের বিচার ও সরকার বিরোধী গণআন্দোলন তৈরির গোপন মিশন রয়েছে বলেও ওই সূত্রটি জানিয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী পন্থি শিক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিশ্বস্ত সূত্র মতে, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবির মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত জোটের পরাজয় ঘটে। এরপর তারা বিপুল ভোটে নির্বাচিত মহাজোট সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ইসলামবিরোধী আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচারসহ মিথ্যা অপবাদ আরোপ করতে থাকে। নতুন শিক্ষানীতির মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষাকে ঢেলে সাজানোর মাধ্যমে সরকার তাদের সেই প্রচারণা মিথ্যা প্রমাণিত করে। তবু থেমে নেই তারা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ভর্তি পরীক্ষাকে সামনে রেখে তারা নতুন গোপন এজেন্ডা হাতে নিয়ে মাঠে নেমেছে। স¤প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষায় কলা ও মানবিকী অনুষদ এবং সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের সকল বিভাগে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভর্তি ঠেকাতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল বিষয়ে ২০০ নম্বর আবশ্যিক যুক্ত করে ভর্তি পরীক্ষার খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। ওই দু’টি অনুষদে এর ফলে কারিগরি শিক্ষার্থীরাও ভর্তি হতে পারবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে ছদ্মবেশী ওই চক্রটির ধারণা, এর ফলে সরকারকে সহজে ইসলামবিরোধী প্রমাণ করে আন্দোলনকে জাতীয় পর্যায়ে রূপদান করা সহজ হবে।

কলা ও মানবিকী অনুষদের বিভাগগুলো হল; আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক, ইতিহাস, ইংরেজি, বাংলা, প্রতœতত্ত্ব, দর্শন এবং নাটক ও নাট্যতত্ত্ব। অন্যদিকে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের বিভাগগুলো হল; সরকার ও রাজনীতি, লোক প্রশাসন, ভূগোল ও পরিবেশ, নৃবিজ্ঞান, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা এবং অর্থনীতি।

এবিষয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘অনুষদ এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সুপারিশের মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন ইচ্ছা করলেই বিষয়টি পরিবর্তন করা যাবে না।’ এদিকে এই নিয়ম করার পেছনে কাদের ভূমিকা ছিল এবং কি উদ্দেশ্যে করা হল এ নিয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরাও তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রভাবশালী আওয়ামীপন্থী শিক্ষক এর কঠোর সমালোচনা করে কাজটি ছদ্মবেশী বিএনপি-জামায়াত চক্রের বলে দাবি করেন। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের ক্ষেপিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলন তৈরি এবং চলমান যুদ্ধাপরাধ ইস্যুটি বিতর্কিত করে তা বানচালের ষড়যন্ত্র এর নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছে বলে ওই শিক্ষকরা মত প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য যে, মাদ্রাসা ী কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে বাংলা ও ইংরেজিতে ১০০ নম্বর করে পড়ানো হয়। নতুন প্রবর্তিত এ নিয়ম অনুযায়ী যে সকল শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বাংলা ও ইংরেজিতে ২০০ নম্বরের কোর্স অধ্যয়ন করেনি তারা এ বছর কলা ও মানবিকী এবং সমাজ বিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি হতে পারবে না । ভর্তি পরীক্ষা ২৩ অক্টোর থেকে শুরু হবে।

সূত্র মতে, বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময়ের প্রশাসনে থাকা কয়েকজন কর্তাব্যক্তি বর্তমান প্রশাসনেও খবরদারি করছে। এদের মধ্যে ৬ জন সিনেট সদস্য, একাধিক হল প্রভোস্ট, একাডেমিক কাউন্সিলসহ বিভিন্ন পদে তারা প্রশাসন বিরোধীদের চর হিসাবে কাজ করছে। গত বিএনপি-জামায়াত প্রশাসনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সদস্য এবং বর্তমানে সিনেট সদস্য দর্শন বিভাগের সভাপতি ফরিদ আহমেদ এই নীতিমালা তৈরিতে নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা গেছে। ওই সময়ের উপাচার্যের ঘনিষ্ঠজন ফরিদ আহমেদ এখনও তার সাথে গোপনে যোগাযোগ রাখেন বলে বিএনপির একাধিক শিক্ষক জানিয়েছে। তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা আইনের আশ্রয় নিলে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়বে এবং ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যেতে পারে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন বেকায়দায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির এখনো নির্বাচিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র হিসেবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হতে পারে বলেও আওয়ামীপন্থী অনেক শিক্ষক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে এবারই প্রথমবারের মতো ভর্তি পরীক্ষার মূল আবেদনপত্র অনলাইনে বিনামূল্যে পাওয়া যাবে । এসআইএফ ফরম অগ্রণী ব্যাংকের গাবতলী, ফার্মগেট ও শাহবাগ জাদুঘর শাখায় ১ সেপ্টম্বর হতে ২৩ সেপ্টেম্বর (ছুটির দিন ব্যতীত) এবং অগ্রণী ব্যাংকের বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় ১ সেপ্টেম্বর হতে ২৭ সেপ্টেম্বর (ছুটির দিন ব্যতীত ) পাওয়া যাবে। প্রতিটি ফরমের মূল্য ধরা হয়েছে ৩০০ টাকা। ১০০ নম্বরের নির্বচনী প্রশ্নের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৩০ নম্বর কাটার নিয়মও এবারই প্রথম চালু হচ্ছে । এছাড়া বিস্তারিত তথ্য বিশ্ববিদ্যলয়ের ওয়েবসাইট ও পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানা যাবে ।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×