
যান্ত্রিকতার ডায়েরি
পরিবর্তন আমরা নিজেরাই দেখছি।
রুটিনে পড়েছে ভাঙন— বেশ কয়েকদিন ধরেই।
ভোরের এলার্ম বাজে আগের মতোই, শুধু এখন সুরটা রুগ্ন, এলোমেলো।
একাকিত্ব শুরুর আগে, সকাল সাতটা নিখুঁতভাবে বাজত মুমূর্ষু আঙুলে।
এখন শুধু বেজে চলে... ইঁদুরদৌড়ের সিগন্যাল।
পাঁচ মিনিটের স্নান। সকালের ঘোরেই শ্যামলা মেয়েটি চোখে আলতো ছুঁয়ে যায়,
তারপর আবারও স্নান...
তারপর দৌড়। বাথরুমের কাজ সারা। ঈষৎ বাসি অন্তর্বাস।
বেল্টের লুপ খুঁজতে খুঁজতে বাহনের সন্ধান— আকাঙ্ক্ষিত কোনো গন্তব্যে।
ভাড়া দেওয়া, জটলা, ঘামের গন্ধ, নামা, একটু দূরে বসা— কোনো ভাঙন নেই।
"এত বেশি কেন? ভালোটা দিন। পাঞ্চ করেন। চিনি ছাড়া দুধ-চা দিন।
একটু চিনি দিন। মামা, বিস্কুট কি আজকের? সিগারেট দিন। এক টাকা কম রাখলাম।"
"ইশ... আজ যদি ছুটি পেতাম!"
না, বিকেলেই আবার বেরুতে হবে। ঘুম কম হয়েছে।
কিছু শব্দ আস্ফালনের মতো কাঁদে, তারাও আতঙ্কে— "না বুঝি এটাই অমোঘ মৃত্যু!"
শব্দের মানুষগুলো এভাবেই দূরে সরে যায়... বহু দূরে।
হালিমের চায়ের দোকানায় জমেছে ম্লান ধুলোর আস্তরণ।
ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম— সব এক, সব একই রকম।
সব কথা এক, সব গল্প এক, সব ছবি এক, সব নাটক এক— মনখারাপের একঘেয়ে পুনরাবৃত্তি।
টেস্ট ক্রিকেটের আপডেটের মতো অপেক্ষা— পৃথিবীতে আজ কয়টা উইকেট পড়ল?
তুলনা চলে নিজের সঙ্গে... স্কোরবোর্ডে আজও ইতালিই প্রথম।
মানুষের মন ভেতরে ভেতরে শান্তি খোঁজে জুয়ার মতো— এক পাংশু ঈর্ষা।
প্রতিটি ওষ্ঠে, চোখে, গ্রীবায়, কথায়, ভাষায়—
বুঝতে পারি, মনের অসুখ বাসা বেঁধেছে।
বিচলিত ঠাণ্ডা কোটরে বিষদৃষ্টি— হিমোগ্লোবিন-নরাচরা সব একই রকম।
সভ্যতা এখন কন্ডোমের সেলে বন্দি।
মানুষের ঘরে মানুষ থাকে, শুধু এক অদ্ভুত সংকেতে আবদ্ধ—
বাবা সামনে, মা হেঁসেলে, সন্তান ব্যালকনিতে...
নয়তো একই ঘরে, একই ছন্দে বন্দি সবাই.
এখন বুঝতে পারছি অং সাং সুচির গৃহবন্দী থাকতে কেমন লাগতো?
নিঃসঙ্গ হাতির-ঝিল, অপেক্ষমাণ সন্ধ্যা, ১৯ চৈত্র ১৪২৬.....
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০২৫ সকাল ৭:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




