somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

☯ ☯ সোনার তরী ! ☯ ☯

২৩ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "সোনার তরী" কবিতাটি পড়ি নাই এমন শিক্ষিত বাঙালি পাওয়ার অনেক কষ্টের হবে। এই কবিতার প্রতি পদে পদে কবি ঢেকে দিয়েছেন রহস্যের কুয়াসা। রূপক এই কবিতাটি পড়লেই মন উদাস হয়ে যায়। আজ অনেক দিন পরে এই কবিতার কথাটি মনে পড়ল। কেন পড়ল সে কাহিনী পরে আগে চলুন ঐ কবিতার অংশ বিশেষ একটু পড়ে নেই-

"সোনার তরী"-
লিখেছেন "রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর"।


গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
রাশি রাশি ভারা ভারা ধান কাটা হল সারা,
ভরা নদী ক্ষুরধারা খরপরশা -----
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা ।।


একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা -----
চারি দিকে বাকা জল করিছে খেলা ।
পরপারে দেখি আকা তরুছায়ামসী-মাখা
গ্রামখানি মেঘে ঢাকা প্রভাতবেলা ।
এ পারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা ।।


গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে !
দেখে যেন মনে হয়, চিনি উহারে ।
ভরা পালে চলে যায়, কোনো দিকে নাহি চায়,
ঢেউগুলি নিরুপায় ভাঙ্গে দু ধারে ------
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে ।।


ওগো, তুমি কোথা যাও কোন বিদেশে ?
বারেক ভিরাও তরী কূলেতে এসে ।
যেয়ো যেথা যেতে চাও, যারে খুশি তারে দাও ----
শুধু তুমি নিয়ে যাও ক্ষণিক হেসে
আমার সোনার ধান কূলেতে এসে ।।


যত চাও তত লও তরণী-' পরে
আর আছে ? ---- আর নাই, দিয়েছি ভরে ।
এতকাল নদীকূলে যাহা লয়ে ছিনু ভুলে
সকলই দিলাম তুলে থরে বিথরে -----
এখন আমারে লহ করুণা ক'রে ।।


ঠাই নাই, ঠাই নাই, ছোটো সে তরী
আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি ।
শ্রাবণগগন ঘিরে ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে,
শূণ্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি ------

যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী ।।



ঢাকা এসে কি ঝামেলায় পড়ে গেলাম আল্লাহ ভাল জানে, এই ক্লাশ, এই এক্সাম, এই আত্মীয়ের বাসায় যাও, এই পুরানা ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করো। একটুও অবসর পাই না।
তারউপর আরেকটা ঝামেলা শুরু হল কদ্দিন বাদে বাদেই এইচ আর সি-(হেড অফিস) এ গিয়া বসে থাক্যা, কারন ওদের কাছে আমি কিছু আমার বকেয়া বেতন পাই। :(

যাই হোক আল্লাহর রহমতে তারা আমার পাওনা বেতনের বকেয়া কিছু টাকা চেকে করে দিয়েছে, ব্যাঙ্ক হল এইচ আর সি-র "ওয়ান ব্যাংক"। ওদের একটাই অফিস চিনি সেটা হল কাওরান বাজার।

তো আজ অনেক বৃষ্টি, দুপুর ১ টা বেজে গেছে। ব্যাংকের লেনদেন দুপুর ০২।৩০ তেই শেষ হয়ে যায়। তাই আর কি করা- বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বের হলাম, মনে হচ্ছে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি পড়ছে। ছাতা মাথায় দিয়েও কুল কিনারা পাচ্ছি না।

রিক্সা নিয়ে মেট্রো টাওয়ারের সামনে গেলাম, উদ্দেশ্য একটা সি এন জী নিয়ে কাওরান বাজার চলে যাব। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছি, কোন সি এন জী নেই। ভাগ্যিস থ্রি কোয়ার্টার পরে বের হইচিলাম নয়ত জিন্স পরলে ভিজে শক্ত হয়ে যেত। হটাৎ দেখলাম একটা বাইক একটা লোককে ধাক্কা দিতে গিয়ে পড়ে গেল। বাইক ফেলে দুইজন মিলে ঝগড়া লেগে গেল। এগুলা ঢাকার কমন একটা চিত্র, সবাই কেমন অভ্যস্ত এসব দেখে দেখে।

হটাৎ দেখলাম একটা ছেলে, ৭-৯ বছর হবে। খালি গায়ে বৃষ্টিতে ভিজছে। একটু মনোযোগ দিতেই দেখি ছেলেটা কাঁদছে, আর বাসের সামনে গিয়ে উঠতে চাইছে। বেশির ভাগ বাসের দরজা বন্ধ, কেউ তাকে নিতে চাইছে না। ছেলেটা পাগলের মত করে কাঁদছে। এভাবে প্রায় ৪/৫ টা বাসের দরজার সামনে গেল সে। কেউ তাকে বাসে উঠাতে রাজি নয়। ছেলেটি সমানে কেঁদে যাচ্ছে আর বৃষ্টিতে ছেলেটি ভিজছে।



একটা বাসের জানালা দিয়ে একটা আপু দুটা টাকার একটা নোট ছুড়ে দিল ছেলেটির দিকে, কিন্তু ছেলটী ফিরেও তাকাল না, আপুটা জানালা দিয়ে চিৎকার করে বলে উঠল- "এই পিচ্চি, টাকা নে।"
কিন্তু ছেলটী কাঁদতে কাঁদতে মাথা নাড়তে লাগলো, ছেলেটি বুঝাল তার টাকার দরকার নেই। খুব অবাক হলাম দৃশ্যটি দেখে। দুই টাকার নোট টা বৃষ্টির পানিতে ভেসে চলে গেল।


প্রথমেই আমার মনে হল এ ছেলেটি তার পরিবার থেকে হারিয়ে গেছে, তাই সে বাড়ি ফিরে যেতে চাইছে। একটু সামনে এগিয়ে গেলাম বৃষ্টি মাথায় নিয়ে। দূর থেক ছেলেটির চেহারা দেখে খুব কষ্ট হল। নিস্পাপ একটি ছেলে। এত আর্তনাদ করে কাঁদছে কেন ছেলেটি??


আমি ছেলেটির কাছে যেতে না যেতেই একটা বাসে ওকে তুলে নিল, তারপর বাসটী চলতে শুরু করল। আমার আর কথা বলা হল না ছেলেটির সাথে। তবুও আমি দূর থেকে খেয়াল করলাম। বেশ কিছু দূর গিয়ে বাসের কন্ট্রাক্টর হয়ত তার ভুল বুঝতে পেরেছিল। সে বাস থেকে ছেলেটিকে নামিয়ে দিল। এখন আমার আর ছেলেটির দূরত্ব অনেক। ছেলেটির সাথে কথা বলতে হবে কিন্তু ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি হাতে সময় নেই একেবারেই। দেরি হলে ব্যাংক আওয়ার পাব না, টাকা পাব না। টাকা না পেলে খুব সমস্যায় পড়ে যাব আমি।



একটা খালি সি এন জী খুজতে লাগলাম আমি। কথা বলা হল না ছেলেটির সাথে।

(আমাদের দিন দিন মানুষের প্রতি ভালবাসা কমে যাচ্ছে, আবেগ কমে যাচ্ছে, রোবট হয়ে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত)

=================================

লেখকের কথা- "জানি সোনার তরী কবিতা আর ছেলেটির মাঝে কোন মিল নেই। তবুও ছেলেটির বাসে উঠার অকুল আর্তনাদ আমার কাছে সবার আগে সোনার তরী কবিতার কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে।

এলোমেলো এই লেখাটি অনেকটা দিণলিপির মত হয়েছে বলে দুঃখিত, আসলে ব্লগে আগের মত সময় দেওয়া হয় না, পড়াশোনার অনেক চাপ।

ভাল থাকবেন সবাই।

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৫:১৪
৭৬টি মন্তব্য ৬১টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×