নবীদের (আ.) ইস্মাহ বা পাপশূন্যতা সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত। (আক্বিদা বিশ্বাস পর্ব)
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১২৪,০০০ মতান্তরে ২২৪,০০০ আম্বিয়ায়ে কেরামদের (আ.) উপর বিশ্বাস আনা প্রত্যেক মুসলমানদের কর্তব্য। কিন্তু এই নবীদের (আ.) ইস্মাহ ও পাপশূন্যতা নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে বিশেষ করে আহলে সুন্নাতের অনুসারীদের মধ্যে বিভিন্ন রকম দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়। এই দৃষ্টিভঙ্গিসমূহকে এক সাথে মূল চারটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। আর এদের প্রত্যেকটিতেই ওলামায়ে কেরামদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। অনেকেই এই মতামতের ব্যাপারে ইজমার দাবী করলেও এগুলোর বেশীর ভাগ অনির্ভরযোগ্য এবং তাতে যুক্তি প্রমানের ঘাটতি রয়েছে। এই চার প্রকার দৃষ্টিভঙ্গিসমূহ নিম্নরূপ:
১। আক্বিদা বিশ্বাস সম্পর্কে।
২। ইবলাগ ও তবলিগ (প্রচার কার্য) সম্পর্কে।
৩। ইফতাহ (ফতোওয়া দান) সম্পর্কে।
৪। নবীদের (আ.) অবস্থা ও কার্য কলাপ সম্পর্কে।
আমরা একের পর এক এসব নিয়ে আলোচনা করবো।
১। আক্বিদা বিশ্বাস সম্পর্কে: ওলামায়ে কেরামদের মধ্যে এ বিষয়ে যেসব আলোচনা হয়ে থাকে তা সাধারণত এই যে, নবীরা (আ.) কি দ্বীনি আক্বিদার দিক থেকে পাক ও পবিত্র রয়েছেন? নাকি তারা এমন সব কাজও করতে পারবেন যা ইসলামের আক্বিদা বিরোধী। উদাহরণস্বরূপ তারা কুফর ও শির্ককে উল্লেখ করেন। অর্থাৎ নবীরা (আ.) কি কাফের ও মুশরিক হতে পারেন?
ফাখরে রাযি ইজমার দাবী করে বলেন যে মুসলিম উম্মতের সবাই এ বিষয়ে একমত যে আম্বিয়ায়ে কেরাম (আ.) কুফর ও গুমরাহ্ হতে সম্পূর্ণভাবে পাপমুক্ত।(ফাখরে রাযি, ইসমাতুল আন্বিয়া, পৃষ্ঠা: ৬)।
কিন্তু খাওয়ারেজদের এযারেক্বা ফেরকা (মতান্তরে ফুজাইলিয়্যা) এই ইজমার বিরোধী মত পোষণ করে। তারা বলে: আম্বিয়ার পক্ষে কুফরি কাজ করা জায়েজ। (ফাখরে রাযি, ইস্মাতুল আন্বিয়া, পৃষ্ঠা: ৭; কাজি ওযুদুদ্দিন আল ইজি, শরহুল মওয়াকিফ, পৃষ্ঠা: ২৬৪)।
তাদের মতে সাধারণ গুনাহ বা পাপ হচ্ছে কুফরি কাজ আর কোরানের আয়াত মতে নবী রাসুলরা (আ.) পাপ করে থাকেন। তাছাড়া ইবনে আবিল হাদীদের মতে: “আল্লাহ এমন লোককে নবী করে পাঠাতে পারেন যে পূর্বে কাফের ছিল”।
অথবা “খোদা এমন লোককে নবী করে পাঠাতে পারেন যার সম্পর্কে তিনি জানেন যে নবুয়্যাতের পর সে কাফের হয়ে যাবে”। (কাজি ওযুদুদ্দিন আল ইজি, শরহুল মওয়াকিফ, পৃষ্ঠা: ২৬৪)।
ইবনে আবিল হাদীদের কথায় আশা’এরা হতে ইবনে ফাউরাক, ও বাক্বেলানি এবং আহলে হাদীস হতে হাশাউইয়্যার মতে: “হযরত মোহাম্মদ (সা.) বে’সতের (নবুয়্যাত প্রাপ্তির) পূর্বে কাফের ছিলেন”। প্রমাণস্বরূপ এ আয়াতটি উল্লেখ করে থাকে “وَوَجَدَكَ ضَالًّا فَهَدَى” আর তিনি তোমাকে দিশাহারা পান অতঃপর পথ প্রদর্শন করেন। সুরা দুহা:০৭।
আর নাজ্জারিয়্যার বরগুসের মতে: “নবী করিম (সা.) বে’সতের পূর্বে খোদার উপর ঈমান রাখতেন না”। প্রমাণস্বরূপ এ আয়াতটি উল্লেখ করেছে “مَا كُنْتَ تَدْرِی مَا الْكِتَابُ وَلَا الْإِیمَانُ” তুমি জানতে না কিতাব কি আর ঈমানকি? সুরা শুরা:৫২।
ইবনে আবিল হদীদের মতে এই সুরা আশ্ শরহের ২ নং আয়াতে “َوَضَعْنَا عَنْكَ وِزْرَكَ” উইয্র শব্দের অর্থ হল শির্ক।
মুসলমানদের অনেকের মতে: যা দুই ফেরেস্তার মাধ্যমে রাসুলের (সা.) বক্ষ চিরে পরিস্কার করা হয়েছে।
কার্রামিয়্যার অনেকের মতে: “إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قَالَ أَسْلَمْتُ” এই আয়াতে হযরত ইব্রাহীম নবীকে (আ.) মুসলমান হতে বলা হলে তিনি বলেন ইসলাম প্রহণ করলাম। সুরা বাকারা: ১৩১।
এখন কথা হল যার প্রতি ঈমান এনেই কোন ব্যক্তি মুসলমান হবে, সেই যদি হয় কাফের তাহলে মুসলমানের ঈমানের অবস্থা কি হতে পারে। তাছাড়া রাসুল (সা.) যদি পাপ কাজ করেন তাহলে উত্তম নমুনা হন কিভাবে? এ বিষয়ে বিস্তারীত আলোচনা আমরা পরবর্তীতে করব।
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ পাখির জগত

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোহভঙ্গ!

পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।