রাসূল (সাঃ) যে সমাজে এসেছেন তা পরিবর্তন করেছেন। তাঁর জীবদ্দশাতেই হিজাজের অধিকাংশ এলাকা এবং তার পাশের এলাকাসমূহ জাহেলিয়াত (অন্ধকার যুগ) থেকে ইসলামে প্রত্যাবর্তন করেছিল। তাঁর সময় যে সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা হচ্ছে অন্য সব সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। হয়রত মুহাম্মদ (সাঃ) সমাজ পরিবর্তনের জন্য যে পথ গ্রহণ করেছিলেন বস্তুতপক্ষে সেটা আমাদের সমাজ পরিবর্তনের জন্যও একমাত্র অনুকরণীয় পথ।
আল্লাহ্ সুবহানাহুতা’য়ালা বলেন,
“বলঃ এটাই আমার পথ, আমি সজ্ঞানে আমার প্রভুর দিকে ডাকি এবং আমাকে যারা
অনুসরণ করে তারাও।” [সূরা ইউসুফ:১০৮]
“আল্লাহ্ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের ভেতর
যা আছে তা পরিবর্তন করে।” [সূরা আর- রাআ’দ:১১]
কুরআনের এই আয়াতগুলোর সাথে সাথে আমাদেরকে রাসূল(সাঃ) এর জীবনের দিকেও (যা পুরোপুরি আল্লাহ্ সুবহানাহুতা’য়ালা কর্তৃক নাযিলকৃত ওহী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল) দৃষ্টিপাত
করতে হবে-তিনি নিজে কিভাবে এ কাজে ( আল্লাহ্ এই হুকুম পালনে) ব্যাপৃত হয়েছিলেন এবং তিনি যে সমাজে এসেছিলেন সে সমাজের ভেতর কি কি বিষয় পরিবর্তনের জন্য কাজ
করেছিলেন।
আমরা রাসূল(সাঃ)এর সীরাত এবং কুরআনের অনেক আয়াত থেকে পাই যে, সমাজ পরিবর্তনের জন্য সমাজের সবগুলো উপাদানের প্রতিই মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল। মক্কায় নাযিলকৃত আয়াতগুলো তর্কÑবিতর্ক ও প্রচুর যুক্তি ধারণ করে যা সমাজের ভেতরে বিরাজমান চিন্তা, অনুভূতি আর শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে আলোচনা ও প্রশ্নের ঝড় বইয়ে দিয়েছিল।
হয়রত মুহাম্মদ (সাঃ) ব্যক্তিদেরকে পরিবর্তনের জন্য তাদের কাছে ইসলাম নিয়ে গিয়েছিলেন
এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রাসূল (সাঃ) বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট ইসলাম নিয়ে গিয়েছিলেন। অনেকের সাথেই রাসূল (সাঃ)-এর ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ ছিল, তাদের কেউ ইসলাম গ্রহণ করেছে আবার কেউ বর্জন করেছে। প্রথমে তাঁর (সাঃ) স্ত্রী বিবি খাদিজা (রাঃ) ও তারপর পালিতপুত্র যায়েদ(রাঃ) ও চাচাতো ভাই আট বৎসরের বালক আলী (রাঃ) ইসলাম গ্রহন করেন। মক্কার ধনী-গরীব, বালক-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, সম্ভ্রান্তবংশীয়-ক্রীতদাস নির্বিশেষে সকলের কাছে তিনি (সাঃ) ইসলামের মহান বাণী তুলে ধরেন। অতঃপর যারা ইসলাম গ্রহন করেছিলেন তিনি (সাঃ) তাঁদেরকে অত্যন্ত যতড়বসহকারে ইসলামের সমস্ত রীতিনীতি শিক্ষা দেন এবং ভবিষ্যত কঠিন সময়ের জন্য ঈমান ও জ্ঞানগতভাবে প্রস্তুত করেন। বিশিষ্ট সাহাবী আরকাম (রাঃ) বাড়ীটি তখন নতুন মুসলমানদের দ্বীন শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
রাসুল (সাঃ) সামাজিক চিন্তা ও অনুভূতি পরিবর্তনের প্রতি মনোযোগ দেন
এসব ব্যক্তিগত দাওয়াত ছাড়াও কুরআন ও সুন্নাহ্ তৎকালীন মক্কী সমাজে প্রাধান্য বিস্তারকারী চিন্তা ও অনুভূতিগুলোর পরিবর্তনের প্রতি নির্দেশ করে। যেমন-মহানবী (সাঃ)এর সময় অনেক পৌত্তলিক অস্বীকার করেনি যে তাদেরকে আল্লাহ্ সুবহানাহুতা’য়ালা তৈরী করেছেন। তারা মুর্তি- পূজাকে আল্লাহ্ ও তাদের মধ্যে সম্পর্কের একটি উপায় বলে মনে করত। কুরাইশদের মধ্যে একটি প্রবল চিন্তা ছিল যে, আল্লাহ্ সুবহানাহুতা’য়ালা আছেন এবং তাঁর কন্যা সন্তান আছে, যাদের প্রশংসা পাওয়ার ন্যায্য অধিকারও আছে (নাউযুবিল্লাহ্)। এই ধারণাটি নিম্নের আয়াতগুলোতে আলোচিত হয়েছেঃ
“তুমি যদি তাদের জিজ্ঞেস কর, আকাশ ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে,
আল্লাহ্। বল, সকল প্রশংসাই আল্লাহ্। কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।”
[সূরা লুক্বমান্ : ২৫]
“ জিজ্ঞেস কর, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পালনকর্তা কে? বলঃ আল্লাহ্। বলঃ তবে কি তোমরা আল্লাহ্ ব্যতীত এমন অভিভাবক স্থির করেছ, যারা নিজেদের ভাল মন্দেরও মালিক নয়? বলঃ অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হয়? অথবা কোথাও কি অন্ধকার আলোর সমান হয়? তবে কি তারা আল্লাহ্ জন্য এমন অংশীদার স্থির করেছে যে, যারা কিছু সৃষ্টি করেছে, যেমন সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ্? অতঃপর তাদের সৃষ্টি এরূপ বিভ্রান্তি ঘটিয়েছে ? বলঃ আল্লাহ্ প্রত্যেক বস্তুর স্রষ্টা এবং তিনি একক, পরাক্রমশালী।”
[সূরা আর- রাআ’দঃ ১৬]
“নিষ্ঠাপূর্ণ ইবাদত শুধু আল−াহ্রই জন্য। যারা আল্লাহ্ ব্যতীত অপরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে এবং বলে যে, আমরা তাদের ইবাদত এজন্য করি যেন তারা আমাদের আল্লাহ্ নিকটবর্তী করে দেয়। নিশ্চয় আল্লাহ্ ফয়সালা করে দিবেন যে বিষয়ে তারা বিরোধ করে। আল্লাহ্ মিথ্যাবাদী কাফেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না। ” [ সূরা আয্ যুমারঃ ৩]
“তারা কি আপনা আপনিই সৃষ্টি হয়েছে না তারা নিজেরাই স্রষ্টা? না তারা আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে? বরং তারা কোন কিছু সম্পর্কেই নিশ্চিত নয়।” [সূরা তূ-রঃ ৩৫-৩৬]
অন্য একটি ধারণা তখন অনেককের মাঝেই প্রচলিত ছিল (এখনও অনেকের মাঝে প্রচলিত) যা আসলে বস্তুবাদের মূল মতবাদ। আল্লাহ্ সুবহানাহুতা’য়ালা তদের দৃষ্টিভঙ্গিকে সংক্ষিপ্ত করে উপস্থাপন করেছেন এবং নিম্নোক্তভাবে তার প্রত্ত্যুত্তর করেছেন,
“তারা বলে আমাদের পার্থিব জীবনইতো শেষ; আমি মরি ও বাঁচি, মহাকালই আমাদেরকে ধ্বংস করে। তাদের কাছে এ ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই; তারা কেবল অনুমান করে কথা বলে।”
[ সূরা আল্- জ্বাছিয়াহ্: ২৪]
[চলবে]
***আর্দশ সমাজ প্রতিষ্ঠার ইসলামি পদ্ধতি (র্পব -১)-
Click This Link
***আর্দশ সমাজ প্রতষ্ঠিার ইসলামি পদ্ধতি (র্পব -২)- Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



