somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার ইসলামি পদ্ধতি (পর্ব -৩)

০৫ ই মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাসূল (সাঃ) যে সমাজে এসেছেন তা পরিবর্তন করেছেন। তাঁর জীবদ্দশাতেই হিজাজের অধিকাংশ এলাকা এবং তার পাশের এলাকাসমূহ জাহেলিয়াত (অন্ধকার যুগ) থেকে ইসলামে প্রত্যাবর্তন করেছিল। তাঁর সময় যে সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা হচ্ছে অন্য সব সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। হয়রত মুহাম্মদ (সাঃ) সমাজ পরিবর্তনের জন্য যে পথ গ্রহণ করেছিলেন বস্তুতপক্ষে সেটা আমাদের সমাজ পরিবর্তনের জন্যও একমাত্র অনুকরণীয় পথ।
আল্লাহ্‌ সুবহানাহুতা’য়ালা বলেন,

“বলঃ এটাই আমার পথ, আমি সজ্ঞানে আমার প্রভুর দিকে ডাকি এবং আমাকে যারা
অনুসরণ করে তারাও।”
[সূরা ইউসুফ:১০৮]

“আল্লাহ্‌ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের ভেতর
যা আছে তা পরিবর্তন করে।”
[সূরা আর- রাআ’দ:১১]

কুরআনের এই আয়াতগুলোর সাথে সাথে আমাদেরকে রাসূল(সাঃ) এর জীবনের দিকেও (যা পুরোপুরি আল্লাহ্‌ সুবহানাহুতা’য়ালা কর্তৃক নাযিলকৃত ওহী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল) দৃষ্টিপাত
করতে হবে-তিনি নিজে কিভাবে এ কাজে ( আল্লাহ্‌ এই হুকুম পালনে) ব্যাপৃত হয়েছিলেন এবং তিনি যে সমাজে এসেছিলেন সে সমাজের ভেতর কি কি বিষয় পরিবর্তনের জন্য কাজ
করেছিলেন।

আমরা রাসূল(সাঃ)এর সীরাত এবং কুরআনের অনেক আয়াত থেকে পাই যে, সমাজ পরিবর্তনের জন্য সমাজের সবগুলো উপাদানের প্রতিই মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল। মক্কায় নাযিলকৃত আয়াতগুলো তর্কÑবিতর্ক ও প্রচুর যুক্তি ধারণ করে যা সমাজের ভেতরে বিরাজমান চিন্তা, অনুভূতি আর শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে আলোচনা ও প্রশ্নের ঝড় বইয়ে দিয়েছিল।


হয়রত মুহাম্মদ (সাঃ) ব্যক্তিদেরকে পরিবর্তনের জন্য তাদের কাছে ইসলাম নিয়ে গিয়েছিলেন

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রাসূল (সাঃ) বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট ইসলাম নিয়ে গিয়েছিলেন। অনেকের সাথেই রাসূল (সাঃ)-এর ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ ছিল, তাদের কেউ ইসলাম গ্রহণ করেছে আবার কেউ বর্জন করেছে। প্রথমে তাঁর (সাঃ) স্ত্রী বিবি খাদিজা (রাঃ) ও তারপর পালিতপুত্র যায়েদ(রাঃ) ও চাচাতো ভাই আট বৎসরের বালক আলী (রাঃ) ইসলাম গ্রহন করেন। মক্কার ধনী-গরীব, বালক-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, সম্ভ্রান্তবংশীয়-ক্রীতদাস নির্বিশেষে সকলের কাছে তিনি (সাঃ) ইসলামের মহান বাণী তুলে ধরেন। অতঃপর যারা ইসলাম গ্রহন করেছিলেন তিনি (সাঃ) তাঁদেরকে অত্যন্ত যতড়বসহকারে ইসলামের সমস্ত রীতিনীতি শিক্ষা দেন এবং ভবিষ্যত কঠিন সময়ের জন্য ঈমান ও জ্ঞানগতভাবে প্রস্তুত করেন। বিশিষ্ট সাহাবী আরকাম (রাঃ) বাড়ীটি তখন নতুন মুসলমানদের দ্বীন শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।


রাসুল (সাঃ) সামাজিক চিন্তা ও অনুভূতি পরিবর্তনের প্রতি মনোযোগ দেন


এসব ব্যক্তিগত দাওয়াত ছাড়াও কুরআন ও সুন্নাহ্ তৎকালীন মক্কী সমাজে প্রাধান্য বিস্তারকারী চিন্তা ও অনুভূতিগুলোর পরিবর্তনের প্রতি নির্দেশ করে। যেমন-মহানবী (সাঃ)এর সময় অনেক পৌত্তলিক অস্বীকার করেনি যে তাদেরকে আল্লাহ্‌ সুবহানাহুতা’য়ালা তৈরী করেছেন। তারা মুর্তি- পূজাকে আল্লাহ্‌ ও তাদের মধ্যে সম্পর্কের একটি উপায় বলে মনে করত। কুরাইশদের মধ্যে একটি প্রবল চিন্তা ছিল যে, আল্লাহ্‌ সুবহানাহুতা’য়ালা আছেন এবং তাঁর কন্যা সন্তান আছে, যাদের প্রশংসা পাওয়ার ন্যায্য অধিকারও আছে (নাউযুবিল্লাহ্‌)। এই ধারণাটি নিম্নের আয়াতগুলোতে আলোচিত হয়েছেঃ

“তুমি যদি তাদের জিজ্ঞেস কর, আকাশ ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে,
আল্লাহ্‌। বল, সকল প্রশংসাই আল্লাহ্‌। কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।”

[সূরা লুক্বমান্ : ২৫]

“ জিজ্ঞেস কর, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পালনকর্তা কে? বলঃ আল্লাহ্‌। বলঃ তবে কি তোমরা আল্লাহ্‌ ব্যতীত এমন অভিভাবক স্থির করেছ, যারা নিজেদের ভাল মন্দেরও মালিক নয়? বলঃ অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হয়? অথবা কোথাও কি অন্ধকার আলোর সমান হয়? তবে কি তারা আল্লাহ্‌ জন্য এমন অংশীদার স্থির করেছে যে, যারা কিছু সৃষ্টি করেছে, যেমন সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ্‌? অতঃপর তাদের সৃষ্টি এরূপ বিভ্রান্তি ঘটিয়েছে ? বলঃ আল্লাহ্‌ প্রত্যেক বস্তুর স্রষ্টা এবং তিনি একক, পরাক্রমশালী।”
[সূরা আর- রাআ’দঃ ১৬]

“নিষ্ঠাপূর্ণ ইবাদত শুধু আল−াহ্রই জন্য। যারা আল্লাহ্‌ ব্যতীত অপরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে এবং বলে যে, আমরা তাদের ইবাদত এজন্য করি যেন তারা আমাদের আল্লাহ্‌ নিকটবর্তী করে দেয়। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ ফয়সালা করে দিবেন যে বিষয়ে তারা বিরোধ করে। আল্লাহ্‌ মিথ্যাবাদী কাফেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না। ” [ সূরা আয্ যুমারঃ ৩]

“তারা কি আপনা আপনিই সৃষ্টি হয়েছে না তারা নিজেরাই স্রষ্টা? না তারা আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে? বরং তারা কোন কিছু সম্পর্কেই নিশ্চিত নয়।” [সূরা তূ-রঃ ৩৫-৩৬]

অন্য একটি ধারণা তখন অনেককের মাঝেই প্রচলিত ছিল (এখনও অনেকের মাঝে প্রচলিত) যা আসলে বস্তুবাদের মূল মতবাদ। আল্লাহ্‌ সুবহানাহুতা’য়ালা তদের দৃষ্টিভঙ্গিকে সংক্ষিপ্ত করে উপস্থাপন করেছেন এবং নিম্নোক্তভাবে তার প্রত্ত্যুত্তর করেছেন,

“তারা বলে আমাদের পার্থিব জীবনইতো শেষ; আমি মরি ও বাঁচি, মহাকালই আমাদেরকে ধ্বংস করে। তাদের কাছে এ ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই; তারা কেবল অনুমান করে কথা বলে।”
[ সূরা আল্- জ্বাছিয়াহ্: ২৪]

[চলবে]

***আর্দশ সমাজ প্রতিষ্ঠার ইসলামি পদ্ধতি (র্পব -১)-

Click This Link
***আর্দশ সমাজ প্রতষ্ঠিার ইসলামি পদ্ধতি (র্পব -২)- Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×