somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন হুমায়ুন আহমেদ

৩১ শে জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হুমায়ুন আহমেদের মোটামুটি সব বইই আমার পড়া। আমার পড়া উনার প্রথম উপন্যাস "নন্দিত নরকে"। মনে পড়ে তখন আমি ক্লাশ নাইনে। অ্যাডভেন্চার আর রহস্য গল্পের ভীড়ে উনার এ উপন্যাস পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম। উনার উপন্যাসের বিশেষত্ব হল উপন্যাসের নির্দিষ্ট কোন উপসংহার থাকে না। উপসংহার ছেড়ে দেওয়া হয় পাঠকের কল্পনার উপর। উনার উপন্যাস জনপ্রিয় হয় একারণে যে সাধারণ ভাষার মোড়কে থাকে, তাতে থাকে সাধারণ জীবনের মজার কিছু ঘটনার ছোট্ট বর্ণণা, যার কারণে উপন্যাস হয়ে উঠে মজার, অনেকটা জমজমাট আড্ডার মত। সাধারণ ভাষার মোড়কে এজন্যই বললাম যে, কেউ যদি ভালভাবে পড়েন তাহলে বুজবেন এর আড়ালে লুকিয়ে আছে মানবিক আবেগ ( মধ্যবিত্ত শিক্ষিত দেহপসারিণীর আবেগ যেমন প্রকাশ পেয়েছে মর্মস্পর্শী ভাবে কিছু লেখায়), স্যটায়ার ( হলুদ হিমু কলো র্যাব)। লেখক হিসাবে মনে হয়েছে উনি মুক্তপন্থী ( উনার চিন্তাকে আবদ্ধ করতে চান না), অনেকগুলা স্বত্তাকে ধারণ করতে চান-জটিল মনস্বত্ত, পরাবাস্তব, অলৌকিকতা উনার আগ্রহের বিষয়। যখন তিনি তৈরী করছেন তুই রাজাকার কথাটা- নিশ্চয়ই উনার আগ্রহ হয়েছে রাজাকার এর মনস্বত্ত জানার। অনেকগুলা স্বত্তাকে ধারণ করার চেষ্টা হিসাবে তিনি তৈরী করছেন হিমু চরিত্রকে বিশ্বাসী হিসাবে, অন্যদিকে সংশয়বাদী হিসাবে তৈরী করেছেন মিসির আলী চরিত্রকে। এরকম পারষ্পরিক সাংঘর্ষিক স্বত্তাকে ধারণ করে লেখা খুব কম লেখকের পক্ষেই সম্ভব। জাতি হিসাবে আমরা নম্র, প্রাচীনকাল থেকে ভাববাদ/সুফি/আধ্যত্বিকবাদ এ সাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এ জাতির একজন হিসাবে তাই তার উপন্যাসে উগ্র দৈহিক প্রেম থেকে প্রশস্তিরমানসিক প্রেম উঠে এসেছে বেশী। এটাও উনার জনপ্রিয়তার আরেক কারণ হয়ত। আর উনার সায়েন্স ফিকশনের কথা যদি বলতে হয়, তাহলে এককথায় বলতে হয় আন্তর্জাতিকমানের ও উচ্চমার্গীয়, সবার পক্ষে এরকম লেখা তো দূরে থাক, বোঝাও অসম্ভব।
এরকম বহুস্বত্তাকে ধারণকারী একজন হুমায়ুন আহমেদকে খুব প্রয়োজন, আমাদের স্বকীয়তা বজায় রাখার জন্য। স্যার সু্স্থ হয়ে ফিরে আসুন আমাদের মাঝে। স্যারের জন্য শুভকামনা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১১:৪৩
৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×