somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রাচিন অস্ত্র:- Catapult

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


Catapult
Catapult এক ধরনের উৎক্ষেপন যন্ত্র। কোন কিছু খুবই জোরে ছুরে মারার খুবই প্রাচিন একটা কৌশল। কিন্তু এই জিনিষটা একটা কাজেই সবচেয়ে বেশি ব্যাবহৃত হত আর সেটা হচ্ছে যুদ্ধ।


Catapult এর ইতিহাস খুবই সমৃদ্ধ। জানা মতে প্রথম Catapult এর ব্যাবহার হয় গ্রিকদের দ্বারা। খ্রিস্টপুর্ব ৪০০ বছর আগে প্রাচিন গ্রিক কলোনি Syracuse এর তৎকালিন রাজা Dionysius the Elder তার প্রজাদেরকে নির্দেশ দেন Carthage দের সাথে একটা দির্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য। তখন তিনি যুদ্ধের জন্য নতুন কিছু অস্ত্রের সন্ধান করতে থাকেন। তখনই তার দেশের এক ইঞ্জিনিয়ার ক্যাটাপুল এর ধারনা দেন।

আলেক্সন্ডার দ্যা গ্রেট এর পিতা Philip of Macedon এই যন্ত্রটার আরো উন্নতি করেন। আর আলেক্সন্ডার এইটার অসাধারন ব্যাবহার করেন পুরো পৃথিবী জুরে। দখর করে পৃথিবীর প্রায় বেশির ভাগ অংশ। পরবর্তিতে রোমানরা এটাতে আরো চমৎকার সব উন্নতি সাধন করে। আর সবচেয়ে ভয়ানক অবস্থা করে চেঙ্গিস খান। তিনি শুধু এই জিনিষ দিয়ে অত্যান্ত সুন্দর সুন্দর শহর মাটির সাথে সম্পুর্ন মিশিয়ে দেন। চেঙ্গিস খান সবসসয় উপুর্যপুরি হামলা করতেন যাতে কোন উচু স্থাপনা দারিয়ে না থাকে।

Catapult সাধারনত তিন ধরনের হত
১) Ballista


Ballista মুলত একটা বিশাল তীর ছোরার যন্ত্র। বাইবেলে এই জিনিষের অস্তিত্বের প্রমান পাওয়া যায়। এটি গ্রিক, রোমান, এবং ইংরেজরা বেশি ব্যাবহার করত। দুই পাশে দুটি হাতলের সাথে রশিটি বাধা থাকতো যেমনা সাধারনত একটা crossbow তে থাকে। রশি হিসাবে মানুষের চুল অথবা বিভিন্ন জন্তুর পাকানো লোম ব্যাবহার করা হত। এই যন্ত্রটির সবচেয়ে মারাত্মক সুবিধা ছিল এর একুরেসি। আর যেই এক লাইনে দারানো সৈন্যদের জন্য এটি ছিল আরো মারাত্মক। এই ঘাতে চার থেকে পাচজন সৈন্য কুপোকাত হত এর সাহায্যে। সাধারনত তীর ছারাও কাঠের তৈরি একধরনের মারাত্মক অস্ত্র ছোরা হত এই মাধ্যমে।

২) The Springald


একই জিনিষ তবে ব্যাবধান হচ্ছে এটিকে ব্যাবহার করা হত স্থাপনার বিরুদ্ধে। যখন কোন দুর্গে আঘাত হানার সময় খুব সুক্ষ কোন স্থানে একেবারে একুরেটলি আঘাত হানার প্রয়োজন হত তখন এটি ব্যাবহার করা হত। খুবই মজার বিষয় হচ্ছে এই যন্ত্রথেকে ছোরা তীরের পিছনে রশি বাধা থাকতো। তাই যখন এটি কোন স্থাপনার সাথে গেথে গেলে রশি ধরে সেন্যরা খুব জোরে হেচকা টান দিলে খুব সহজেই কাঙ্খিত স্থাপনাটি ভেঙে পরত।

৩) Mangonel


ক্যাটাপুলের কথা শুনলেই সবাই প্রথমেই এটিকেই মনে করে। এবং বেশির ভাগ মানুষই এটিকেই একমাত্র ক্যাটাপুল মনে করে। কিন্তু এটির আসল নাম হচ্ছে Mangonel। এটি মুলত বিশাল সব পাথর ছুরতে ব্যাবহার করা হত। এটি মুলত siege করা অস্ত্র হিসাবে যুদ্ধ ক্ষেত্রে ব্যাবহার হত। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনি এটির অনেক ধরনের ডিজাইনে ব্যাবহার করেছে। মুলত প্রাচীন রোমানরা খ্রিস্টের জন্মের ৪০০ বছর আগে এটি আবিস্কার করেন। কাঠের তৈরি এই যন্ত্রটা একটা পাথরকে সর্বোচ্চ ১৩০০ থেকে ১৫০০ ফিট পর্যন্ত উপরে উঠাতে পারতো। Mangonel এর মধ্যে আবার Onager নামক আর একটা আছে যেটিতে টরশন শক্তি ব্যাবহার করা হত। সাধারন রশিকে পেচিয়ে তার মধ্যে কেন্দ্রিভুত শক্তিকে ব্যাবহার করে পাথর ছোর হত।
Trebuchet


ক্যাটাপুল এর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক। এই জিনিষ দিয়ে প্রাচিন কালে কোন শহর আক্রমন করলে ওই শহরের আর কোন চিন্হ থাকতো না। ধুলার সাথে মিশে যেত। এটি এক ধরনের Mangonel তবে একটু আলাদা। এটিতে পাথর ছোরার মাথাটি কেন্দ্র থেকে অনেক দুরে থাকতো এবং সেই মাথা থেকে পাথর গুলোকে একটি লম্বা চামরা সাথে ঝুলিয়ে দেয়া হত। গুরোতে এমন একটা চমৎকার মেকাক্সি থাকতো যে খুব অল্প লোকমিলে এই জিনিষ পরিচালনা করতে পারে। এই পাথর ছোরার স্পিড এবং হিট ডেমেজ ছিল মারাত্মক। চেঙ্গিস খান এই জিনিষ ব্যাবহার করেছিলেন তার পুরো জীবনে। মারাত্মক এই জিনিষ পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত শহর ধংস্বের জন্য দায়ি।


এবার দেখি কি কি জিনষ ছোরা হত এই Catapult দিয়ে

১) খুব ভারি পাথর
২) প্রচন্ড ধারালো এবং বিশাল সাইজের তীর
৩) darts(একধরনের তীর)
৪) গ্রিকদের আগুনের পাত্র (ধারনা করা হয় তেলের সাথে বিস্ফোরক জাতিয় মিশ্রিত করে দেয়া হত বেশি ধংস্বের জন্য)
৫) চুনাপাথর( খুবই মারাত্মক জিনিষ। ছোরার পরে বাতাসের সাথে ঘর্ষনের ফলে আগুন ধরে যেত এবং যেখাইনেই পরত আগুনের টুকরার মতন পরত। এমনকি পানিতে পরলে আরো জোরে জ্বলে উঠত)
৬) প্রজ্জলিত আলকাতরা( আলকাতরাতে আগুন লাগিয়ে ছোরা হত। যাদের গায়ে পরত জ্বলে পুরো ছারখার হয়ে যেত)
৭) প্রজ্জলিত বালি( একধরনের বালি ছিল যাতে আগুন লাগিয়ে ব্যাগে ভরে ছুরে মারা হত)
৮) মানুষ বা প্রানির বিষ্ঠা
৯) মৃত প্রানির শরির( বেশির ভাগই পচা থাকতো)
১০) মৃত সৈন্যদের অঙ্গপ্রত্যেঙ্গ( কাটা মাথা) অথবা মাঝে মধ্যে আস্ত বডিই ছুরে মারা হত। এতে বিপক্ষ সৈন্যদের মনোবল ভেঙ্গে যেত।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:৫১
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮


বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×