সেই প্রাচিনতম কাল থেকে মানুষ সমুদ্রে পন্য এবং অন্যান্য পরিবহনের কাজে জাহাজ ব্যবহার করছে। আর এই জাহাজ চলাচলের জন্য নির্মান করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা। এর মধ্যে প্রধনতম একটি নির্মান হচ্ছে কৃত্তিম খাল নির্মান করা। এই খাল গুলো নির্মান করা হয় মুলত জাহাজ পরি বহনের জন্য যার করনে এগুলো যথেস্ট গভির এবং প্রসস্ত করে নির্মান করা হয়। আরো কিছু কারন আছে যেমন
১) জাহাজ গুলো চলাচলের জন্য একটি সর্টকার্ট তৈরি করা যাতে সময় এবং জ্বালানী দুটোই বাচানো যায়।
২) দুট স্থল বেষ্টিত জলভাগের(হ্রদ, সমুদ্র) মধ্যে লিংক তৈরি করা।
৩) একটি সাগর থেকে আর একটি সাগরের সাথে যোগাযোগ করার জন্য।
৪) এবং অবশ্যই আর্থিক ভাবে লাভবা হবার জন্য।
পোস্ট পরার আগে লক সম্পর্কে একটু জেনে নেই।
লক হচ্ছে জাহাজ গুলোকে বেশি উচ্চতা থেকে কম উচ্চতায় নামানো বা উঠানো। এগুলোতে পানির আর্কিমিডিসের সুত্রটি ব্যবহার করা হয়। প্রথমে জাহাজ গুলো কে একটি কম্পার্টমেন্টে প্রবেশ করানো হয়। তার পর তার পানির উচ্চতা হাইড্রোলিক প্রেসারের মাধ্যমে কমানো বা বাড়ানো হয় যাতে তা পরবর্তি কম্পার্টমেন্টের সমান উচ্চতায় আসে। আর এভাবেই জাহাজ গুলোকে এক উচ্চতা থেকে আর এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এবার দেখি খাল গুলো
১০)Welland Canal
এই খালটি কানাডাতে অবস্থিত। কানাডার লেক ওন্টারিও এবং লেক এরি এর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। এর ঠিক পাশেই রয়েছে নায়াগ্রা ফল। ৪২ কিলোমিটার(২৬ মাইল) দির্ঘ এই মানুষ নির্মিত কৃত্বিম খালটি শুরু হয়েছে পোর্ট ওয়েলার এবং শেষ হয়েছে পোর্ট কোলবর্ন। কানাডা এবং আমেরিকার কাছে খালটির গুরুত্ব অপরিসিম কারন নায়াগ্রা ফলের মত এত উচু নিচু সারফেস সম্বলিত নদী জাহাজ চলচলের জন্য উপযুক্ত নয়। তাই এটিই জাহাজ গুলো অতি দ্রুত এপার ওপার করার একমাত্র উপায়।
প্রায় ৪ কোটি টন পন্য প্রতি বছর এই পথে হাজার হাজার জাহাজের মাধ্যমে পরিবহন হয়। এর সর্ব দক্ষিন প্রান্ত যা লেক এরি তে অবস্থিত তা ৩২৬ ফিট উচু অন্য প্রান্ত থেকে। এই দুই প্রান্ত এর মধ্যে উচ্চতা এই বিশাল ব্যবধান এর কারনে ব্যাবহার করা হয় আটটি লক। এই লক গুলো বিশাল এই খালে বিভিন্ন অংশে উচ্চতা অনুসারে ছরিয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মোট চারটি ধাপে এই খালটি কাটা হয়। William Hamilton Merritt প্রথম ১৮২৪ সালে তার watermill গুলো চালানোর জন্য এই খাল টি খনন কার্য শুরু করেন। ১৮২৯ সালে এই প্রথম অংশটি পরিক্ষামুলক ভাবে চালু করা হয়। এর পর ১৮৩৭ সালে দ্বিতীয় বার , ১৮৮৭ সালে তৃতীয়বার এবং ১৯৩২ সালে চতুর্থ বার এর কাজ করা হয় যা এখনও রয়েছে। এখন অবশ্য এর পন্চম ধাপের কাজ শুরু করার ব্যপারে পরিকল্পনা চলছে।
ছবিতে দেখানো হয়েছে খালটির দুই পাসের উচ্চতার পার্থক্য। এটিতে সর্বোচ্চ ৭৪০' লম্বা জাহাজ চলতে পারবে। এর গড় গভিরতা ৩৫ফিট। কোন জাহাজের উচ্চতা ১১৬ ফিট এর বেশি হতে পারবে না।
৯) Manchester Ship Canal
৫৮ কিমি (৩৬ মাইল) লম্বা এই খালটির অবস্থান ইংল্যান্ডের উত্তর পশ্চিম দিকে লিভারপুল থেকে ম্যানচেস্টার পর্যন্ত। Edward Leader Williams খালটির ডিজাইনার। ৫টি লকের মাধ্যমে ৬০ ফিট উচ্চতা পর্যন্ত জাহাজ গুলোকে তোলা হয়। ১৮৮৫ সালে এর পরিকল্পনা শুরু হয়। ১৮৮৭ সালে মুল নির্মন কাজ শুরু হয়। ১৮৯৩ সালে পুরো খালটি কাটা সম্পুর্ন্ হয় এবং ১৮৯৪ সালে এটি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। সর্বোচ্চ ৬০০ফিট বাই ৬৫ ফিট সাইজের জাহাজ এই খাল দিয়ে চলাচল করতে পারবে।।
হবে এই পুরো প্রযেক্টট ফেইল করছে। কারন উনিশ শতকে শুরু থেকে জাহাজ গুলো আর এই রুট ব্যবহার করছিল না।
৮) Danube–Black Sea Canal
নামদেখেই বুঝা যাচ্ছে এটি দানিউব এবং ব্ল্যাক সি কে সংযুক্ত করেছে। এটি রোমানিয়াতে অবস্থিত। মুল খালটির দৈঘ্য হচ্ছে ৬৪ কিমি(৪০ মাইল)। এই খালটির নির্মান জুরে রয়েছে একটি রক্তাক্ত এবং ভয়ঙ্কর ইতিহাস। ১৯৫০ সালে কমুনিস্ট রোমানিয়ার বন্দি ক্যাম্প ছিল এটি।এখানে জোর করে কাজ করানো হত। লক্ষ লক্ষ মানুষ নিহত বা কস্ট করেছে এই খাল টি নির্মানের সময় গার্ডদের অমানবিকতার জন্য। পরে যদিও একটি ট্রাইবুনাল করা হয়েছিল বিচারের জন্য। কিন্তু একটি ঘৃন্য ইতিহাসের সাক্ষি হয়ে রয়েগেছে এই খালটি।
চারটি লকের মাধ্যমে এর সারফেস সমতা আনা হয়েছে। এটি নির্মানের ফলে প্রায় ৪০০ কিমি পথ সাস্রয় হয়েছে জাহাজগুলোর।
৭) Panama Canal
এই খাল নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। আটলান্টিক এবং প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে সরাসরি সংযোগস্থাপনকারি এই খালটির অবস্থান পানামা নামক ছোট একটি দেশে। ৭৭ কিলোমিটার(৪৮ মাইল) লম্বা এই খালট গুটান লেকের অংশে সমুদ্র সমতল থেকে ৮৫ফিট উচু। সর্বোমোট তিনটি লক চেম্বারের মাধ্যমে এই উচ্চতায় জাহাজ গুলো উঠানামা করে।
বর্তমান পৃথিবীর পুরো অর্থনিতির একটি গুরুত্ব পুর্নো অংশ হচ্ছে এই খালটি। যে কারনে এর দখল নিয়ে চলেছে ঘৃন্য রাজনিতি। প্রথমে এই খালটির মালিক ছিল কলাম্বিয়ানরা, এর পর ফ্রেন্চরা এবং সর্বশেষ এবং এখন পর্যন্ত মালিক হচ্ছে বিশ্ব মোড়ল আম্রিকা। এর বর্তমান কন্সট্রাকশন কাজ শেষ করে আম্রিকা। ১৯১৪ সালে যেখানে বছরে মাত্র ১০০০ জাহাজ এখন দিয়ে পাস করত সেখানে ২০০৮ সালে ১৫০০০ এর উপর জাহাজ পাস করছে। এই খালটির রয়েছে একটি সুদির্ঘ ইতিহাস। তিনটি পার্টে এর কাজ করা হয়। প্রথমে কাজ করে কলাম্বিয়ান রা। পরে তার এক্সেটন্ড করে ফ্রেন্চরা এবং সর্বশেষ কাজ করে আম্রিকানরা।
পোস্ট আন্ডার কন্সট্রাকশনে আছে। আবার আসবেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ১:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



