somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথম আলো, বাঙালি জাতিসত্তা ও ভারতীয় আগ্রাসন

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৪:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকে প্রথম আলো খুলেই একটা ধাক্কা খেলাম। প্রথম পাতায় 'ভারত, দরজা খুলে দাও' নামের শিরোনামটা দেখার সাথে সাথেই আমার একটু গা জ্বালা করে উঠল। অবশেষে মিডিয়া এবং কিছু পা চাটা বুদ্ধিজীবীদের ব্যাবহার করে এই চামচা রাষ্ট্র এখন প্রকাশ্যেই সাম্রাজ্যবাদী ভারতের বিজ্ঞাপন দেওয়া শুরু করেছে।

কিছুদূর আরও ঘাঁটাঘাঁটি (পড়ার মতো মেজাজ ছিলনা) করার পর আমার রাগ কিছুটা শঙ্কায় পরিণত হল। এইখানে টোপ এবং ঢাল হিসেবে ব্যাবহার করা হয়েছে অন্যায়ভাবে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে ভাগ হওয়া বাঙালি জাতিসত্তাকে। এটা তো ঠিক ই যে আমরা বাঙালিরা ভারত ও পাকিস্তান নামক দুই জঘন্য রাষ্ট্রযন্ত্রের সাম্প্রদায়িক কামড়াকামড়ির বলি হয়েছি। আমি এটা হাড়ে হাড়ে টের পাই, আমার নিজের পরিবার ৪৭ আর ৭১ এ দুইবার ভেঙ্গে ভারতে দেশান্তরী হয়েছে শুধুমাত্র সাম্প্রদায়িক চাপে। দেশে প্রচুর ৪৭ এ ভারত থেকে চলে আশা মুসলিম পরিবারও আছে যারা আজও তাদের ভারতের আত্মীয়দের ঠিকানা-খোঁজখবর রাখেন। আমাদের ভাষা এক, প্রাচীন ইতিহাস এক, সাহিত্য এক। সব মিলিয়ে জাতিগতভাবে একটা কষ্টের জায়গা আমাদের আছেই।

কিন্তু এই অনুভূতিকে ব্যাবহার করেই এতদিন সুকৌশলে আর এখন সরাসরি পর্দা উঠিয়ে ভারতের চামচামি করা হচ্ছে। প্রথম আলোর প্রথম পাতায় সীমান্তে কান্নারত দুই আত্মীয়ের মন নাড়ানো ছবি। কিন্তু ভিতরে গেলেই হাসিনার ছবির পাশে ‘ইন্ডিয়া গেট’ আর মনমোহন এর ছবি। এই দেখামাত্র বোঝা যায় বাঙালি জাতিসত্তার ঐক্যবদ্ধতার মুখোশ পড়ে এগিয়ে আসছে ভারত রাষ্ট্র, যার সাথে আমাদের সংস্কৃতি-কৃষ্টির কোন সম্পর্ক নেই।

এইখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার কেউ লক্ষ্য করেছেন? যাদের সাথে আমাদের রাজনৈতিক, সামাজিক, এবং সাংস্কৃতিক বোঝাপড়ার সব থেকে বেশি দরকার সেই পশ্চিমবঙ্গের কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এতে নেই। ডিভাইড অ্যান্ড রুল সুত্র খাটিয়ে ঠিকই মমতাকে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকে আমাদের দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রথম আলো এই ধরণের জঘন্য ভারত-চামচামির প্রতিবাদ হওয়া উচিত। তবে আমাদের এদিকটাও ভেবে দেখতে হবে আমরা বাঙালিরা কি ক্রমাগত সাম্প্রদায়িকতা আর রাজনীতির শিকার হতে থাকব? আমরা কি এতো দূরে চলে গেছি যে আর কখনো একসাথে হওয়ার কথা কল্পনা করতে পারব না? নাকি আমাদের এই স্বপ্ন ত্যাগ করাই ভালো কারণ এই অনুভূতিকে ভারত সবসময়ই নিজের সুবিধায় ব্যাবহারের তালে থাকে। প্রশ্নটা এত সহজ না। আর আমার মতো লোকেদের জন্য তো নয়ই।

তবে আমি সবসময় যা বলি তা আবারো বলছি। আমাদের শত্রু ভারত রাষ্ট্র, তার জনগন না। পশ্চিমবঙ্গের এক কৃষকের সাথে এদেশের কৃষকের কোন পার্থক্য নেই। আমাদের মুখোমুখি দাড়া করায় শয়তান রাষ্ট্রযন্ত্র আর ধর্মব্যাবসায়িরা। মানুষ দিয়ে মানুষ ঠেকানো শাসকদের বহু পুরনো রীতি। এই নিয়মেই তারা সীমান্ত টানে, মানুষকে আলাদা করে, অত্যাচার করে, হত্যা করে। আবার প্রতিবাদকে সুকৌশলে ঘুরিয়ে দেয় জনগনের দিকে। আমরা ধীরে ধীরে অন্য দেশের মানুষকে ঘৃণা করতে শিখে যাই। শাসকদের পক্ষ হয়ে যুদ্ধেও নেমে যাই। লাখ লাখ মানুষ খুন করি। তারপর দেশে ফিরে আবেগভরে পতাকায় সেলাম ঠুকি। আর কতদিন মানুষ এরকম খেলার পুতুল হয়ে থাকবে শাসদের প্রোপাগান্ডার? এরও উত্তর আমার জানা নেই। তবে এটুকু বুঝি এই শকুনদের উৎখাতের দরকার।

শেষ কথা, কতগুলো ভাদাকে বেশ ভালভাবে চিনে রাখলাম আজকে, আপনারা চিনে রাখতে ভুলবেন না, বিশেষ করে আমাদের বাংলার গান্ধিকে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪



একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×