somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ আবার মিশরে ৬৮৩ জনের মৃত্যুদন্ডের আদেশ এবং মিশরীয় কিছু কালচার। ''ধর্ম কি তবে কেবল কালচারের নাম??

২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
অনেকদিন পর আবার মিশর এবং মিশরীয়দের নিয়ে লেখার ইচ্ছা হলো। দুঃখিত যে এবার তাদের খারপ দিক গুলো নিয়েই লিখতে হচ্ছে।


১- সাধারণত মিশরীয়রা খুবই ধার্মীক। ধর্ম তাদের কালচারের মধ্যে এমন ভাবে দখল নিয়েছে যে অমুসলিমরাও অভ্যাসগত কারনে ইসলামের অনেক রীতিনিতী পালন করে থাকে। ফলে অনেক ক্ষত্রেই ধর্মের অপব্যাবহার দেখা যায়। যেমন: রাস্তা ঘাটে কখনো ঝগড়া দেখলে আপনি তাদের বলতে শুনবেন: ''আল্লাহর কসম আমি তোরে ডট ডট ডট''। আল্লাহর কসম, আমি তোরে ডট ডট ডট করুম,।
২- এখানের ইয়াং বয়সী মেয়ারা প্রায় সবাই নফল রোজা রাখে। এদের অনেকেই প্রেম করলেও বয়ফ্রেন্ডের থেকে বেশ দূরে দূরে থাকে। কিন্তু যেই ধরনের টাইট পোশাক পড়ে রাস্তায় বের হবে দেখে মনে হবে না যে সে মুসলমান। অথচ সে রোজাদার।


- সেদিন এক মেয়ের সাথে এই বিষয়ে কথা প্রসংগে বললাম: আমাদের দেশের মেয়েরা তোমাদের থেকে অনেক বেশী পর্দাশীল। সে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বলল: তোদের দেশে ইসলাম গেছে কত পরে, তাও আবার হিন্দুদের মাধ্যমে। তোরা পর্দার কি বুঝোস। আমি টেকনিক করে টপিক চেন্জ করে বললাম: তোদের মেয়েদের চুল তো সুন্দর না, দেখ আমাদের চুল কত সুন্দর। সে আবার প্রশ্ন করল: কয়জন মেয়ের চুল দেখছোস তুই। আমি বললাম দেখমু কেমনে? পচাঁ চুল দেখেতো তোমরা সবাই ঢেকে রাখ। এবার সে বহুগুনে জ্বলে উঠল। বলতে লাগল: আমরা পচাঁ চুলের জন্য নয়, পর্দার উদ্দেশ্যে চুল ঢেকে রাখি। আমি বললাম< চুল আবার কেমনে পর্দার বস্তু হয়? বলল: মেয়েদের চুল হলো মেয়েদের সৌন্দর্য। তোমার কি মেয়েদের চুল ভাল লাগে না? বললাম লাগে। দেখছো এই কারনেই চুল পর্দার বস্তু এবং সেটা ঢেকে রাখতে হয়।


এবার আমি শুরু করলাম: দেখ, চুলের চেয়ে হাজার গুনে কামুক হলো নারী দেহ। যেখানে তোমাদের নারীরা তাদের শরীরের প্রত্যেকটা অংগ ভাষিয়ে চলা ফেরা করে সেখানে চুলের দিকে নজর দিবে কে?? আমার মনে হয় না যে, কোন পুরুষ মানুষের হাত মেয়েদের চুলে স্পর্ষ করলেই তার ভিতর কোন আবেগ সৃষ্টি হবে অন্যদিকে নারীর একটু উন্নত সুন্দর শরীর অনক দুর থেকে দেখলেই ইয়াং কেন বৃদ্ধ পুরুষের মনেও কিছু একটা নাড়া চাড়া দিয়ে উঠবে। সে বলে: কথা সত্য। আমি বললাম দেখ; হলিউডের অনেক নায়ীকাই তাদের চুল ছোট করে রাখে তবুও তাদের কত ভাল লাগে দেখতে। কারন তাদের সুন্দর শরীর আছে। ঠিক না? হুম, ঠিক। তারমানে চুল হচ্ছে নারী সৌন্দর্যের অতিরিক্ত একটা পার্ট। তাছাড়া তুমি দেখ, চুল কেটে ফেললেও তোমার ব্যাথা লাগবে না। তাকে অনেক কষ্টে হলেও বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলাম যে: আমাদের দেশের মত ঢিলে ঢালা পোশাক পড়ে লম্বা চুল ছেড়ে দিলেও সেটা চুল বাধাই করে রেখে দেহের জিয়গ্রাফি প্রকাশ করার চেয়ে ঢের ভাল। এই ছোট্ট এবং শহজ বিষয়টা আপনি মিশরীয় মেয়েদের কিংবা পুরুষদের শহজে বুঝাতে পারবেন না। আমি এটাকে অন্ধত্ব্য ছাড়া আর কিছু বলব না।
৩- মিশরের কোন বিবাহ অনুষ্ঠান কিংবা কোন দোকান উদ্বোধন করার দিন গভীর রাত পর্যন্ত অতি উচ্চ ভলিউমে গান বাজানো হয়। এর মধ্যে কিছু গান হলো কমন। এবং কথা গুলো খুবই অশ্লিল। অথচ, এই গান যখনই আসবে তখনই সবাই উঠে নাচা নাচি শুরু করবে। পর্দাশিল মেয়েরাও উলু ধ্বনি দিতে থাকবে। সে কি বিশ্রি অবস্থা। এর চেয়েও মজার ব্যাপার হলো: এই সব অনুষ্ঠান শুরু করার আগে কখনো কখনো কুরআন তেলাওয়াত বাজানো হয়ে থাকে। আর কমন একটি ইসলামী সংগীত, ''আসমাউল হুসনা' বাজানো হয়ে থাকে। যদি কোন ব্যাক্তি এই দুটি প্লে করে সারারাত গান বাজায় কেহ কোন সমালোচনা করবে না। যদিও আশে পাশের বাসার মানুষদের ঘুম হারাম হয়, বাচ্চাদের পড়া নষ্ট হয়, রোগীদের প্রাণ উষ্ঠাগত হয়। আর যদি কমপক্ষে আসমাউল হুসনা প্লে না করেই গান বাজনা শুরু হয় তাহলে আসে পাশের মানুষ সমালোচনা শুরু করে দিবে এমন ভাবে: সমাজ টা শেষ হয়ে গেছে। ধর্ম বলতে আর কিছুই থাকল না। ব্লা, ব্লা, ব্লা....
- মিশরের কোন চায়ের দোকানে কিংবা অন্য কোন পাবলিক প্লেসে আপনি পা'য়ের উপর পা'তুলে বসতে পারবেন না। দোকানদার এসে আপনাকে পা নামিয়ে বসতে বলবে। তারপরও যদি আমনি পা না নামান আপনাকে অপমানিত হতে হবে। এবং আশে পাশের সবাই আপ্নাকে চড়ম ঘৃণা শুরু করবে। এবং বলতে থাকবে এটাই আরব অনারবদের আদব কায়দার পার্থক্য। অথচ, আপনি যদি জুমার নামাজে এক রাকাত পিছনে পরে শেষ কাতারে দাড়ান তাহলে আপনি দ্বিতীয় রাকাত শেষ করতে করতে কত মানুষের যে লাথ্থি খাবেন, সিজদার সময় মাথায় অন্যের পা লাগবে সেটা গননা করে শেষ করতে পারবেন না। হয়ত আপনি মসজিদের বসে কোন বয়ান শুনছেন তখন আপনার পাশ দিয়ে সামনে বা পিছনে যাওয়ার সময় আপনার হাটুতে কিংবা শরীরে অন্যের পা প্রায়ই লেগে থাকবে, এতে তাদের মাঝে কখনো সংকোচ বোধটাও দেখবেন না। এটাকে তারা বেয়াদবি মানে না।
৫- আমরা সবাই জানি, হাচি দিয়ে বলতে হয়, আলহামদু লিল্লাহ। এই আলহামদুলিল্লাহ যারা যারা শুনে তাদের বলতে হয় 'ইয়ারহামু কাল্লাহ'। এর জবাবে আবার বলতে হয়, 'ইয়াহদি কুমুল্লাহ'। এখন আপনি গাড়িতে বসে আছেন বিদেশী মানুষ। হটাৎ হাচি দিয়ে ফেললেন অথচ আলহামদুলিল্লাহ বললেন না। আশে পাশের সবাই আপনার দিকে কটু দৃষ্টিতে তাকাবে। অথবা আপনার পাশে কেহ হাচি দিয়ে বলল, 'আলহামদুলিল্লাহ' আপনি সেটা শুনেও ইয়ারহামুকাল্লাহ বললেন না এতেই যেন আপনি অনেক বড় অপরাধ করে ফেললেন। আপনার দিকে এমন দৃষ্টিতে সে তাকাবে যে, সেই দৃষ্টিতে সব মিশরী যদি বর্তমান সেনা প্রধান যিনি আজ ও আবার ৬৮৩ জন নিরাপরাধ মানুষকে ফাসিঁর আদেশ দিল তার দিকে তাকাতো তবু সে টিকতে পারত না। দেশে মানুষের হক প্রতিষ্ঠিত হত।

৬- অপরদিকে রাস্তা ঘাটে যেই পরিমানে ইভটিজিং হয় অথচ কেও কিচ্ছু বলে না। এখানে দেখা যায় ১৬/১৭ বৎসর বয়সের ছেলেরা ভিরের মধ্যে নারীদের উত্তোক্ত করে অথচ আশে পাশে কত যুবক বৃদ্ধ নির্বিকারে সেটা শহ্য করে বা মজা লুটে। কেউ কোন দিন প্রতিবাদ করে না। এখানে প্রচুর আফ্রিকান মেয়ে থাকে। তাদের দেখলেই এক শ্রেনীর পুলাপান টিজ করাকে জরুরী মনে করে। আমি ছাড়া অন্য কাউকে কোন দিন প্রতিবাদ করতে দেখি নি।

মিশরের বর্তমান সেনা সমর্থিত সরকার একজন নির্বাচিত সরকারকে অবৈধ ভাবে সরিয়ে দিল। মেনে না হয় নিলাম যে, তাকে বিশাল এক জংগোষ্ঠি চাইতো না তাই সরিয়ে দেয়া হলো। কিন্তু তৎপরবর্তীতে যা ঘটেছে এবং ঘটল তা কি করে সুষ্ঠ বিবেকের মানুষ মেনে নিতে পারে সেটা আমার বুঝে আসে না। শুধু মাত্র রাস্তা আটকিয়ে প্রতিবাদ করার অপরাধে হাজার খানেক নিরাপরাধ মানুষকে গুলি করে কামান ও ট্যান্কের নিচে পিষে মেরে ফেলল তাতে জনগনের কোন মুখ খুলল না। অন্য দিকে একজন পুলিশ হত্যার দায়ে ৫২৯ জনের ফাসিঁর আদেশ দেয়া হলো তাতেও কোন প্রতিবাদের আওয়াজ নেই। আজ আবার দেয়া হলো ৬৮৩ জনের ফাসিঁর আদেশ। তাতেও কোন প্রতিবাদের আওয়াজ নেই। অথচ হাচির জবাব না দিলে তারা প্রতিবাদ করে বসে থাকে। তারা নফল রোজাও রাখে। নফল নামাজও আদায় করে। যাকাত ও দেয়। সকাল বিকেল কুরআন ও তেলাওয়াত করে। হাটতে ফিরতে অনেকের সাথে বুক পকেটে কুরআন ও থাকে। গাড়িতে কুরআন থাকে।
মিশরীয়দের এহেন কার্যকালাপ দেখলে যে কেও প্রশ্ন তুলতেই পারে: ইসলাম কি তবে কেবল একটি কালচারের নাম??

১- এখনে কেবল কয়েকটি উদাহরন আনা হয়েছে, এদের অনেক ভাল গুনাবলিও আছে যা আমার অন্য পোষ্টে পাবেন।
২- ছবি তিনটি গুগল থেকে নয়া হয়েছে কাজেই অনুমতির বিষয়টা আসছে না এখানে।
৩- ছবি তিনটি মোটামোটি ভাবে মিশরীর মেয়েদের পোাষাকের প্রতিনিধিত্ব করে। যদিও এর ব্যাতিক্রম কিছু পোষাক দেখা যায়।

সমালোচনা কাম্য তবে কোন ব্যাক্তি আক্রমন গ্রহণ করা হবে না।
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৯:৫১
৪৩টি মন্তব্য ২৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×