somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাপানের ডায়েরী-৪!

২২ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এবার জাপানীজ রেস্তোয়ার খাবারের অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করব! জাপানে পৌছার পর দরকারী ফরমালিটিস শেষ করে, ইন্টাঃ হাউজে আমার রুমের দিকে যাবার জন্য পা বাড়ালাম, তখন প্রফেসর বলেলন আমদেক নিয়ে লান্চ করবেন। আসলে এই লান্চ ছিলো তার ল্যাবের ২ নবাগতের জন্য! আর একজন হল ইন্দোনেশিয়ান! যা হোক, জীবনে ১ম বার জাপানীজ রেস্তোরায় খাবারের অভিজ্ঞতা আর স্বাদের জন্য এগোলাম, আবার ভয়ও লাগছিলো যে ওদের সব খাবারেই পর্ক মেশানো থাকে, সংরক্ষনের জন্য! যা হোক রেস্তোয়ার পৌছেই একটা ধাক্কা খেলাম! একেবারে ভিন্ন গেট-আপ! তাজা মাছ আর মাংস টেবিলে, লোকজন অর্ডার করছে আর সেই অনুযায়ী আগুনে আচিয়ে পরিবেশন করছে! তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হল, রেস্টোরার মাঝে গোলাকার রিঙের মত টেবিল, আর রিঙের বাহির দিকে চলমান তাক আছে, যেখানে ডিম, চিংড়ী মাছ সহ নাম না জানা অদ্ভুদ কিসিমের জীব ছোট্ট বাটিতে করে পর পর সাজানো, সেগুলিও ঘুরছে, যা অনেকটা প্লেন থেকে নেমে লাগেজ নেবার মত সিস্টেম! অচেনা খাদ্যদ্রব্য দেখেই গুলিয়ে উঠছিলো সবকিছু! একটু পর দেখলাম ছোট ছোট অক্টোপাস! যা হোক, আমার মত ইন্দোনেশিয়ানেরও একই অবস্থা সেও মুসলিম! দেখলাম আমার দিকে তাকিয়ে আছে! যা হোক এবার প্রফেসরকে অনুসরন করে সেই জাপানের বিখ্যাত ২টা কাঠি নিলাম, এরপর চিংড়ী নিলাম ৪টা! এগুলোও অদ্ভুত, আঙুলের সমান চিংড়ী পেট কেটে ভেতরে ১ লোকমা পরিমান সিদ্ধ ভাত! তারপর......??? খেতে হবে ২টা কাঠি দিয়ে! শুরু হলো এক মহাযুদ্ধ, আমি কাঠি দিয়ে তুলি বাটি থেকে ২ইন্চি তোলার পর পরে যায়! কি যে অস্বস্থিকর অবস্থা! চিকন ২টা স্টিক দিয়ে নাকি খাওয়া যায়! যাহোক প্রফেসর দেখি হাসছেন আমার করুন দশা দেখে! পে বললেন হাত দিয়ে খাও, আমরাও মাঝে মাঝে হাত দিয়ে খাই! আমিও হাফ ছেড়ে বাচলাম!৪টা এমন চিংড়ী খেয়ে মনেই হলো না কিছু খেলাম! এরপর প্রফেসর বললেন একটা বাটি নিতে, যেটাতে মুরগীর ডিম স্পেশাল ভাবে ফ্রাই করা ছিলো! নিলাম ২টা! আর এখানে রেস্তোরাগুলোতে গ্রীনটি ফ্রী, যে যা খেতে পারে! যাহোক ভয়ে ভয়ে গ্রীন টি খেলাম, কারন জাপানীজ গ্রীন টি নাকি খুব তেঁতো, কিন্তু না অতোটা নয়! এরপর প্রফেসর বললেন তোমাদেরতো অক্টোপাস প্রবলেম আমি অক্টোপাস খাই তোমরা চুজ কর, এরপর প্রফেসর একে একে ইংরেজী নাম বলছেন আর আমি আর ইন্দোনেশিয়ান দেখছি! অবশেষে রুঁপচাদার মত একটা মাছ নিয়ে খাবার শেষ করলাম অর্ধেক হাতে আর অর্ধেক কাঠি দিয়ে! মাঝে আবার ভাবছি আমরা যা খাচ্ছি তা হিসাব করবে কিভাবে! খাবর শেষে সেখানেও নতুনত্ব পেলাম! খাবার শেষ হলে একজন বারকোড রিডার জাতীয় যন্ত্র আনার পর একে একে যে বাটিগুলোতে খেয়েছি আমরা ৩জন সেখানে স্পর্শ করল আর একে একে রিডিং উঠছে! এখানে আসলে বাটিগুলো ছিলো বিভিন্ন কালারের! সুতরাং এটা কালার কোডিং সিস্টেম সম্ভবত!
যা হোক শেষে প্রফেসর তার কার্ড দিয়ে বিল মিটিয়ে আমাদের নিয়ে ক্যাম্পাসের পথে হাঁটা দিলেন!


চলবে...........!

জাপানের ডায়েরী-৩!

জাপানের ডায়েরী-২!

জাপানের ডায়েরী-১!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৬
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×