somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনুপ্রেরণার গল্প- পাওলো কোয়েলহোর লেখা 'দ্য এ্যালকেমিস্ট'

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছু বই আছে যা পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টে দিতে পারে, অনুপ্রাণিত করতে পারে। এই বইগুলো শেখায়, কিভাবে কষ্টকে জয় করে জীবনের লক্ষে পৌছতে হয়, কিভাবে স্বপ্ন দেখতে হয়, কিভাবে স্বপ্নের বাস্তব রুপ দিতে হয়!

ঠিক তেমনি একটা বই পাওলো কোয়েলহোর লেখা ‘দ্য এ্যালকেমিস্ট’।এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৮০টি ভাষায় অনূদিত এবং প্রায় ৮৩ মিলিয়ন কপি বিক্রির রেকর্ডের সুবাদে ইতিমধ্যে গিনেস বুকে নাম লিখিয়েছেন লেখক পাওলো কোয়েলহো।


রুপকথার আবেশে লেখা তীক্ষ্ণ সংলাপ নির্ভর এই রুপক উপন্যাসটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে সান্তিয়াগো কে ঘিরে।সান্তিয়াগো, বই পড়তে পারা এক রাখাল বালক। বাবা-মা’র স্বপ্ন ছিল ছেলে বর হয়ে যাজক হবে। কিন্তু সেই ছেলে আজ রাখাল কেন?কারন ছেলের চোখে ছিল পরিব্রাজকের স্বপ্ন! ছিল অজানাকে জানার আকাঙ্ক্ষা। এই আকাঙ্ক্ষা থেকেই কিছু ভেড়া কিনে পৃথিবীর পথে বেরিয়ে পড়ে সান্তিয়াগো।

একটা স্বপ্ন দেখে প্রায়ই ঘুম ভেঙ্গে যেত তার, কিন্তু এর অর্থ সে জানত না। কিন্তু সে তাইফায় বাস করা এক বৃদ্ধার কথা জানতো, যে কিনা স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতে পারতো। সে গেল সেখানে, বৃদ্ধা তাকে জানায় তার স্বপ্নের অর্থ হল তাকে মিশরের পিরামিডে যেতে হবে আর সেখানেই সে অনেক গুপ্তধনের সন্ধান লাভ করবে! এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি সান্তিয়াগো। ফেরার পথে দেখা হয় নিজেকে সালেমের রাজা দাবি করা এক বৃদ্ধের সাথে। এই বৃদ্ধও তাকে স্বপ্নের পথে চলতে বলে, সাথে সান্তিয়াগোর জীবনের এমন কিছু ঘটনা বলে যা আগে কেউ জানতোনা। অবাক হয় সে, সাথে বিশ্বাসও। এই বৃদ্ধ রাজা তাকে মিশরে যাওয়ার পথ বাতলে দেয় আর সাথে দেয় সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক দুটি পাথর- ‘উরিম’ ও ‘থুমিম’! কিন্তু এটা তো শুধুই স্বপ্ন, এটা কি বাস্তব রুপ লাভ করবে? বৃদ্ধ রাজা বলে-
“পৃথিবীতে তুমি যা-ই করতে চাইবে পৃথিবী সেটাই তোমার জন্য রেখেছে। আর পৃথিবীতে এটাই তোমার উদ্দেশ্য”।

এরপর, নিজের সাথে থাকা অনেকদিনের সঙ্গী ভেড়াগুলো বিক্রি করে জাহাজে চড়ে রওনা দেয় আফ্রিকার উপকূল তাঞ্জিয়ার দিকে। উদ্দেশ্য, সেখান থেকে সাহারা পেরিয়ে যাবে মিশরের দিকে। কিন্তু যাত্রার শুরুতেই প্রতারকের খপ্পরে সর্বস্ব খোয়া যায় তার। বেঁচে থাকার তাগিদে কাজ নেয়, তাঞ্জিয়ার এক স্ফটিক বিক্রির দোকানে। সেখানে এক বছর কাজ করার পর অর্জিত অর্থ আর অভিজ্ঞতা নিয়ে পুনরায় রওনা দেয় তার স্বপ্ন পূরণের পথে,এক ক্যারাভ্যানের সাথে। তার সঙ্গী হয় এক ইংরেজ, যে কিনা এক এ্যালকেমিস্টের খোজে বেরিয়েছে। বেরিয়েছে পরশপাথর আর অমৃতসুধার সন্ধানে!

মরুভূমির দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে নানারকম অভিজ্ঞতা অর্জন করে সান্তিয়াগো। পথিমধ্যে আরবে গোত্র যুদ্ধ চলার কারনে তাদের আশ্রয় নিতে হয় এক মরূদ্যানে। সেখানে ফাতিমা নামক একজনের সাথে দেখা হয় তার। এই দেখাদেখি শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় প্রণয়ে। কিন্তু এই ভালোবাসা তাকে তার লক্ষ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়নি বরং ফাতিমার কাছ থেকে নব উৎসাহ লাভ করে সে। ফাতিমা তাকে জানায়, এখন থেকে সান্তিয়াগোর আশায় পথ চেয়ে থাকবে সে। সান্তিয়াগোও ফিরে আশার প্রতিশ্রুতি দেয়।

এরই মধ্যে সান্তিয়াগোর সাথে দেখা হয় সেই এ্যালকেমিস্টের, যার খোজে বেরিয়েছিল তার পথসঙ্গি। সেই এ্যালকেমিস্ট সান্তিয়াগোর মাঝে পৃথিবীর ভাষা খোঁজার শক্তি খুজে পায়।তার স্বপ্নপূরণে এগিয়ে আসে সে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকেনি তারা, এ্যালকেমিস্ট কে সাথে নিয়ে আবারো তার লক্ষের দিকে বেরিয়ে পড়ে সান্তিয়াগো। এভাবেই এগিয়ে যেতে থাকে ঘটনা।

শেষ পরিনতিতে কি হয়েছিল, মিশরের পিরামিডে কি গুপ্তধনের সন্ধান পেয়েছিল?
উত্তরটা বলেই দেই- না, পায়নি! কিন্তু একটা চমক আছে শেষে, বইটি না পড়লে যা কখনো জানতে পারবেন না!

খুব সাধারণ এক গল্প,তাই না? কিন্তু ঘটনার ঘনঘটা, উত্তেজনা ও জীবনবোধের বাকশৈলীতে আর লেখকের লেখনীতে এই গল্পটাই হয়ে উঠেছে অসাধারণ। বেস্টসেলার এই বইটি পড়ার আমন্ত্রন রইল!
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:৩৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×