somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সোহানী
হাজার হাজার অসাধারন লেখক+ব্লগারের মাঝে আমি এক ক্ষুদ্র ব্লগার। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া লেখালেখির গুণটা চালিয়ে যাচ্ছি ব্লগ লিখে... যখন যা দেখি, যা মনে দাগ কাটে তা লিখি এই ব্লগেnnআমার ফেবুর এড্রেস: https://www.facebook.com/sohani2018/

জীবন যেখানে যেমন................ এক টুকরো পথের জীবন

০৮ ই এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৯:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



খুব ছোটবেলায় দেখতাম ট্রেনে বা বাসে যেতে আসতে বাতের মলম বা দাঁতের মাজন যারা বিক্রি করে তারা দারুন সুরে প্রথমে গান গায়। তারপর গান শেষে পাবলিককে নিজের পণ্য বিক্রির চেষ্টা করে। বিক্রি বাট্টা ছাড়া শুধু গান গেয়ে বেড়ায় একমাত্র ভিক্ষুকরা। তাও আবার প্রায় সবাই ডিজএ্যাবলড অর্থ্যাৎ কেউ অন্ধ কেউবা পঙ্গু। এদেরকে দেখলেই মা যেভাবেই হোক পয়সা দিতো। এমনও হয়েছে ট্রেন হয়তো দূরে চলে গেছে কিন্তু মা অনেক জোরে সে পয়সা ছুড়ে প্লাটফর্মে ছুড়ে দিতো। তাই ছোটবেলা থেকেই এদের প্রতি এক ধরনের মায়া অনুভব করতাম।

প্রথম যখন ইউরোপের ট্রেনে এরকম বাদ্যযন্ত্র নিয়ে গান শুনানোর পর টুপি খুলে সাহায্য চাইলো তখন একটু অবাকই হলাম মনে মনে। এরকম স্যুটেড ব্যুটেড কাউকে ভিক্ষা করতে প্রথমই দেখলাম। তাও আবার চমৎকার গান শুনিয়ে ভিক্ষা। নিজের আগের অভিজ্ঞতার সাথে মেলাতে মেলাতেই তারা নেমে গেল একটা স্টপেজ এ। এরপর থেকে যেখানেই গেছি ইউরোপের বা আমেরিকার দেশে ওদেরকে পেয়েছি রাস্তা ঘাটে মাঠে ট্রেনে বাসে। পরে জেনেছি এভাবে গান গেয়ে বেড়ানোই তাদের নেশা ও পেশা।

কানাডার প্রায় প্রতিটি সাবওয়ে বা ট্রেন প্লাটফর্মে এদেরকে দেখা যায়। কি যে অসাধারন বাজায়। এরা প্রত্যেকেই লাইসেন্সধারী মিউজিশিয়ান। অনেকেরই একাধিক মিউজিক সিডি আছে মার্কেটে। অনেকেই উচ্চ শিক্ষিত। তারপরও ওরা এ প্লাটফর্মে বা ট্রেনে বাজায়ে ভিক্ষা করে। আমি যখনই এদেরকে দেখি খুব ব্যস্ততা না থাকলে দাড়িঁয়ে ওদের মিউজিক শুনি ও কিছু পয়সা দিয়ে গন্তব্যে রওনা দেই। অবশ্য এটাকে ভিক্ষা বলা যায় না পুরোপুরি এটাও একটি পেশা। গভ: লাইসেন্স ছাড়া এরা যেখানে সেখানে বসতে ও পারে না। লাইসেন্স নিয়ে তবে্ এরা পথে পথে গান গেয়ে বেড়ায়। যা পায় তা দিয়েই চলতে থাকে তাদের জীবন।

তবে আমি প্রায় ওদের ভিক্ষার ঝুলির দিকে তাকাই ও গোনার চেস্টা করি কেমন ইনকাম তারা করেছে। নিজে এ পেশার যাবার কোনরুপ কোন ইচ্ছে নয় জাস্ট কিউরিসিটি। কিন্তু কখনই তেমন কোন টাকা পয়সা সেখানে দেখিনি। খুব সামান্য কিছু খুচরা পয়সাই পড়ে থাকতে দেখি। ভাবতে খুব অবাক লাগে ইউরোপ বা আমেরিকার মতো দেশে এক দুই ঘন্টা কাজ করলে যে ইনকাম হয় তা দিয়ে সারাদিনের খাওয়ার পয়সা জোগাড় হয়ে যায়। তারপরও তারা তা না করে দিনের পর দিন এভাবে ভিক্ষা করে দিন কাটায়। দেশে ভিক্ষুকরা ভিক্ষা করে পেটের দায়ে আরে পশ্চিমা বিশ্বে এরা ভিক্ষা করে শখে।

আরেক শ্রেনীকে পেয়েছি বিশেষ করে জার্মান এর বার্লিনে বেশী দেখেছি তারা হলো জীবন্ত স্টাচু। অর্থ্যাৎ সারা গায়ে চুন বা কালি বা যেমন খুশি সাজোঁর মতো করে সেঁজে দাড়িঁয়ে থাকে একেবারে স্টাচুর মতো করে। কোনভাবেই আপনি বুঝতে পারবেন না এরা জীবিত নাকি স্টাচু। বিশেস করে ঠান্ডার মতো দেশে এরকম স্বল্প পোষাকে প্রবল বাতাসে কিভাবে তারা ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িঁয়ে থাকে দেখলে মায়াই লাগে। ওদের থালাতেও তেমন কিছু দেখিনি ইনকাম হিসেবে।

তবে বার্লিন এর জীবন্ত স্টাচু ওয়ালারা কিন্তু পুরোদমে কর্মাশিয়াল। কেউ হিটলার সেজেঁ, কেউ মুসোলিনি সেজেঁ কেউবা মিকি বা গ্যাস চেম্বারের মুখোশে আছে। পয়সা দিবেন আর পাশে দাড়িঁয়ে ছবি তুলবেন। কিন্তু যদি পয়সা না দেন আপনি কোনভাবেই ছবি তুলতে পারবেন না। মুখ ঘুরিয়ে নিবে সাথে সাথে।


ছবির মিউজিশিয়ানের সাথে আমার খুব সখ্যতা। প্রতিদিন অফিস থেকে ফেরার সময় দাড়িঁয়ে তার গান শুনি। সে আমাকে দেখলেই গানের মাঝেই একগাল হেসে মাথা নুইয়ে অভিবাদন জানায়।


একে দেখে কি মনে হচ্ছে চমৎকার স্টাচু... তাই নয় কি!!! কিন্তু আপনি পয়সা দেবার সাথে সাথে টুপি খুলে আপনাকে অভিবাদন জানাবে। জার্মানীরে ড্রেসডান শহরে তোলা।


একে দেখে আমার খুব মায়া হয়েছে। এতো ঠান্ডা ও প্রবল বাতাস ছিল কিন্তু এর মধ্যে নির্বিকারভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। এটি জার্মানীর ড্রসলডাফ এ তোলা।






উপরের সবগুলো জার্মানীর বার্লিনে তোলা। সেখানে স্টাচু থেকে যেমন খুশি তেমন সাজের লোকজনই বেশী দেখা যায়। পয়সা দিবেন ছবি তুলবেন পাশে দাঁড়িয়ে এবং এর নির্দিষ্ট রেট ও আছে।


এটা বোনাস....

সব ছবিই আমার তোলা এবং যথাযথ পার্মিশন নিয়েই তুলেছি

লিখার অনুপ্রেরণা: ব্লগার খায়রুল আহসান ভাই।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ২:২৬
৩৮টি মন্তব্য ৩৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে ছবি গুলো আপনি আগে দেখেন নি (ছবি ব্লগ)

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৩০


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সদলবলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে।

যখনই আমাদের সামনে বিস্ময়কর কিছু ঘটে, আমরা সবসময়ই চেষ্টা করি সেই দুষ্প্রাপ্য মুহূর্তের একটা ছবি তুলে রাখতে। মাঝেমধ্যেই আমাদের চোখের সামনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মা-বাবাকে ভালো বাসুনঃ একটি শিক্ষনীয় গল্প যা বদলে দিতে পারে আপনার জীবন

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৫


অনেক অনেক দিন আগের কথা। এক দেশে সুন্দর এক নদীর পাড়ে ছিলো একটি বড় আপেল গাছ। একটি বালককে গাছটি খুব পছন্দ করতো। বালকটিও প্রতিদিন এসে গাছের চারপাশে খেলতো। গাছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে সবচেয়ে বড় ছিল ? (একটি কিরিগিজ রুপকথা)

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৭


কিরগিজের এক গ্রামে বাস করত তিন ভাই। ওদের সম্পত্তি বলতে ছিল শুধু একটা সাড়। জীবিত অবস্থায় এটাকে কিভাবে তিনভাগে ভাগ করে নেয়া যায় এর কোন যুক্তিসম্মত উপায় বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষনীয় গল্প বলা যেতে পারে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:২৪



আমেরিকায় এক বরফশীতল রাতে একজন কোটিপতি তার ঘরের সামনে এক বৃদ্ধ দরিদ্র মানুষকে দেখতে পেলেন। তিনি বৃদ্ধ মানুষটিকে জিজ্ঞাসা করলেন- বাইরে এত ঠান্ডা আর আপনার গায়ে কোন উষ্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পেঁয়াজের অপকারিতা ও ক্ষতিকর প্রভাব

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১১:২৫



অত্যন্ত আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করেছি আমি গুগল সার্চ করে পেঁয়াজের কোনো প্রকার অপকারিতা খুঁজে পাচ্ছি না! এমন একটি পণ্য যার শুধু গুণ আর গুণ! - এমনটি তো হবার কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×