somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সোহানী
হাজার হাজার অসাধারন লেখক+ব্লগারের মাঝে আমি এক ক্ষুদ্র ব্লগার। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া লেখালেখির গুণটা চালিয়ে যাচ্ছি ব্লগ লিখে। যখন যা দেখি, যা মনে দাগ কাটে তা লিখি এই ব্লগে। আমার ফেসবুক এড্রেস: https://www.facebook.com/sohani2018/

স্মৃতিকথা: আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন

০৪ ঠা জুন, ২০২১ সকাল ৯:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম দিন ক্লাসে ঢুকেই দেখি বিশাল ক্যাচাল, উত্তর আর দক্ষিন কোরিয়ার মতো দুই শ্রেনীতে বিভক্ত ক্লাস। এর এক শ্রেনী হলো ঢাকার বাসিন্দা যারা নিজেদেরকে শের শায়ের বংশধর মনে করে। আর দ্বিতীয় শ্রেনী হলো আমরা যারা গ্রাম গন্জ মফস্বল থেকে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি। তো এ ভিআইপি শ্রেনী মনে করে আমরা মনে হয় এইমাত্রই সদরঘাট থেকে নেমে ক্লাসে ঢুকছি। ঢাকা শহরের লাল নীল বাত্তি আমরা জীবনের এ প্রথম দেখছি।

তো এই প্রথম শ্রেনী রীতিমত ভাব নিয়ে ক্লাসে ঢুকে, নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্ব করে, তুই তোকারী করে ক্লাসে কথা বলে, হৈচৈ আড্ডায় মেতে থাকে ক্লাসে, বিশাল জন্মদিনে পার্টি করে, আর আমাদেরকে নিয়ে বেশ তুচ্ছ তাচ্ছিল ভাব নিয়ে চলে। একজনতো রীতিমত প্রশ্নই করে বসলো তুমি কি এর আগে কখনো কারেন্ট দেখেছো, তোমাদের বাসায় নিশ্চয় কোন কারেন্ট নাই!!! হাহাহাহা.......

যাহোক, তাদের দাপটে আমরা মোটামুটি মাইনকার চিপায় বইসা পড়লাম। এদিকে আমারতো মোটামুটি হার্টফেল করার অবস্থা। কই আইসা পড়লাম, কেমনে দিনকাল কাটামু, কেমনে পড়ুম এই আঁতেলগো লগে। বাসায় কিছু কওয়া যাচ্ছিল না কারন নিজের ইচ্ছায় জোর কইরা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হইছি্ আবার এদিকে সহ্যও যায় না এদের ভাব!

এদিকে আবার গোপন সূত্রে জানতে পারলাম ব্রাম্মণ গ্রুপে আবার তিন ভাগ। ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ আর নটেরডেম কলেজ। মেয়েরা দুইভাগে বিভক্ত হলিক্রস আর ননহলিক্রস। যদিও আমাদের আমরা সর্ব সাকূল্যে ১৩ জন মেয়ে ছিলাম। কারন একেতো বানিজ্য বিভাগ তারউপ্রে এ্যাকাউন্টিং তাই মেয়েরা খুব কমই এ পথ মাড়াতো।

এই ভাগাভাগিতে যখন আমি দিশেহারা তখন দেখলাম ক্লাসে আসল ভাগ হলো সেকশান... সেকশান A ও সেকশান B। অর্থাৎ যারা ভর্তি পরীক্ষার মেধায় তালিকায় আগে ছিল তারা সেকশান এ আর পিছনেরগুলো সব সেকশান বি। আমি যদিও সম্মিলিত মেধাতালিকায় ১২১ নাম্বারে ছিলাম কিন্তু কিছু কাগজ পত্রের সর্টের কারনে সময়মতো ভর্তি হতে না পারায় সেকশান বি তে পড়লাম। অবশ্য বলে নেই, সে সময়ে এ কাগজ পত্র নিয়ে আমাকে দৈাড়াতে বেশ সাহায্য করেছিল আমার বন্ধূ সুধীর, সেও গাঁও গেরাম থেকে আসছিল আমারই মতো। মফস্বল থেকে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর বিশাল রেজিস্টার বিল্ডিং এর প্যাঁচ বোঝা খুব কঠিন একটা কাজ ছিল। কলাভবনের প্যাচঁ বুঝতেই মাথা খারাপ অবস্থা ছিল। আর তখন এখনকার মতো বানিজ্য ভবন না থাকার কারনে কলা ভবনেই আমরা ক্লাস করতাম অনেকটা কাকের বাসায় কোকিলের ডিম পাড়ার মতো অবস্থা। সে গল্প আরেক পর্বে।

যাক, যা বলছিলাম। তো সেকশান ভাব নিয়েও বিশাল অবস্থা। যারা সেকশান এ তে ছিল তারা আবার সেকশান বি কে দেখলে নাক মুখ কান গলা সবকিছুই ছিটকাতো। আর সেকশান বি তাই নিজেদের মাঝেই চলার চেস্টা করতো। তবে এ সেকশান বি তে ও কিছু ঝামেলা তৈরী হলো। কিছু মিডল গ্রুপ ছিল যারা ঠিক জায়গা করে নিতে পারছিলনা ব্রাম্মণদের গ্রুপে। কিছুদিন পর অবশ্য তারা অবশেষে জায়গা করে নিল আমাদের মতো ক্ষেতে কাজ করা কৃষক মজুরদের সাথে।

তবে ক'দিন এদের ভাব সহ্য করে আমরা ক্ষেত মজুররা নিজেরাই বন্ধুত্ব করা শুরু করলাম। এরই মাঝে আমার সাথে বন্ধূত্ব হলো হাফ ভিআইপি হাফ ক্ষেত মজুর শ্রেনী নারায়নগন্জের দল। এরা অবশ্য কিছুটা মাইনকার চিপায় ছিল প্রথম থেকেই, না ভিআইপি বেশ ধরতে পারছিল, না ক্ষেত শ্রেনীর খাতায় নামও লিখাতে পারছিল। হাজার হোক নারায়নগন্জ ঢাকার বাড়ির পাশের মানুষ। তবে এদের একটা স্ট্রং দিক ছিল এরা সবাই একসাথে দল বেধেঁ চলতো। সকালে নারায়নগন্জ থেকে আসতো সবাই মিলে আবার ক্লাস শেষে একসাথে ফিরে যেত এক সাথে। ওদের বন্ডিং এর কারনে ব্রাম্মণরা এদেরকে খুব একটা ঘাটাতো না।

আজ এ পর্যন্ত। নেক্সট নিয়ে আসবো বন্ধুত্ব পর্ব।

সোহানী
জুন, ২০২১


বি: দ্র: একটু কারেকশান করছি। আমার বন্ধুরা জানিয়েছে ক্লাসের সেকশান ভাগের যে পদ্ধতি আমি বলেছি তা ঠিক নয়। ভর্তি পরীক্ষার মেধা তালিকা নয়, যে আগে ভর্তি হবে তার আগে রোল হবে। এবং এর মাঝেই প্রথম ভর্তিকৃত ৭৫ জন সেকশান এ তো ও বাকি ৭৫ জন সেকশান বি তে যাবে। একেকটি বিষয়ে ১৫০ জন করে ৪টি বিষয় এ্যাকাইন্টিং, ফিন্যান্স, ম্যানেজমেন্ট ও মার্কেটিং এ মোট ৬০০ জন ভর্তির সুযোগ পেতো।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুন, ২০২১ ভোর ৬:৪৫
২৫টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×