somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সোহানী
হাজার হাজার অসাধারন লেখক+ব্লগারের মাঝে আমি এক ক্ষুদ্র ব্লগার। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া লেখালেখির গুণটা চালিয়ে যাচ্ছি ব্লগ লিখে। যখন যা দেখি, যা মনে দাগ কাটে তা লিখি এই ব্লগে। আমার ফেসবুক এড্রেস: https://www.facebook.com/sohani2018/

এক যে ছিল কবিতার রাজ্য......

০৩ রা মার্চ, ২০২৩ সকাল ১০:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এক ছিল পরীদের কবিতার রাজ্য। সেখানে ছিল এক দল নারী পুরুষ কবির আনাগোনা। তারা দিন রাত কবিতার জাল বুনতো আর মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াতো বিভিন্ন কবিদের ডালে ডালে। সে কবি রাজ্যে ছিল এক ছড়াকার। কথায় কথায় ছড়া বানিয়ে সবাইকে অবাক করে দিতে তার তুলনা ছিল না। ধরে নেই পরী ছড়া কবির নাম অরুন কুমার। সে কবি অরুন কুমার ছিল খুব জনপ্রিয়, বিশেষকরে নারী পরীদের কাছে জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। নারী পরীদের সাথে এ ডালে ও ডালে উড়ে বেড়িয়ে ছন্দের যাদুতে মুগ্ধ করে রাখতো তাদের। সুন্দর সময় কেটে যেত তার।

সে পরী রাজ্যে বাস করতো এক সুন্দরী কবি। ধরে নেই তার নাম কিরন মালা। সে সুন্দরী পরী কবি কিরন মালা চাইতো সবাই তাকে ঘিরে থাকুক, নাচুক, মুগ্ধ হয়ে কবিতা লিখুক, তার পায়ের কাছে আঁছড়ে পড়ুক। অন্য কোন নারী কবিকে ঘিরে কেউ কবিতা লিখুক সে কোনভাবেই সহ্য করতে পারতো না। সে সারাক্ষনই চাইতো সব কবিরা তার চারপাশে মাছির মতো ভনভন করুক। যার কারনে কবি অরুন কুমারের নারী পরীদের চারপাশে ঘুরঘুর করা সে সহ্যই করতে পারতো না। তাই সে একটা ফন্দি আঁটলো, একদিন গোপনে কবি অরুন কুমারকে লিখে পাঠালো ,

"তোমাকে রেখেছি গোপন কুঠুরিতে
তুমি যে আমার প্রিয় আঁধার"

সে কবিতা পেয়ে কবি অরুন কুমার দিশেহারা অবস্খা। ধেই ধেই করে নাচতে লাগলো। মনে মনে ভাবলো, হায় হায় কবি কিরন মালার মতো সুন্দরী কবিতো দেখি আমার প্রেমে হাবুডুব খাচ্ছে। দিব্দিকশূণ্য হয়ে ছুটলো কবি কিরন মালার কাছে। কবিতার প্রতি উত্তরে সুন্দরী কবিকে বললো,

হেই আমার কাটুস কুটুস, দুস্টু মিস্ট প্রান ভোমরা
তুই না আমার "স্রেফ তোকে চাই" "স্রেফ তোমাকে চাই"
নয় কবিতায়, নয় বইমেলায়, ভোরের বুকে লেবুপাতা ওমে।।

তারপর, তারপর.............

সে পরী যুগল উড়ে বেড়ায় বন বাদাড়ে, ঘুরে বেড়ায় একা একা লোকালয় ছেড়ে অনেক দূরে ফেসবুকের ম্যাসেন্জারের অলিতে গলিতে। আর তাই সব পরীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল নিল কবি অরুন কুমার। গভীর প্রেমে হাবুডুবু খেতে লাগলো সুন্দরী কবির। আর যে কিছুই চাই না, তার তো আছে কবি কিরন মালা। সারাদিনময় শুধুমাত্র নাচে সুন্দরী পরী কবি কিরন মালা ঘিরে।

তারপর, তারপর কি হলো!!

তারপর, একদিন সুন্দরী পরী কবি কিরন মালা যখন বুঝতে পারলো কবি অরুন কুমারের চারপাশে আর কেউ নেই তখন তাকে টা টা বাই বাই বলে উড়ে চলে গেল অন্য কোন অরুন কুমারের খোঁজে। B-))

............. নাহ্ গল্পটা জমলো না। আসেন আরো চমকপ্রদ কোন গল্প শুনি।

এবারের রাজ্য হলো গদ্যের। সেটা কেমন??

এক ছিল এক গদ্যের রাজ্য। সেখানে ছিল এক নারী গদ্য লেখিকা। যদিও সে ভালো লিখতো কিন্তু সে চাইতো সবাই শুধু তাকে নিয়েই ব্যাস্ত থাকুক, তাকে নিয়ে কথা বলুক, খবরের পাতাগুলো তার খবর নিয়েই ভরে থাকুক। যখন খবরের পাতাগুলোতে তার খবর আসতো না, সে উম্মাদ হয়ে যেত। নতুন খবরের জন্ম দিতে মরিয়া হয়ে যেত। কখনো উস্কানীমূলক কোন লিখা লিখতো অথবা কখনো নামী দামী কোন লেখকের সয্যাসঙ্গী হয়ে তা কথা ছাপিয়ে দিতো। তার বেশ নাম ডাক ছড়িয়ে গেল দেশে বিদেশে।

তারপর তারপর কি হলো........

তো সে লেখিকাকে দেখে হালের একজন গদ্য লেখিকা ভাবলো, আরে এতো দারুন ব্যাপার!! সর্টকাটেতো ভালোই নাম কামানো যায়, সেলিব্রেটি হওয়া যায়, এসাইলাম পাওয়া যায়......!!! তারপর সে শুরু করলো উল্টাপাল্টা সিক্সটি নাইন লিখালিখি। কখনো ধর্ম, কখনো রাজনীতি, কখনো পুরুষসমাজ নিয়ে উস্কানী মূলক লিখা। তারপরও যখন দেখলো খুব একটা কাজ হচ্ছে না তখন নামীদামী কারো সয্যাসঙ্গীনী হয়ে তার সুক্ষাতিসুক্ষ বিবরন নিয়ে বই ছাপিয়ে দিলেন। .............. আর যায় কোথায়, কঠিন সেলিব্রেটি। এরকম ফ্রিতে অন্যের বেডরুমের খবর পেতে সবাই খুব পছন্দ করে তাই এ ধরনের লেখক/লেখিকার খুব সহজেই সেলিব্রেটি হয়। সাক্ষাতকার, এসাইলাম, টক শো, অনলাইন, বই, ম্যাগাজিন, টিভি........ তার মুখ দেখানো আর বন্ধই হয় না আর।।।

তারপর, তারপর......... ধুর মুড শেষ। আজ আর নাহ্ .......।

সোহানী
মার্চ ২০২৩

ছবি সূত্র: গুগুল মামা
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০২৩ সকাল ১০:৫১
২৬টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাশিয়ার পারমাণবিক যুদ্ধ

লিখেছেন ডাঃ আকন্দ, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৭

রাশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের আশংকা করা হচ্ছে। এই যুদ্ধ হলে, তা হবে পাগলামি। ইউরোপকেই এই মরণ মরণ খেলা বন্ধ করতে হবে। ইউরোপকে অনেক ছাড় দিয়ে এ যুদ্ধ বন্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

never give up!!! চেষ্টাটা যেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত হয়....

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১০



অনেকেই নিজের ভাগ্যকে দোষ দেন। বলেন- ''ভাই, ভাগ্য বিড়ম্বনায় আজ আমার এই অবস্থা।'' অনেককে এও বলতে শুনেছি- ''আজ ভাগ্য সহায় থাকলে অনেক দূর এগিয়ে যেতাম।''
.
এইসব মানুষদের আমি বলি- ''শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×