somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সোহানী
হাজার হাজার অসাধারন লেখক+ব্লগারের মাঝে আমি এক ক্ষুদ্র ব্লগার। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া লেখালেখির গুণটা চালিয়ে যাচ্ছি ব্লগ লিখে। যখন যা দেখি, যা মনে দাগ কাটে তা লিখি এই ব্লগে। আমার ফেসবুক এড্রেস: https://www.facebook.com/sohani2018/

একটু সময় দিন প্লিজ

০৯ ই আগস্ট, ২০২৪ সকাল ৮:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



টিকটকার মামুন, হিরো আলমদেরকে দেখে এতোদিন একটা নেগেটিভ ধারনা ছিল এ তরুন প্রজন্মকে ঘিরে। সবাই তাদেরকে টিকটক প্রজন্ম বলেই ভাবতো। কিন্তু কি অদ্ভুতভাবে সবার সব হিসেব নিকেশ পাল্টে গেল মূহুর্তেই। যা আমরা করতে পারিনি, যা এতো বছর বড় বড় দলগুলো করতে পারেনি তা ক'দিনেই করে দেখিয়ে দিয়েছে এ বাচ্চাগুলো।

সিনেমার কোন স্যুটিং নয়, সত্যিকারের বুলেটের সামনে তারা দাঁড়িয়ে বুক পেতে দিলো। মরতে লাগলো একের পর এক কিন্তু কোনভাবেই তাদেরকে দমাতে পারলো না লীগের গুন্ডাবাহিনী, পুলিশ, বিডিআর, র্যাব। অস্ত্রের মুখে খালি হাতে কিংবা কিছু লাঠি বা ইটের টুকরো নিয়ে প্রতিহত করতে লাগলো এ বাচ্চাগুলো। চারপাশ থেকে ছুটে এসে পাশে দাঁড়ায় বাবা-মা, দাদু-দিদা....। কেউ খাবার নিয়ে, কেউ পানি নিয়ে, কেউ ভিজে টাওয়াল হাতে নিয়ে ছুটে যায় বাচ্চাগুলোর পাশে। এ এক অভূতপূর্ব দৃশ্য, এমন দৃশ্য শুধু আমার দেশেই দেখা যায়।

এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি | সকল দেশের রানি সে যে আমার জন্মভূমি।

তারপর দাম্ভিক স্বৈরাচার হঠাৎ করেই পালিয়ে বাঁচলো কিন্তু পিছনে রেখে গেল তার গুন্ডা বাহিনী। ক্ষমতার পালা বদলের সুযোগে হয়তো পুরোনো গুন্ডা বাহিনী বা সুযোগ সন্ধানী বাহিনী নেমে পড়লো ধ্বংসযজ্ঞে। জ্বালাও, পোড়াও কিংবা ডাকাতির মাধ্যমে দেশকে অস্থির করার চেস্টা শুরু করলো। আর এর সাথে প্রতিবেশী দেশ একচ্ছত্র অধিকার হারানোর শোকে শুরু করলো প্রপাগান্ডা। হিন্দু পরিবার বা মন্দির আক্রমন হচ্ছে বলে দাঙ্গা লাগানোর ব্যার্থ চেষ্টা করে যেতে লাগলো তারা।

পুলিশ বা অন্য বাহিনী কর্মবিরতিতে, সরকার প্রধান এখনো ক্ষমতায় নেই, তারপরও সব বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে আবারো মাঠে নেমে পড়লো বাচ্চাগুলো লাঠি, বাঁশি হাতে। দিনের ট্রাফিক সামলাচ্ছে, বাজার দেখভাল করছে, রাস্তা পরিস্কার করছে আর রাতের ডাকাত দলকে তাড়া করছে তারা। প্রানপন চেষ্টা করে যাচ্ছে তারা ৫৩ বছরের জন্জাল পরিস্কার করতে।

কি অভূতপূর্ব দৃশ্য চারপাশে। এরাই আমাদের ছেলে, এরাই আমাদের ভবিষ্যত। হাঁ ওরাই পারবে, ওদের উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। যা আমরা পারিনি এ ৫৩ বছরে আজ তারা জেগেছে, অবশ্যই তারা পারবে।

আর অতীতের সকল গুন্ডা ও ব্যার্থ বাহিনী ও তাদের সুবিধাভোগীদের উদ্দেশ্যে বলছি, ৫৩ টা বছর দেশকে লুটেপুটে খেয়েছেন। ধ্বংস করেছেন দেশকে। দূর্নীতি, চুরি, বিদেশে টাকা পাচার, বিচার বর্হিভুত হত্যা, গুম ............... অনেক কিছুই করেছেন এ ৫৩টা বছরে। যথেস্ট করছেন ও বয়স হইছে আপনাদের। এবার অবসরে যান। আপনাদেরকে ছাড়াই দেশটা চালাক এ নতুন প্রজন্ম।

আর যারা ক্ষমতা হারিয়ে পাগলপ্রায়, তাদেরকে বলছি: তরুনদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে যাচ্ছেন তা বন্ধ করেন। আম্রিকা/চীনার ষড়যন্ত্র বলে যে চিল্লাপাল্লা করছেন তা বন্ধ করেন। দেশ আফগানিস্তান/পাকিস্তান হয়ে যাবে তার চিন্তা বাদ দেন।

দেশ এখন সংস্কার চলছে। এবং এর দায়িত্ব নিয়েছে একদল তরুন। আর তরুনদের উপর পূর্ণ আস্থা আছে আমাদের। ওদের বুকে আগুন, সৎ, দূর্নীতিগ্রস্থ নয়, দেশকে এগিয়ে নেবার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তারা। তারা পারবেই পারবে। আর আমার দেশ সোনার বাংলা হিসেবে বিশ্বের মাঝে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াবে অবশ্যই।

যারা শহীদ হয়েছে দ্বিতীয় এ যুদ্ধে, আমরা তোমাদের কখনই ভুলবো না। তোমাদের আত্মত্যাগেই আমরা পেয়েছি এ নতুন স্বাধীনতা।

আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।

সোহানী
আগষ্ট ০৮, ২০২৪
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০২৪ সকাল ৮:৫৫
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৯

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।
=======================================
অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ও অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি নামের ব্রিটেনের কিছু প্রবাসী বাংলাদেশিদের ছোট সংগঠন থেকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদিক হাসনাতের প্রোগামে রাকাজার মঈনুদ্দীন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



এই ছবিটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিজেস্ব অর্থায়নে সাদিক হাসনাতের প্রোগামের। অসংখ্য আঙ্কেল আন্টিদের মাঝে একজন বিশেশ লোককে দেখা গেল সেখানে। লোকটাকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ছবিতে। এই লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×