somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হেসিয়দ: প্রাচীন গ্রিসের এক কবি

০৩ রা মে, ২০১০ বিকাল ৪:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


হেসিয়দ: প্রাচীন গ্রিসের এক কবি। গ্রিক সাহিত্যের প্রথম দু’জন বিখ্যাত লেখক হলেন হোমার ও হেসিয়দ । আমাদের এখানে হোমার তুমুল আলোচিত হলেও হেসিয়দ-এর নামটি ততটা আলোচিত নয়; তবে কে কার আগে বেঁচে ছিলেন তা নিয়ে ইউরোপীয় ঐতিহাসিকদের মধ্যে আজও যথেষ্ট মতবিরোধ রয়েছে ... যে কারণে আমরা সে বিতর্কে যেতে চাই না। হেসিয়দ ‘ওয়ার্কস অ্যান্ড ডে’জ’ এবং এবং ‘থিওগনি’ নামে দুটি কাব্যের রচয়িতা। প্রাত্যহিক কৃষিজীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও গ্রিক দেবদেবীর বিবরণ এবং কালপঞ্জীই হেসিয়দ-এর কাব্যের বিষয়বস্তু । হেসিয়দ- এর কাব্যে রয়েছে এক আদিম ও অন্ধকার জগতের প্রতিচ্ছবি ...সে জগৎ আদিম কিন্তু সুবিন্যস্ত; সুবিন্যস্ত, কেননা হেসিয়দ-এর সময় থেকেই গ্রিক মনন ক্রমশ পরিনত হয়ে উঠছিল। হেসিয়দ কে প্রথম কৃষিবিদ এবং গ্রিক ডিডাকটিভ বা অবরোহী কাব্যের জনকও বলা হয়।



প্রাচীন গ্রিসের মানচিত্র। পুবে এশিয়া মাইনর, পশ্চিমে গ্রিসের মূলভূমি

খ্রিস্টীয় অস্টম শতকের মাঝামাঝি। একজন গ্রিক নাবিক গ্রিসের মূল ভূখন্ডের আসক্রায় বসবাস করতে শুরু করেন। তিনি আগে বাস করতেন এশিয়া মাইনরের এয়োলিয়ার সাইমি তে। গ্রিসের মূল ভূখন্ডের আসক্রা এয়োলিয়ার পশ্চিমে। যা হোক। এয়োলিয় বলে সেকালে একটি ভাষা ছিল, যে ভাষাটি গ্রিক ভাষারই শাখা,পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার ভাষা ও বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের ভাষা যেমন অভিন্ন বাংলা ভাষারই শাখা, তেমনি। এশিয়া মাইনরের এয়োলিয় ভাষাটি নাকি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও শ্র“তিমধুর ছিল। মহাকবি হোমার এই এয়োলিয় ভাষাতেই তাঁর মহাকাব্য দুটি গ্রন্থনা করেছেন।



এয়োলিও হার্প। পশ্চিমা সংগীতেও এয়োলিও সংগীতের গভীর প্রভাব; এয়োলিয় মাইনর নামে একটি স্কেল রয়েছে, যে স্কেলটি বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় । আমাদের দেশে এয়োলিয় মাইনর কেবলি ‘মাইনর স্কেল’ নামে পরিচিত। ‘মাইনর স্কেল’ ৩ ভাগে বিভক্ত। (১) ন্যাচারাল মাইনর। (২) হারমোনিক মাইনর এবং (৩) মেলোডিক মাইনর। এই ন্যাচারাল মাইনরই এয়োলিয় মাইনর -যা ছিল এয়োলিও অঞ্চলের অন্যতম স্কেল। খ্রিস্টীয় ৬ষ্ট শতকে ইউরোপের গির্জে পিতারা এয়োলিও মাইনর স্কেলটিকে পাশ্চাত্য সংগীতে পদ্ধতিগত ভাবে সংযোজন করেন।



বিয়োশিয়ার মানচিত্র । জায়গাটা এথেন্সের পশ্চিমে ...



বিয়োশিয়ার প্রাকৃতিক দৃশ্য

যা হোক। আসক্রা জায়গাটা গ্রিসের বিয়োশিয়ায়, ওখানেই রয়েছে বিখ্যাত চারণ ভূমি, উর্বর কৃষিক্ষেত্র। যে কারণে অভিবাসী নাবিকটি কৃষিকাজকে পেশা হিসেবে গ্রহন করেন । এবং কালক্রমে তাঁর দুটি পুত্রসন্তান জন্ম লাভ করে। একজনের নাম: পারসেস,অন্যজনের নাম: হেসিয়দ। যে হেসিওদ সম্বন্ধে ভবিষ্যতের পৃথিবীর এন এন ডি বি নামে একটি ওয়েব সাইট লিখবে :

হেসিয়দ

জন্ম: ৭০০ খ্রিস্টপূর্ব।
জন্মস্থান: বিয়োশিয়া, গ্রিস।
মৃত্যু:৭০০ খ্রিস্টপূর্ব।
মৃত্যুর স্থান: বিয়োশিয়া, গ্রিস।
মৃত্যুর কারণ: আনস্পেসিফায়েড।
লিঙ্গ: পুরুষ।
এথনিসিটি: হোয়াইট।
পেশা: কবি।
জাতীয়তা: প্রাচীন গ্রিস।
এক্সিকিউটিভ সামারি: ওয়ার্কস অ্যান্ড ডে’জ



হেসিয়দ। আজও এই একুশ শতকেও স্মরণীয় ...



বিয়োশিয়ার হেলিকন পাহাড়

বিয়োশিয়ার আসক্রায় পারসেস আর তার ভাই হেসিয়দ বেড়ে উঠছে। তারা একত্রে মেষ চড়ায়। কাছেই হেলিকন পাহাড়। সেই পাহাড়ের ঢালের তৃণবর্ণের তুমুল সৌন্দর্য, ওপরকার অবারিত নীলাকাশ, বিস্তীর্ণ সবুজাভ দ্রাক্ষাকুঞ্জ, আঁকাবাঁকা পাথরগর্ভা নদী, সবুজ রঙা আদিগন্ত ঘাসের প্রান্তরে অটুট নির্জনতা... হেসিয়দ কবি হয়ে ওঠে। পক্ষান্তরে পারসেস ভাবে কি করে আরও ভেড়া বিক্রি করে ধনী হয়ে ওঠা যায়! পক্ষান্তরে হেসিওদ ভেড়াদের সঙ্গে কথা কয়। কবি তো! হেসিওদ খ্রিস্টীয় অস্টম শতকের মাঝামাঝির কবি, অর্থাৎ, ২৭০০ বছরের আগের কবি। ভেড়া দেখে কি ভাবতেন সেই কবিটি? ইংরেজ কবি উইলিয়াম ব্লেকের একটি কবিতা আমাদের এই প্রশ্নের উত্তর দেয়। উইলিয়াম ব্লেকের জন্ম, ১৭৫৭ সালে ...‘দ্য ল্যাম্ব’ কবিতায় ব্লেক লিখেছেন ...

Little lamb, who made thee?
Dost thou know who made thee,
Gave thee life, and bid thee feed
By the stream and o'er the mead;
Gave thee clothing of delight,
Softest clothing, woolly, bright;
Gave thee such a tender voice,
Making all the vales rejoice?
Little lamb, who made thee?
Dost thou know who made thee?






বিয়োশিয়ার প্রাকৃতিক দৃশ্য

এসব মেটাফিজিক্যাল ভাবনা নিয়েই কিশোর হেসিওদ বড় হয়ে উঠতে থাকে। ভেড়া নিয়ে চারণক্ষেত্রে যায়। পারসেস আর যায় না। সে আগোরায় দোকান দিয়েছে ( আগোরা বলতে কেবল গ্রিসের এথেন্স নগরের আগোরা বুঝলে ভুল হবে। তৎকালে গ্রিসজুড়ে যেসব নগররাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল তার প্রত্যেকেরই নগরের মাঝমধ্যিখানে হাটবাজার ছিল, যার নামই আগোরা। )...পারসেস বিয়ে করেছে। আলাভোলা হেসিওদ-এর আর বিয়ে করা হল কই? ...



হেসিওদ এর সময়কার প্রত্নবস্তু

তো একদিন। হেলিকন পাহাড়ের কুয়াশার রূপ ধরে এলেন মিউজ। মিউজ হলেন গ্রিসের জ্ঞান ও কাব্যকলার দেবী। জ্ঞানের দেবী নির্মল হৃদয়ের অধিকারী হেসিওদকে দান করলেন বর । বললেন,‘তুমি যথাসাধ্য লিখ। যুগযুগ ধরে মানুষ তোমায় স্মরণ করবে, পারসেস এর নামও নেবে না ।’
দেবীর কথা শুনে হেসিওদ মহাকাব্য লিখতে অনুপ্রাণিত হলেন।

ছবি। হেসিয়দকে মিউজ কাব্য লিখতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, এটি যুগ যুগ ধরে ইউরোপী শিল্পীদের প্রিয় এক থিম। এ রকম দুটি ছবি।





যা হোক। যা হয় ... ঘনিয়ে এল দুর্যোগ । কবির বাবা মারা গেলেন। উত্তরাধিকারসূত্রে হেসিয়দ সামান্য সম্পদ পেল। সে সম্পদ কুক্ষিতগত করতে মামলা করল ধূর্ত পারসেস । পারসেস মামলার রায় নিজের পক্ষে আনার জন্য বিচারককে ঘুষ দিয়েছিল। এই কথা কানে যেতেই কবির মন ভেঙে যায়, কবি আসক্রা ছেড়ে নাওপ্যাক্টাস নামে একটি জায়গায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

হায়, একজন ভগ্নহৃদয় কবি জন্মস্থান ছেড়ে চলে যাচ্ছেন নাওপ্যাক্টাস নামে একটি জায়গায়
হায়, একজন ভগ্নহৃদয় মানুষ চলে যাচ্ছেন নাওপ্যাক্টাস নামে একটি জায়গায়
হায়, কাছের মানুষের সংকীর্ণতা দেখে একজন বিশাল হৃদয়ের মানুষ কষ্ট পেয়েছিলেন
আজ থেকে ২ হাজার ৭০০ বছর আগে ...

নাওপ্যাক্টাস এ কবি উঠলেন এক সদ্য পরিচিত লোকের বাড়ি। গৃহকর্তার ছেলে আরেক পারসেস। গৃহকর্তার ছেলের শিল্পবোধ মোটেও ছিল না, কবির ব্যাক্তিত্বের মাধুর্য আবিস্কার করতে পারেনি সে হতভাগা ...কবির দুর্ভাগ্য এই যে তিনি সেই গৃহকর্তার ছেলের হাতেই খুন হন। খুন করার কারণটি জানা যায়নি। পরে তার মরদেহ অবশ্য আসক্রায় নিয়ে আসা হয়েছিল।



গ্রিকভাষায় ‘ওয়ার্কস অ্যান্ড ডে’জ’ এর পান্ডুলিপি

আগেই বলেছি কবি হেসিওদ দৈব অনুপ্রেরণায় রচনা করেছিলেন ‘ওয়ার্কস অ্যান্ড ডে’জ’ এবং ‘থিওগনি’ নামে দুটি কাব্য। হেসিওদ আসলে ছিলেন পল্লীর কবি: ‘ওয়ার্কস অ্যান্ড ডে’জ’ এ তৎকালীন পল্লীজীবনের প্রতিদিনকার কাজের অভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে। হেসিওয়দ ছিলেন নিুবৃত্ত গৃহস্থ কৃষক, তারই প্রতিচ্ছবি পড়েছে তাঁর লেখায়। আমৃত্যু কৃষিজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন। এখানেই জসীমউদ্দীনের সঙ্গে হেসিওদ-এর পার্থক্য, জসীমউদ্দীন পল্লীজীবন নিয়ে লিখেছেন, সম্ভবত লাঙল ধরেননি, হেসিওদ ছিলেন পুরোদস্তুর একজন কৃষক। বাংলার কবি জসীমউদ্দীন ছাড়াও ‘ওয়ার্কস অ্যান্ড ডে’জ’ এ হেসিওদ এর ভিতরে আমরা খনা ও শাইখ সিরাজের মিশ্রন দেখতে পাই। হেসিওদকে যে কারণে প্রথম কৃষিবিদ বলা হয়। এ ছাড়া ‘ওয়ার্কস অ্যান্ড ডে’জ’ এ রয়েছে উপকথা, রূপক, ব্যাক্তিগত ইতিহাস, বিয়োশিয়ার মেষপালকদের কালপঞ্জীর মিশ্রন। এই কাব্যে উৎসাহিত করা হয়েছে সৎ পরিশ্রমকে, তিরস্কার করা হয়েছে আলস্যকে। পুরো ‘ওয়ার্কস অ্যান্ড ডে’জ’ জুড়েই রয়েছে কৃষিকাজের দিকনির্দেশনা । এছাড়া রয়েছে ধর্মীয় কালপঞ্জী, কৃষকের কোন্ দিন শুভ আর কোন্ দিন অশুভ, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা। অদ্ভূত হলেও সত্য পুরো ওয়ার্কস অ্যান্ড ডে’জ কাব্য ভাই পারসেস কে উদ্দেশ্য করে লেখা ... যে ভাই কবির মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। হেসিওদ-রচিত‘ওয়ার্কস অ্যান্ড ডে’জ’ কে গ্রিসের প্রথম ফেবল, বা কল্পকাহিনী বলা হয়। সমগ্র কাব্যটি এপিক ভার্স ফর্মে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
এখন ‘ওয়ার্কস অ্যান্ড ডে’জ’ থেকে কিয়দংশ পাঠ করা যাক-

যদি তুমি উত্তরায়ণে কর চাষ উর্বর ভূমি,
মুঠোয় আঁকড়ে ধরবে তুমি বসে যাওয়া কৃশকায় ফসল
আর বাঁধবে তির্যক শষ্যের বোঝা, ধূলিময়, অসন্তুষ্টি, ঝুড়িতে করে
বাড়ি বয়ে আনবে আর অন্যেরা চোখে দেখবে শ্লেষ। যদিও
জিউসের ইচ্ছে, যিনি ধরে রাখেন বিভিন্ন আনুকূল্য বিভিন্ন সময়ে,
আর এটি বলা মরনশীল মানবের পক্ষে দুস্কর; যদি তুমি বিলম্বে
তুলে নাও লাঙল, তুমি সম্ভবত লাভ করবে প্রতিবিধান ...
ওক গাছের পাতার ভিতর যখন প্রথম ডাকে কোকিল আর
সীমাহীন পৃথিবীতে মানুষ হয়ে ওঠে আনন্দিত, যদি জিউস তৃতীয় দিনে
পাঠায় বৃষ্টি, বৃষ্টির যে জল ষাঁড়ের ক্ষুরের ওপর ওঠে না কিংবা এর নিচেও না-থাকে,
তাহলে বিলম্বিত লাঙলের চাষ প্রতিযোগীতা করতে পারবে
লাঙলের প্রথম চাষ এর সঙ্গে। এইসব ভালো ভাবে মনে রেখ, আর
মনে রেখ ধূসর বসন্তের কথাও, আর বর্ষনের মাসটির কথা ...

এজন্যই আমি বলছিলাম বাংলার কবি জসীমউদ্দীন ছাড়াও ‘ওয়ার্কস অ্যান্ড ডে’জ’ এ হেসিওদ এর ভিতরে আমরা খনা ও শাইখ সিরাজের মিশ্রন দেখতে পাই।



থিওগনি বইয়ের প্রচ্ছদ

পক্ষান্তরে ‘থিওগনি’ কাব্যটি খ্রিস্টীয় অস্টম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত গ্রিসের প্রচলিত ধর্মবিশ্বাসের
কাব্যিক সারৎসার, এবং সে কারণেই ‘থিওগনি’ গ্রিক মিথলজির প্রধান উৎস, সেই সঙ্গে মানুষের আদি
জ্যোতিবিজ্ঞান চর্চার উৎকৃষ্ট এক নিদর্শন; আজ থেকে ২,৭০০ বছর আগে মানুষ কোন্ চোখে তাকিয়েছিল আকাশের দিকে ... অপার রহস্যে ভরা ওই মহাবিশ্বের দিকে। থিওগনি কাব্যটির বিষয়বস্তু বিশ্বজগতের সৃষ্টি (কসমোগনি)ও দেবদেবী (থিওগনি) ... সেই সঙ্গে গ্রিক দেবতাদের কালপঞ্জী। গ্রিক নগর সমূহের উপকথাও এতে আছে। গ্রিক উপকথা সম্বন্ধে হেসিওদ যা লিখেছেন তা গ্রিক ভাষাভাষী সমাজ গ্রহন করে এবং আজও বিশ্বজুড়ে মানুষ তারই চর্চা করে যাচ্ছে। উপরোন্ত গ্রিক মিথ বলতে বাঙালি শিক্ষিত সমাজ আজ যা বুঝে তা কবি হেসিওদ এর হাতেই সর্বপ্রথম প্রস্ফুটিত হয়েছিল। থিওগনিও এপিক ভার্স ফর্মে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
থিওগনি থেকে পাঠ করা যাক-

... And Night bare hateful Doom and black Fate and Death, and she bare Sleep and the tribe of
Dreams. And again the goddess murky Night, though she lay with none, bare Blame and painful Woe, and the Hesperides who guard the rich, golden apples and the trees bearing fruit beyond glorious Ocean. Also she bare the Destinies and ruthless avenging Fates, Clotho and Lachesis and Atropos (10), who give men at their birth both evil and good to have, and they pursue the transgressions of men and of gods: and these goddesses never cease from their dread anger until they punish the sinner with a sore penalty. Also deadly Night bare Nemesis (Indignation) to afflict mortal men, and after her, Deceit and Friendship and hateful Age and hard-hearted Strife.



গ্রিক ভাষায় হেসিয়দ এর কাব্য

তখন লিখেছিলাম হেলিকন পাহাড়ের পাদদেশে কুয়াশারূপে আর্বিভূত দেবী নির্মল হৃদয়ে অধিকারী হেসিয়দ কে বর দান করেন। তারপর বলেন,‘তুমি যথাসাধ্য লিখ। যুগ যুগ ধরে মানুষ তোমায় স্মরণ করবে, পারসেস এর নামও নেবে না ।’ দেবীর বাক্যই সত্য হয়েছে। আজ আমরা বলি যে হোমার ও হেসিওদ -এ দু’জন হলেন গ্রিক সাহিত্যের প্রথম বিখ্যাত লেখক। ...বাস্তববাদী পারসেস বেঁচে থেকে ভাইয়ের সম্পদ গ্রাস করে তার কী লাভ হল কে জানে, আমরা তাকে ধিক্কার দেই। তার কারণেই কবি নাওপ্যাক্টাস-এ চলে যেতে বাধ্য হলেন এবং সেখানকার গৃহকর্তার ছেলের হাতে খুন হলেন। তার আগে পারসেস কবির সম্পদ নিয়ে মামলা করল, বিচারককে ঘুষ দিল । এতে কবির মন ভেঙে যায় ... ছিঃ, যুগ যুগ ধরে লোভী বিষয়ী মানুষেরা নির্লোভ মানুষদের কষ্ট দিয়েছে। ... যে হেসিওদ ভালোবাসতেন হেলিকন নামে এক পাহাড়ের ঢালের তৃণবর্ণের তুমুল সৌন্দর্য, ওপরকার অবারিত নীলাকাশ, বিস্তীর্ণ সবুজাভ দ্রাক্ষাকুঞ্জ, আঁকাবাঁকা পাথরগর্ভা নদী, সবুজ রঙা আদিগন্ত ঘাসের প্রান্তরে অটুট নির্জনতা ... যে গন্ধময় সবুজ নির্জনতা এক গ্রিক কিশোর হেসিয়দ কে কবি করে তুলেছিল আজ থেকে ২৭০০ বছর আগে ...
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০১০ রাত ১১:০৫
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নদী ও নৌকা - ১৫

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২৩ শে মে, ২০২২ দুপুর ১২:২৫


ছবি তোলার স্থান : কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ, কক্সবাজার, বাংলাদেশ।
ছবি তোলার তারিখ : ০১/১০/২০২০ ইং

নদী, নদ, নদনদী, তটিনী, তরঙ্গিনী, প্রবাহিনী, শৈবালিনী, স্রোতস্বতী, স্রোতস্বিনী, গাঙ, স্বরিৎ, নির্ঝরিনী, কল্লোলিনী, গিরি নিঃস্রাব, মন্দাকিনী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেইদিনের কথা (ছেলেবেলার পোংটামি)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৩ শে মে, ২০২২ রাত ৮:১১

শেকল
এলাকার এক ভাবীর সাথে দেখা। জিগ্যেস করলেন, বিয়েশাদি করা লাগবে কি না। বয়স তো কম হলো না।
একটু চিন্তা করে বললাম, সত্যিই তো। আপাতত একটা করা দরকার।
তো এই ভাবী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে কেমন পোশাক পড়বে মোল্লাদের জিজ্ঞেস করতে হবে ?

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ২৩ শে মে, ২০২২ রাত ৮:৫২




কয়েকদিন আগে আমরা পত্রিকায় পড়েছি পোশাকের কারণে পোশাকের কারণে হেনস্থা ও মারধরের শিকার হয়েছেন এক তরুণী। চিন্তা করতে পারেন!! এদেশের মোল্লাতন্ত্র কতটুকু ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে? কোরানে একটা আয়াতও কি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন এত জ্বলে !!

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ২৩ শে মে, ২০২২ রাত ৯:১৮


কেন এত জ্বলে !!
© নূর মোহাম্মদ নূরু
(মজা দেই, মজা লই)

সত্য কথা তিক্ত অতি গুণী জনে বলে,
সত্য কথা কইলে মানুষ কেনো এত জ্বলে?
তাঁদের সাথে পারোনা তাই আমার সাথে লাগো,
সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাহা দেখি, তাহাও ভুল দেখি!

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৪ শে মে, ২০২২ সকাল ১১:২৫



আমার চোখের সমস্যা বেড়ে গেলে, আমি অনেক কিছুকে ডবল ডবল দেখি; ইহা নিয়ে বেশ সমস্যা হয়েছে সময় সময়, এটি ১টি সমস্যার কাহিনী; বেশ আগের ঘটনা।

আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×