somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

¤....স্বস্পর্শী রৌদ্র বালিকা....¤

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

.
মেস থেকে বের হয়েই মনে হচ্ছিলো কি যেনো একটা নিইনি । কি নিইনি সেটা মনে আসছেনা । অথচ মনে না আসা পর্যন্ত মনের খচখচানি কমবে না । আমার উচিত ওটাকে ভুলে যাওয়া । কিন্তু পারছিনা । তবে বের তো হয়েই গেছি । অবশ্য পরিব্রাজকদের কখনোই তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ই থাকেনা যে সেটা না নিলে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে...
.
.
এখনকার মতে গন্তব্য ঠিক করেছি কারো বাসায় হুট করে হাজির হবো । রাত হয়েছে । ক্ষুধার অস্তিত্ব টের পাওয়া যাচ্ছে । পাশের কোনো বাসায় মাংস ভুনার সুগন্ধ পাচ্ছি । কিন্তু ঠিক কোন বাড়ী থেকে আসছে সেটা বুঝতে পারছিনা । আমার পরিচিত বেশ কিছু মানুষ আছে । যাদের কাছে গেলেই আজকের খাওয়ার আশাটা পূর্ণ হবে ।
সেই হিসেবেই আমার এখনকার গন্তব্য সোয়াইব মিয়ার বাড়ী ।
.
: সোয়াইব মিয়া বাসায় আছো নাকি ?
- কে ?
: কেউনা । আমি পরি ।
সোয়াইব হুড়মুর করে বাইরে আসলো । অবাক করে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে ।
: কি ব্যপার সোয়াইব মিয়া ?
অসময়ে এসে পড়লাম নাকি ?আর তুমি এমন খালি গায়ে আছো কেনো ? আর একটু হলে তো তোমার লুঙ্গিও খুলে পড়বে ।সোয়াইব অপ্রস্তুত হয়ে লুঙ্গি ঠিক করতে লেগে গেলো । আর বললো,
- আসেন পরি ভাই ভেতরে আসেন । আমি কথনোই ভাবিনাই যে আপনি আমার এখানে আসবেন ।
: হুম । আমিও জানতামনা যে আসবো । হটাত্ চলে এলাম । চলো ভেতরে চলো ।
- চলেন পরি ভাই ।

সোয়াইবের সাথে আমার পরিচয় খুব আকস্মিক । সোয়াইব একটা গার্মেন্টস এ চাকরি করতো বছর দুয়েক আগে । সংসারে তখন তার কেউ ছিলোনা । তাই বেতনের টাকাটা পুরোটা কখনোই সে তুলতোনা । মাস চলার মতো কিছু
তুলতো । বাকিটা রেখে দিতো । তারপর একসময় সোয়াইব চাকরী ছেড়ে সেই জমানো টাকাটা তুলে ব্যবসা করার জন্যে টাকাটা চাইলো । কিন্তু সেই গার্মেন্টস ম্যানেজার আজ কাল করে টাকাটা আর দিচ্ছিলোনা । এ নিয়ে বেশ কয়েকদিন পরে সোয়াইব আর সেই ম্যানেজার রাস্তায় যখন কথা কাটাকাটি করছিলো তখন আমি ঐ পাশ দিয়েই যাচ্ছিলাম ।
কি হয়েছে বলতেই সোয়াইব আমাকে সব খুলে বললো । আমি এগিয়ে গিয়ে ম্যানেজারের কলার চেপে ধরে শুধু বললাম,
'এই ব্যাটা, যদি নিজের ভালো চাস তো টাকাটা দিয়ে দে এখন ই । নইলে বেওরিশ লাশ হিসেবে তোর লাশটা মেডিকেল কলেজে পাঠাবো ।'
ম্যানেজার থতমত খেয়ে বললো,
'কে আপনি ভাই ?'
আমি সাথে সাথেই বললাম,
'আমারে চিনস না তুই ? আমি এম. পি নূরুল হকের সবচেয়ে ছোট ভাই' ।
ব্যাস । সাথে সাথেই কাজ হয়ে গেলো ।
সেদিন খুব জোর করেছিলো সোয়াইব ওর বাড়ীতে খাবার জন্য । আমি আসব বলে আর আসিনি । শুধু বাড়ীটা চিনে রেখে গিয়েছিলাম । প্রায় দেড় বছর পর আজ আমার আসার সময় হয়েছে । তাই আসলাম ।
.
- এতোদিন কোথায় ছিলেন পরি ভাই ?
: এখানেই ছিলাম ।
- অ । আমি মনে মনে আপনাকে অনেক খুজেছি । পাইনি । আপনি থাকেন কোথায় সেটাও তো জানিনা । আপনার ভাবী তো এখনও আপনার কথা বলে ।
: হুম ।
- আজ কি কোথাও বেড়িয়েছিলেন
নাকি পরি ভাই ?
: হু । যাবো । প্রথমে তোমার এখানেই আসলাম ।
- খুব ভালো করেছেন । আমি খুব খুশি হয়েছি । কোথায় যাবেন ?
: দু জন অতি পরিচিত মানুষের কাছে । তারপর সেখান থেকে আর একজনকে খুজতে ।
- অ । আরেকজন কে পরি ভাই ?
: স্বস্পর্শী রোদ্র বালিকা ।
- এটা কি ?
: তুমি বুঝবেনা । সোয়াইব আজ কিন্তু তোমার বাসায় খেতে এসেছি । গরু মাংস ভুনা সাথে খিচুরী । পাওয়া যাবে তো ?
- অবশ্যই পাওয়া যাবে । ফ্রিজে মাংস আনাই আছে । চিকন চালও আছে । শুধু রান্না করতে হবে ।
: ঠিক আছে । তুমি ব্যবস্থা কর । আমি শুয়ে পড়লাম । খেয়েই বের হতে হবে । কাজ আছে ।
- এই রাতে আবার কি কাজ ?
: আছে । খুব জরুরী কাজ । খুব জরুরী ।। যাও তুমি রান্নার ব্যবস্থা করো ।
.
সোয়াইবের মতো মানুষেরা খুব কৃতজ্ঞ হয় । কেউ এদের উপকার
করলে এরা কখনো সেই উপকার
ভোলেনা । এবং যখন যেভাবে পারে তার প্রতিদান দেয় । সেই সুযোগটাই আজ আমি নিয়েছি ।
.
.
খাওয়ার সাথে সাথেই বেরিয়ে পড়াটা উচিত হয়নাই । পেট ভারী ভারী লাগছে । সোয়াইব মিয়ার বাড়ীতে আর কিছুক্ষণ থেকে গেলে হতো । সোয়াইবের বউ অনেক করে বলছিলো থেকে যাবার জন্য । আমি থাকিনি । কারণ একটু বিশ্রাম নিতে গেলেই আলসেমি ধরে যাবে । তাহলে আর স্বস্পর্শী রৌদ্র বালিকাকে খোজা হবেনা ।
.
.
আমার পৃথিবীতে দুজন অতি পরিচিত মানুষ আছে । কেনো জানিনা এ দুটো মানুষ আমাকে অসম্ভব রকম ভালোবাসে । এদের তীব্র ভালোবাসা অগ্রাহ্য করা অসম্ভব আমার জন্য । এ জন্যেই এদের কাছে আমি বার বার আসি । এখনকার গন্তব্য তাদের ই একজনের বাসায় । ওর নাম অনীশা । আমার বোন । বৃষ্টি পাগল একটা মেয়ে । বৃষ্টি হলেই ও ভিজবে । ওর ধারণা বৃষ্টি হলেই ভিজতে হয় । যদি ভেজা না হয় তবে বৃষ্টিকে অপমান করা হয় । আমি বৃষ্টি পাগল নই । কিন্তু এই বৃষ্টি পাগল মেয়েটা যে কিভাবে আমার বোন হলো সেটাই রহস্য ।
.
.
আজ আর অতি পরিচিত কিছু জিনিস দেখছিনা । যেমন রাস্তার
পাশে দাড়িয়ে থাকা ল্যাম্পপোষ্ট । পাশের কিছু বাড়ী । আকাশের প্রায় পূর্ণ চাদ । কিছুই দেখছিনা । মাথা নিচু করে চুপচাপ হেটে যাচ্ছি গন্তব্যে ।
.
সৃষ্টিকর্তা মনে হয় পৃথিবীটাকে অনেক যত্নের সাথে সৃষ্টি করেছিলেন । তারপর অযত্নে ফেলে রেখেছেন । আমরা মানুষেরা এর কিছু জায়গার যত্ন
নিচ্ছি । সেসব জায়গাকে চোখে অদ্ভুত সুন্দর লাগে । এমন একটা জায়গায় যেতে ইচ্ছে হচ্ছে । আমার চারপাশের মানুষগুলোর এই অপূর্ণ ইচ্ছেগুলো দেখতে আর ভালোলাগেনা.....
.
.
রাত এখনো খুব বেশি হয়নাই । প্রথম প্রহর শুরু হয়েছে বেশ কিছু আগে । স্বস্পর্শী রৌদ্র বালিকাকে খুজতে যাবার সময় এখনো আসেনি । অনীশাদের বাসার কাছাকাছি চলে এসেছি......
.
.
.
চলবে....
।।।।।।।।।।।।.।.।।।।.।.।.।।।।.।.
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১:৫৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার মনের ঘোর গেলো না (উৎসর্গঃ প্রিয় ব্লগার ইমন জুবায়ের)

লিখেছেন চারাগাছ, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩১




আমার মনের ঘোর গেলো না


উৎসর্গ

প্রিয় ব্লগার ইমন জুবায়েরের স্মৃতির প্রতি।

তিনি নেই। অনেক বছর হলো।

তবু তাঁর ব্লগে ঢুকলে মনে হয়, কোথাও যেন কিছুই থেমে নেই। লেখাগুলো আছে, শব্দগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

জঙ্গল পরিষ্কার করে সাপ তাড়ানাে...

লিখেছেন অপলক , ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪১

নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে: পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী স্থায়ী হিন্দু অধিবাসীরা চাইলে খুব সহজে তাদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। যদি এই খবরটা সত্য হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য সেটা মারাত্মক ভয়ঙ্কর ঘটনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×