somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেঘজল

১৫ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এক.
আজ সকাল থেকেই একটু পর পর মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে । ক্যাটস এন্ড ডগস । রিপন দাড়িয়ে আছে বাসের জন্যে । বৃষ্টির দিন বলেই হয়তোবা বাসের দেখা নেই । রিপন মনে মনে সি এন জি নেবার কথা ভাবছে । কিন্তু সি এন জির দেখাও নেই । ঠিক এই সময়েই একটা মাইক্রোবাসের দেখা মিললো যেটা এই মুহুর্তে ভাড়া যাচ্ছে । মাঝে মাঝে মাইক্রোবাসগুলো সিটি বাসের মত ছোট খাট ভাড়ায় চলে । রিপন কাছে গিয়ে দেখলো ভেতরে তার মতোই অফিসগামী কিছু মানুষ বসা । রিপন আর দেরী না করে উঠে পড়লো । পথে যেতে যেতে রিপনের মতোই আরেকজনকে তোলা হলো । বৃষ্টির সকাল । ঢাকার রাস্তা মোটামুটি ফাঁকাই বলা যায় । কিছুক্ষণ চলতেই গাড়ী অন্য একটা রাস্তায় মোড় নিলো । রিপন ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করতে পাশে বসা একজন জবাব দিলো তার এক কলিগ আছে সামনে । তাকেই তুলে নেবে গাড়ী । গাড়ী থামলো এক নির্জন রাস্তায় । এম্নিতেই বৃষ্টির জন্যে রাস্তাঘাট নির্জন । গাড়ী থামলে ভেতরে থাকা একজন একটা চকচকে পিস্তল বের করলো । রিপনের আর বুঝতে বাকি থাকলোনা কিছু । ওরা টাকা পয়সা যা আছে সব নিয়ে নিলো । এবার রিপনের কাছে থাকা ডেবিট কার্ড আর আরেক লোকের কাছে থাকা ক্রেডিট কার্ড নিলো ওরা । গাড়ী গিয়ে থামলো বুথের কাছে । পিন নম্বর নিয়ে একে একে দুইজনের টাকাই তুলে আনলো ছিনতাই কারীর একজন । রিপনকে এক জায়গায় নামিয়ে দিয়ে হাতে ২০টাকার একটা নোট ধরিয়ে দিলো ছিনতাই কারীর একজন । ভেতর থেকে একজন বলে উঠলো ‘আর কখনো অপরিচিত মাইক্রোবাসে উঠবিনা’ । ভেতর থেকে বেশ হাসির শব্দ শোনা গেলো ।

দুই..
রিপন দাড়িয়ে আছে বৃষ্টির মধ্যেই । ওর চাকরীটা বলতে গেলে তেমন কিছু নয় । গত দু বছর হল চাকরীটা পেয়েছে ও । কিছু টাকা ব্যাংকে রেখেছিলো । যার পুরোটাই হয়ত আজ নিয়ে নিয়েছে ছিনতাইকারীর দল । আজ আর অফিসে যাবেনা ঠিক করলো । ঘুরে হাটতে গিয়েই একজনের সাথে হোঁচট খেলো । মেয়েটা প্রায় পড়েই যাচ্ছে দেখে রিপন চট করে ধরে ফেললো । রিপন কিছু বলার আগেই মেয়েটা একটু হেসে ‘থ্যাঙ্কস’ বলে সামনে হেঁটে চলে গেলো । রিপন আপন মনেই হেসে ফেললো ।

মাঝে মাঝে প্রকৃতি কিছু সময় একটু বদলিয়ে আবার সেই সময় দ্বিতীয়বার উপস্থিত করে । একটু আগের ঘটনাটা রিপনের কাছেই আরেকবার ঘটেছিলো গত তিন বছর আগে । রিপন ফিরে গেলো সেই তিন বছর আগে । এমন ই এক বৃষ্টির দিন ছিলো সেদিন । রিপন ভার্সিটি শেষ করে ঠিক বের হয়েছে আর ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়েছে । সামনের একটা রিক্সা দেখে রিপন দৌড় দিতে গেলে একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা লাগে । মেয়েটা কোনো মতে নিজেকে সামলে নিলেও রিপন পারেনি । পড়ে যায় পাশের জমে থাকা পানিতে । কাদায় মাখামাখি অবস্থায় উঠে রেগে রিপন কিছু একটা বলতে যাবে সেইসময় দেখলো মেয়েটা ওকে দেখে হাসছে । কোনো এক বিচিত্র কারণে রিপন আর কিছু বলতে পারেনি সেদিন । মেয়েটার নাম রেনু । রেনু রিপনের ভার্সিটিতেই পড়তো । তারপর কিভাবে কিভাবে জানি ওদের মধ্যে বেশ সখ্যতা গড়ে ওঠে । সেই থেকে প্রেম ।

রিপনের বিশেষ বিশেষ দিনগুলো কেনো যেনো খুব বৃষ্টিস্নাত হয় । গত বছর রেনুর সাথে ওর বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো । কিন্তু হয়নি । রেনুর বিয়ে হয়েছে অন্য জায়গায় । রিপন রেনুর খোঁজ রেখেছে । রেনু ঢাকাতেই আছে এখন । এবং যে এলাকাতে রিপন দাড়িয়ে আছে এই এলাকাতেই কোথাও । তবে রিপন এর আগে কখনো আসেনি বলে ঠিক ঠিকানাটা বুঝতে পারছেনা । কাজ যেহেতু নেই তবে ঠিকানা খোঁজাই যাক ।

তিন…
দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট । দড়জা ধরে দাড়িয়ে আছে রেনু । মেয়েরা সহজে অপ্রস্তুত হয়না, আর হলেও সামনের জন কিছু বোঝার আগেই চট করে নিজেকে সামলে নিতে পারে । রেনুও নিজেকে সামলে নিলো । দড়জায় দাড়ানো কাকভেজা রিপন । রিপন একটু হেসে বললো, “কেমন আছো রেনু?”
- ভালো । তা আজও আপনার এই অবস্থা কেনো? পড়ে গিয়েছিলেন?
রিপন হাসলো ।
: আজ এমনিতেই ভিজলাম । তুমি মনে হয় আমাকে তুমি করে বলতে?
- বলতাম সেটা এক সময়ে । এখন আর তুমি বলার প্রয়োজন নেই । আসুন ভেতরে ।
রিপন ঘরে ঢুকেই মুটামুটি হকচকিয়ে গেলো । সোফায় পা তুলে বসে আছে একজন । সামনের টেবিলে মুড়ি মাখানো । মানুষটা যথেষ্ট আগ্রহ নিয়েই খাচ্ছিলো বুঝা যায় । ঢাকা শহরে এই দৃশ্য কল্পনা করা যায়না । রিপন তারচেয়েও বেশি অপ্রস্তুত হলো এই কারণে যে সোফায় বসে থাকা মানুষটাকে সে চেনে । সকালের ঘটনায় এই মানুষটাও ছিলো তার দলে । ভদ্রলোক নিজেও রিপনকে চিনে ফেললো তবে তার বাসায় তাকে আশা করেনি । রেনু রিপনকে পরিচয় করিয়ে দিলো,
“এ হচ্ছে আবির । আমার হাজবেন্ড । ওর এইসময়ে বাড়িতে থাকার কথা না । সকালে একটু সমস্যা হয়েছে বলে আজ অফিসে যায়নি । আর আবির, ইনি হচ্ছেন আমার ভার্সিটির খুব পরিচিত এক সিনিয়র । আজ প্রায় ১ বছর পর দেখা ।”
রিপন হেসে ফেলার সাথে সাথেই ভদ্রলোক হো হো করে হেসে উঠলেন । রেনু কিছু বুঝতে না পেরে চোখ কপালে তুলে তাকিয়ে থাকলো দুজনের দিকে ।
সন্ধ্যা গড়িয়েছে । রিপন হাটছে । দুপুরে খেয়ে দেয়ে সন্ধ্যার দিকে বের হয়েছে সে রেনুর বাসা থেকে । বলতে গেলে রেনুর স্বামীই জোর করে এতোক্ষণ আটকে রেখেছিলো ওকে । রেনু এখনো কোনো সন্তান নেয়নি । চমৎকার সাজানো ছোট্ট একটা সংসার ওদের দুজনের । রিপনের প্রথমে একটু মন খারাপ লাগলেও এখন ভালোই লাগছে । কে জানে হয়তো ও নিজেও এরকম একটা সংসার রেনুকে দিতে পারতোনা ।
আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে । রিপন ভিজতে ভিজতেই এগুচ্ছে । পকেটে কোনো টাকা নেই বলে রিক্সা নিতে পারছেনা । সামনের দিক থেকে একটা মেয়ে আর একটা ছেলে রিক্সায় করে ফিরছে । মেয়েটাকে দেখে মনে হয় ক্লাস নাইন কিংবা টেন এ পড়ে । মেয়েটা আকাশের দিকে চেয়ে দু হাত মেলে বৃষ্টিতে ভিজছে । আর ছেলেটা খুব বিব্রত ভঙ্গিতে একবার মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আবার তাকাচ্ছে চারদিক...

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ১:৫১
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার মনের ঘোর গেলো না (উৎসর্গঃ প্রিয় ব্লগার ইমন জুবায়ের)

লিখেছেন চারাগাছ, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩১




আমার মনের ঘোর গেলো না


উৎসর্গ

প্রিয় ব্লগার ইমন জুবায়েরের স্মৃতির প্রতি।

তিনি নেই। অনেক বছর হলো।

তবু তাঁর ব্লগে ঢুকলে মনে হয়, কোথাও যেন কিছুই থেমে নেই। লেখাগুলো আছে, শব্দগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

জঙ্গল পরিষ্কার করে সাপ তাড়ানাে...

লিখেছেন অপলক , ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪১

নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে: পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী স্থায়ী হিন্দু অধিবাসীরা চাইলে খুব সহজে তাদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। যদি এই খবরটা সত্য হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য সেটা মারাত্মক ভয়ঙ্কর ঘটনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×