somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অগণিত সমাপ্ততা...

২৫ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকাল থেকে রাজিনের পায়ে ব্যথা । অদ্ভুত ব্যথা । কারণ ব্যথা পায়ের কোথায় ঠিক বোঝা যাচ্ছেনা । পা নাড়ালে হাড়ের ভেতর ব্যথা অনূভূত হয় । রাজিন মুখ ভর্তি অস্বস্তি নিয়ে মুখ বাকায়ে বসে আছে । অস্বস্তির কারণ বেশ কয়েকটা আছে । প্রথমত, আজ স্বরবর্ণ আসার কথা । প্ল্যান ছিলো একটু ঘুরাফেরা করবে, দুপুরে খাওয়া করবে তারপর আবার ঘুরাফেরা । অনেকদিন থেকেই মেয়েটার সাথে দেখা হয়না । সে দেশে ছিলোনা । ফিরেছে গতকাল । রাজিন নিজেই তাকে আজকের সময় দিয়েছে । দ্বিতীয়ত, রাজিনের অফিসের একটা ফাইল একজনের কাছে আছে । সেটা রাজিনের বস তাকে নিয়ে নিতে বলেছে । সময় করে সেটা নিতে যেতে হবে । তৃতীয়ত, আজ বেতন তুলতেই হবে হাত একেবারেই খালি । ব্যথাওয়ালা পা নিয়ে দিনটা কিভাবে যাবে সেটাই তার মূল অস্বস্তির কারণ । সে ভাবছে ছুটি নিয়ে ভূল করেছে । অফিসে থাকলেই বসে থাকা যেতো ।


মাঝে মাঝে ঘুম থেকে উঠেই কিছু নতুন পাওয়ার মতো উত্তেজনা বোধ হয় । স্বরবর্ণের ঠিক সেরকমটাই মনে হচ্ছে । প্রচন্ড আনন্দবোধ হচ্ছে । তার মুখের দিকে তাকালেই বোঝা যাচ্ছে ব্যপারটা । মনে হবে বহুদিন সে এই দিনটার অপেক্ষাতেই ছিলো । সে একবার মনে করলো শাড়ি পড়বে । পরক্ষণেই বাদ দিলো । সারাদিনে শাড়ী পরে থাকাটা অনেক বেশি ঝামেলার হয়ে যাবে । তারচেয়ে ভালো সূতি টাইপের কিছু একটা পড়া । ইদানিং বেশ গরম পড়েছে । তারপরও রাজিন একবার বলেছিলো, মেয়েদের সবচাইতে সুন্দর লাগে সাধারণ সালোয়ার কামিজে । এর চাইতে আর কোনো ড্রেসে কোনো মেয়েকে ভালো লাগেনা । আজ সে যাবে রাজিনের মতো করেই । ভালোলাগার অসংখ্য কিছু আছে পৃথিবীতে । কিছু কিছু দিন ই থাকে ভালোলাগার জন্যে । রাজিনের সাথে থাকলে স্বরবর্ণের এই ব্যপারটা হয় ।


রজিন আর স্বরবর্ণ পাশাপাশি বসে আছে । বের হওয়ার সময় রাজিনের মনে হচ্ছিলো অনেক কথা জমা পড়ে আছে । সারাদিনেও সেসব কথা শেষ হবেনা । কিন্তু এই মূহুর্তে দুজনের মুখেই কোনো কথা নেই । দুজন দুদিকে দেখে আছে । কথা হারিয়ে ফেলেছে দুজনেই । হুট করেই মনে হচ্ছে কারোও জন্যেই কারো কোনো কথা নেই । কথা শুরু করলো রাজিন নিজেই ।
- কেমন আছো ?
- এইতো আছি । তুমি?
- চলছে ।
- চাকরি কেমন লাগছে?
- বোরিং ।
- বিয়ে করবানা?
রাজিন হেসে ফেললো ।
- হাসো কেনো?
- কিছুনা । এমনিতেই ।
- বললানা?
- কি?
- বিয়ে করবানা?
- কাকে বিয়ে করবো? আর আমাকেই বা কে বিয়ে করবে?
- কেনো? দেশে কি মেয়ের অভাব পড়ে গেছে?
- দেশে আমার জন্যে মেয়ের অভাবই বলতে পারো ।
- ও আচ্ছা ।
- যাবা?
-কোথায়?
- কিছুক্ষণ রিক্সায় ঘুরে বেড়াই?

আকাশ মেঘলা । রিক্সায় স্বরবর্ণ আর রাজিন । খোলা হুড । ফাঁকা রাস্তা । দূর থেকে ওদের দুজনকে দেখতে কি চমৎকারই না লাগছে । স্বরবর্ণের খোলা চুল উড়ে এসে মাঝে মাঝে রাজিনের মুখে এসে পড়ছে । অন্যসময় হলে হয়তো রাজিনের খুব বিরক্ত লাগতো । কিন্তু আজ ভালো লাগছে । মনে হচ্ছে আজীবন এই রিক্সায় চলতে থাকুক ওরা দুইজন । ঝড় বৃষ্টি যা আসে আসুক । রাজিন সব সামলে নেবে । এইসব ভাবতে ভাবতেই হুট করে একটা বিকট শব্দে রাজিনের ভাবনায় ছেদ পড়লো । আর স্বরবর্ণ ভয় পেয়ে রাজিনের হাত শক্ত করে চেপে ধরলো । রিক্সা থেকে গেলো । ওদের রিক্সার টায়ার বাস্ট হয়েছে । রিক্সাওয়ালা নেমে খুব অপরাধীর দৃষ্টিতে তাকালো ওদের দিকে । রাজিন নেমে ভাড়া দিয়ে দিলো ।


সন্ধ্যা নেমে গেছে । স্বরবর্ণের বাসায় ফেরার সময় হয়ে গেছে । যেতে ইচ্ছে করছেনা । একসময় রাজিন নিজেই ওর যাবার কথা তুললো ।
- তোমার যাবার সময় হয়ে গিয়েছে ।
- হুম । কিন্তু যেতে ইচ্ছে করছেনা ।
- আরো থাকবা কিছুক্ষণ?
- নাহ । বেশি দেরী হয়ে যাবে ।
- হুম ।
- চলো রিক্সা করে দাও ।
- আমি পৌছে দিয়ে আসি ।
- দরকার নেই । আমি একাই যেতে পারবো ।
- আবার যদি টায়ার বাস্ট হয়?ওরা দুজনেই হো হো করে হেসে উঠলো ।
পাশ দিয়ে একটা লোক চমকে উঠে ওদের দিকে অবাক হয়ে তাকালো । কি ভাবলো কে জানে । কে কি ভাবে ভাবুক ওদের এখন কিছু যায় আসেনা ।



৪ বছর পরের কথা । রাজিন আর স্বরবর্ণের বিয়ে হয়নি । ওরা এখন নিজেদের আলাদা আলাদা সংসার নিয়ে ব্যস্ত । সময় খুব দ্রুত বদলায় । একজন সময়ের কলকাঠি নাড়াতে থাকে । তবে এখনো ওরা মাঝে মাঝে একজন অন্য জনের জন্যে সুখ খোঁজে...




(উৎসর্গঃ শোভাকে । আমি যার হাসি দেখেছি কিন্তু কান্না দেখিনি । আমার মতে তার কান্না তার হাসির চেয়েও অনেক সুন্দর । তবে সে কখনও না কাঁদুক...)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার মনের ঘোর গেলো না (উৎসর্গঃ প্রিয় ব্লগার ইমন জুবায়ের)

লিখেছেন চারাগাছ, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩১




আমার মনের ঘোর গেলো না


উৎসর্গ

প্রিয় ব্লগার ইমন জুবায়েরের স্মৃতির প্রতি।

তিনি নেই। অনেক বছর হলো।

তবু তাঁর ব্লগে ঢুকলে মনে হয়, কোথাও যেন কিছুই থেমে নেই। লেখাগুলো আছে, শব্দগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

জঙ্গল পরিষ্কার করে সাপ তাড়ানাে...

লিখেছেন অপলক , ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪১

নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে: পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী স্থায়ী হিন্দু অধিবাসীরা চাইলে খুব সহজে তাদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। যদি এই খবরটা সত্য হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য সেটা মারাত্মক ভয়ঙ্কর ঘটনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×