somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইঁদুর বৃত্তান্ত

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

""" অনেকটা শুয়ে বসে কাটছিল জীবনটা, সেই একঘেঁয়ে টিভি আর ইন্টারনেট। বেশ বোরিং লাগে মাঝে মাঝে, কিন্তুু প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবে আশাহত হতে হয়। যাহোক আসছি বড় ভাইয়ের বাসায় গতকাল রাত থেকে পাহারাদার হিসেবে। ব্যাপারটা মোটেই কাকতালীয় নয়। ভাই স্বপরিবার বেড়াতে গেছে, নিচতলার বাসা হওয়া মানে বরাবরই সিকিউরিটি প্রবলেম, তাই আমার আগমন। পুরো বাসা ফাঁকা, সত্যি বলতে আমিও ইচ্ছে করছিলাম অন্তত দু একটা দিন এমন স্বেচ্ছা নির্বাসন। নিস্বঙ্গতাকে যখন থেকে উপভোগ করা শিখেছি, তখন থেকেই কখনো কখনো নিস্বঙ্গ থাকতে ইচ্ছে করে, এটা একটা নেশার মতো, এসে দেখি ভাইয়ের বাসাই কোন কমতি নেই, ফ্রিজ ফুল রিজার্ভ, যাবার সময় বৌদি পই পই করে বলে গিয়েছেন ফ্রিজটার যাতে যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়, যাহোক সারারাত টিভি দেখে বেশ বেলা করেই ঘুম ভাঙ্গলো। চোখ খুলতেই মনে হলো পুরো রুম জুড়ে আলোর নাচন, কিন্তুু আলসেমীটা বেশ ভালোভাবেই পেয়ে বসেছে দেখছি, ঘুম ঘুম চোখ মেলে বাসার আসবাব পত্রগুলো দেখছিলাম, কিছু কিছু আসবাব নতুন এসেছে, পুরোনো কিছু আছে দেখে ভালো লাগলো, সব নতুনেরর ভীড়ে কিছু তো অন্তত আছে যাতে স্মৃতিগুলো উঁকি মারে ঝলকে, চাকরিজীবনের শুরুতে কিছুদিন এই বাসাটাতে কেটেছিল আমার, পরবর্তিতে কর্মক্ষেত্র পরিবর্তনের কারনে স্থানান্তর। যাহোক অলস শুয়ে শুয়ে এই সবই ভাবছিলাম, আজকের কর্মপরিকল্পনার কিছু নাই, পুরোটা শহরটা মনে হয় ঝিমোচ্ছে, সো আমারো শুভ ঝিমানো দিবস, হঠাৎ শোকেজটার দিকে চোখ আটকে গেল, অলস মূহুর্তে এরম একটা আপদ মোটেই ভালো লাগে না, তাকিয়ে দেখি হরেকরকম জিনিসপত্রের সাথে শোকেজটার ভেতরে একটা ইঁদুর। বেচারা জানলার কাছে হুড়োহুড়ি করছে, মনে হয় বেরুবার পথ খুঁজছে, এই থাক সেই থাকে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে, চৃপচাপ তাকিয়ে ছিলাম, চিড়িয়াটা বেশ মজাই লাগছিল , মনে হল ইঁদুরের সার্কাস দেখছি , বুঝতে পারছিলাম না কতদিন যাবত তার বন্দিত্ব, কিছুক্ষণ পর বিছানাছাড়াটা অতীব জরুরি মনে হওয়ায় উঠে পরলাম এবং সেইসাথে ইঁদুরটাকেও স্বসম্মানে মুক্ত করে দিলাম, মায়ায় পরে না, এর মধ্য পাপ পূন্যের কোন হিসেব নেই। নেহায়ৎ বৌদির দামি মেলামাইন সেট গুলোর দিকে তাকিয়ে ছেড়ে দিতে বাধ্য হলাম। প্রকৃতির ডাক সেরে আবার শোয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, দেখি দুটো ইঁদুর ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছে, লাফিয়ে মরছে, একটা আরেকটাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে , টিভির তার বেয়ে উপরে ওঠার চেষ্টা করছে, দেখে মনে হলো দিশেহারা মাতাল অথবা হতে পারে মুক্তির আনন্দ নিচ্ছে। আমার বেশ বিরক্তি লাগলো, সাত সকাল বেলা এরকম একটা ঝামেলা, ওকে মেরে ফেলাও অতটা সহজ না, বাসাভর্তি বিভিন্ন রকমের আসবাবপত্র,, কোন একটার নিচে ঢুকলে খুঁজে পাওয়া মুশকিল, তাড়ানোর চেষ্টা করে দেখলাম কতক্ষণ পরে আবার এসে হাজির, অবশেষে উপায়ন্তর না দেখে কাঁথামুড়ি দিয়ে শুয়ে পরলাম। ঘুম ভাঙ্গার পর বেশ ভালো লাগতে লাগলো, আপদটাও বোধহয় গেল। ফ্রেশ হয়ে ঘুরতে বেরুলাম সাগরপাড়ে, আজ সাগরটাও আমার মতোই একা, অন্যান্য দিনের মতো অত চেঁচামেচি নেই, ঘুরে ফিরে বাসায় ফিরলাম একটু আগে, এবং গল্পটা লেখা শেষ না হওয়া পর্যন্ত দু বজ্জাতকেই দেখলাম আমার ভাতিজার পড়ার টেবিলে উঠে বই ঘাঁটাঘাঁটি করছে, মনে হয় পড়ালেখা করার খুব শখ :-P । কি আর করা সময় কেটে যাচ্ছে তাই, ইঁদুর থাক ইঁদুরের মতো, আমি ফিরে যাই প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে,,,,,,, এবং সকল বন্ধুদের ঈদ হোক আনন্দময়, নিরাপদ হোক জীবন।। """"
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৫৬
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×