somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিয় ব্লগার বন্ধুদের জানাই শারদীয়া দুর্গাপূজার প্রীতি ও শুভেচ্ছা

১৫ ই অক্টোবর, ২০১৮ রাত ৯:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্রহ্মাবৈবর্তপুরাণে(হিন্দু শাস্ত্র ) আছে: রাজা সুরথ চৈত্র মাসের শুক্লা অষ্টমী ও নবমী তিথিতে শাস্ত্রবিধিমতে দুর্গতিনাশিনী দুর্গার পূজা অর্চনা করেছিলেন বসন্তকালে।পরবর্তীতে, বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহে অসুরের সীমাহীন অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে রাবণ-বধের (অত্যাচারীকে ) জন্য রামচন্দ্র (অযোধ্যার রাজা) দুর্গা মায়ের (ঈশ্বরের শক্তি হতে উৎপন্ন দুর্গতি নাশকারিনী দেবী) কৃপা লাভের উদ্দেশ্যে শরৎকালে দেবীর পূজা করেছিলেন । রামচন্দ্রের শরৎকালীন অকাল-পূজা হলেও কালক্রমে পুণ্যভূমি ভারতবর্ষে হিন্দুদের ধর্মীয় জীবনচর্যার সাথে এই পূজাই বিশেষ প্রসিদ্ধি লাভ করে।
প্রসঙ্গক্রমে বলা যায় যে, রামচন্দ্র দুর্গাপূজো করে সেদিন মহাবিপদ থেকে উদ্ধার পেয়ে তিনি নিজে ও অযোধ্যার প্রজাগণের শান্তি নিশ্চিত করেছিলেন! তাতে, আমাদের লাভ কী? আমরা (হিন্দুরা) দুর্গাপূজা করবো কেন? ?
কারণ,দ্বন্দ্বময় বিচিত্র এই জগতের মানুষ অন্তরে ও বাইরে উভয় দিকেই শত্রুদ্বারা পরিবেষ্টিত । প্রতিহিংসা, সহিংসতা, আদর্শিক মতভেদ, অপর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, ধনী-নির্ধনের সংঘাত, উচ্চ -নীচের ভেদ, সবলের হাতে দূর্বলের নির্যাতন --এ সবই মানুষের বাইরের শত্রু। এদের দৌরাত্ম্যে জগতে আজ মানবিক মূল্যবোধ বিপর্যস্ত । তাই, রামচন্দ্রের মতো যুদ্ধে এদের পরাভূত করতে না পারলে মানুষের জাগতিক অগ্রগতি, অভ্যুদয় অসম্ভব; অপর দিকে, দুর্দমনীয় ভোগ-লালসা, দম্ভ,দর্প, অভিমান, ক্রোধ ইত্যাদি মানুষের অন্ত:শত্রু, যা একজন আদর্শ মানুষের অগ্রগতির প্রতিবন্ধক। এদের বিনাশ করতে না পারলে মানুষের সার্বজনীন কল্যাণ সুদূর-পরাহত।
তাই,দুর্গা পূজার এই পুণ্যলগ্নে আমরাও রামচন্দ্র ও দেবতাদের মতো সংকল্প গ্রহণ করি: হে দেবী, যতদিন না আমাদের বাহ্য ও আন্তরশত্রুরুপী রাবণকে আমরা যুদ্ধে পরাভূত করে বধ করতে পারছি, ততদিন আমরা তোমার অর্চনা থেকে বিরত হব না, হে সর্বশক্তিস্বরুপিণী দেবী,তুমি কৃপা করে সর্বশক্তি দিয়ে শত্রু-বিনাশে সর্বতোভাবে আমাদের সহায় হও। তোমার কৃপায় রামচন্দ্রের ন্যায় সকল ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের যেন, মহাবিপদ কেটে গিয়ে শান্তি তথা মহাসম্পদ লাভ হয়।
১৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতাস ভাড়ি হবে লাশের গন্ধে

লিখেছেন ফেনা, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:২১


ছবিঃ গুগল

আলোচনাটা আপাদত একটা ফাইলে করে টেবিলে তুলা থাক। এসো আগে আমরা একটু ধ্বংস ধ্বংস খেলি।
শত বছর হতে চলল পাইনা বাতাসে তেমন লাশের গন্ধ। জাহানের বাতাসটা ভরে উঠুকনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ স্বাধীনতা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:১২


বাবা পাখিটি গাইছে গান
আমড়া গাছের ডালে।
ছানাগুলো নিশ্চিন্তে
মায়ের বুকের তলে।

রীনা বসে বীনা বাজায়
মীনা গায় গান।
দীনা বলে পুষবো পাখি
একটা ধরে আন।

মা শুনে কয় বনের পাখি
বনেতেই মানায়।
বন্দী পাখি হয় যে দুঃখী
উচিত কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×