১. আমার বন্ধু বিদেশ থাকে। তার অনেক টাকা। পরিবারকে খুব ভালোবাসে। পরিবারের জন্য দিন রাত পরিশ্রম করে টাকা কামাচ্ছে প্রবাসে। মধ্যপ্রাচ্যে।
২. আমার বন্ধুটি নামাজি। কট্টর ইসলাম পন্থী না হলেও নামাজ ছাড়ে না। নিয়মিত ওয়াজ শুনে। হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুকে নিয়মিত কোরআন, হাদীসের বাণী, ওয়াজ পোস্ট করে। ফজরের সময় আমাকে মেসেজ দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেয়।
৩. আমার বন্ধু স্ত্রী নিয়ে অনেক সতর্ক। তার আশংকা অন্য অনেক প্রবাসীর ঘটনার মত তার স্ত্রীও যদি স্বামীর অনুপস্থিতিতে অন্য কারো সাথে...তাই সে তার স্ত্রীকে স্মার্ট ফোন কিনে দেয় না। কারণ, ইমু-তে কথা বলে যদি....। আমিও সদ্য দ্বিতীয়বারের মত প্রবাসী(বন্ধুর দেশ না)। আমাকেও মানা করেছে স্ত্রীকে স্মার্টফোন না দিতে। কারণ, এতে নাকি বউ চলে যাওয়ার আশংকা থাকে!!
৪. দুই দিন ধরে আমার বন্ধুর কোন খবর নেই। কোন মেসেজ নেই ফেসবুক, হোয়াটসএপ-এ। চিন্তায় পড়লাম। দুইদিন পর বন্ধু আবার একটিভ হলো হোয়াটসঅ্যাপ-এ। কিরে কাহিনী কি? বন্ধু বললো, তার বান্ধবীর সাথে ছিল। এক বিদেশিনীর সাথে তার বন্ধুত্ব ছিল। আমি জানতাম টাইম পাস মোবাইল ফ্রেন্ড। কিন্তু এত গভীর তা জানতাম না। আমার বন্ধুর উপর আস্থা ছিল। তাই নিজের বিশ্বাসকে পাকা করতে আমি তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করলাম, সব কিছু হয়েছে? সে স্বীকার করলো, "হ্যাঁ, ফেঁসে গিয়েছিলাম দোস্ত। কিন্তু বের হয়েই মসজিদে গিয়ে মাফ চেয়ে নিয়েছি!"
৫. আমার পায়ের তলার মাটি সরে গেল। পুরুষ জাতি হিসেবে আমার বিশ্বাস ভেঙে গেল। তার মত এত ভালো ছেলেও হেরে গেল 'আকাঙ্খার' কাছে? আমি চুপ হয়ে গেলাম। সে আমাকে কয়েকটি ইসলামিক পিকচার মেসেজ(কোরআন-হাদীসের বাণী) পাঠালো যেগুলো ছিল আল্লাহর ক্ষমা আর বান্দাহর মাফ চাওয়া নিয়ে!!! আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম নিজের জন্য। সুযোগ পেলেও গ্রহণ না করার মত দৃঢ়তা আমার আছে, এটা আমার বিশ্বাস!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


