
১. তাজিন আহমেদ-এর মৃত্যু দুঃখজনক। তার চেয়ে বেশী দুঃখজনক তার মৃতদেহ হাসপাতাল থেকে ছাড়ানোর জন্য নাকি টাকা যোগাড় করা যাচ্ছিল না। তার স্বামীও নাকি অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন। তার ফুফু দিলারা জামানও কোন সাহায্য করেনি। এদিকে তার মাও ছিল কারাগারে বন্দী। এতদিন আমরা জানতাম তারকারা চিকিৎসা করতে পারেন না টাকার অভাবে, সরকারের সাহায্য চান। এবার একটু ব্যতিক্রম দেখলাম হাসপাতালের টাকা না থাকা, স্বামীর নীরবতা এবং মায়ের জেলে থাকা বিষয়গুলোতে...
২. বরাবরের মতই কয়েকদিন চলল ফেসবুক আর মিডিয়াতে মাতম। তাজিন নাকি মানসিক কষ্টে ভুগছিলেন। আচ্ছা তাজিন আহমেদের জন্য আমরা এত আকুল হয়ে পড়লাম অথচ আমরা কি কখনো শেয়ার বাজারে লসের পর লিয়াকতের আত্মহত্যার জন্য মাতম করেছি? আমরা কি চাকুরী না পেয়ে ঢাবি'র ছাত্র তানভীরের আত্মহত্যার পর এত মাতম করেছি? না, করিনি। কারণ, তারকা নয়। একটা ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগার পর বা ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর একজন বেসরকারী চাকুরিজীবির জীবনে কী দুর্ভোগ হয় তা কি আমরা ভেবে দেখেছি?
৩. তারকারা সমাজের সুবিধাভোগী শ্রেণীর। তেনারা অভিনয় করে অনেক সুনাম কুড়ান, দেশ বিদেশে ঘুরেন, সমাজের অনেক স্থানে তেনাদের মূল্য আছে। তাই তেনারা চাইলেই নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারেন যা আমরা সাধারণ জনগণ পারি না। এখন তেনাদের ব্যক্তিগত জীবনে ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল হওয়ার দায়ভার তেনাদেরই। এ ক্ষেত্রে আমরা কাউকে দোষ দিতে পারি না। বরং এ থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি যে, ভোগ বিলাসে মত্ত না থেকে জীবনকে সুন্দর ভাবে সাজানোর পথ খুঁজতে পারি, প্রিয়জনের সাথে দুর্ব্যবহার না করে সুখের সন্ধান করতে পারি...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
