
১. ১/১১'র সরকার যখন সাবেক এম পি/ মন্ত্রীদের গ্রেফতার করছিল তখন জনগণ খুব খুশী হয়েছিল। ভেবেছিল এতদিনে বোধহয় পাপের শাস্তি পাবে দুর্নীতিবাজরা। এক পর্যায়ে যখন খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয় চামচা ও সমর্থকরা বেঁকে গেল! এখন আর ১/১১'র সরকারকে তাদের ভালো লাগল না। তাদের বিশ্বাস অন্য সবাই দুর্নীতি করলেও এই দুজন করতেই পারে না! তাদের প্রতি ঘৃণার বদলে সহানুভূতি তৈরী হল। এক সময় রফিকুল হক দুই নেত্রীর মামলাই লড়ে আলোচিত হয়ে গেলেন। দুই দলের ভক্তরাই খুশী। রফিকুল হকের ফর্মূলা অনুসরণ করে একের পর এক দুর্নীতিবাজ এমপি, মন্ত্রী, আমলা নিষ্পাপ হয়ে বের হয়ে আসল। অথচ ঐ সময় অন্তত ১০ জন সাবেক মন্ত্রীকে জেলের ভাত খাওয়াতে পারলে আজকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তন হত...
২. বাংলাদেশ যখন প্রথমবার বিশ্বকাপ ক্রিকেটে সুযোগ পায় সেই দলে মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ছিলেন না। নান্নুর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও তেমন সমৃদ্ধ ছিল না। তৎকালীন কোচ গর্ডন গ্রিনিজ নান্নুকে দলে নেয়নি। কিন্তু এত বড় তারকাকে দলে দেখতে না পেয়ে ভক্তকূল খুবই নাখোশ হল। শুরু হলো আন্দোলন, "নান্নুকে দলে নিতে হবে"। এক পর্যায়ে ক্রিকেট বোর্ড ক্রিকেট পাগল(!) জনতার আবেগের কাছে হার মেনে নান্নুকে দলে নিতে বাধ্য হয়। (নান্নু অবশ্য সেই টুর্নামেন্টে ২ টি ফিফটি করে আস্থার প্রতিদান দেন। সেটা ভিন্ন বিষয়)...
৩. কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ ফুটবল দলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য বেশ কিছু তারকা ফুটবলারকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেন তৎকালীন ব্রাজিলিয়ান কোচ ডিডো। কিন্তু বাফুফের কর্মকর্তারা ভাবলেন এই খেলোয়াড়দের বাদ দিলে দল দুর্বল হয়ে যাবে। তাই তেনারা কোচের মতামতকে অগ্রাহ্য করে সেই খেলোয়াড়দের কোচের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার ভিত্তিতে দলে সুযোগ দেয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু কোচ ৮ জনের মধ্যে মাত্র ২ জনকে সুযোগ দেন তখনকার সাফ দলে। আবেগী বাফুফে কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্তের কারণে কোচকেই উল্টো বরখাস্ত করে দেন...
৪. কম বেশী সব সেক্টরে এই আবেগের প্রভাব বেশী। আমরা নিয়ম মানার চেয়ে আবেগ বেশী মানি। বাংলাদেশীদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কী আবেগ দিয়ে চলবে নাকি আইন দিয়ে চলবে? আবেগ আর আইন এক সাথে চলতে পারে না। যে কোন সিদ্ধান্তকে দেখতে হবে আইনের নিরীখে, নিয়মের নিরীখে...
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


