

১. ১৯৮১ সাল। ১৯ টা ক্যু ঠেকিয়ে জিয়াউর রহমান তখন প্রবল প্রতাপশালী। দেশের অবস্থাও স্থিতিশীল। ততদিনে বহুদলীয় গণতন্ত্র চলছে মানে বাকশাল পূর্ববর্তী অবস্থার মত সব রাজনৈতিক দল রাজনীতি করার অধিকার ফেরত পেয়েছে। আওয়ামী লীগও চলছে কোন রকমে জোহরা তাজউদ্দিন, কামাল হোসেন, আবদুর রাজ্জাকদের দিয়ে। দলের ঐক্য ও গৌরব ফেরত আনার জন্য শেখ হাসিনাকে উনার অনুপস্থিতিতে (তখন তিনি নির্বাসিত) সভাপতি করা হয়। জিয়াউর রহমান ভাবলেন যেখানে গোলাম আজম, শর্সিনার পীরকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন সেখানে বঙ্গবন্ধুর কন্যাকেও ফেরত আনার উদ্যোগ নিলেন।
২. যদিও তখন শেখ হাসিনার স্বামী ওয়াজেদ মিয়া সহ আওয়ামী লীগের অনেকে রাজি ছিল না শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনে(view this link)। কারণ, বঙ্গবন্ধু সহ ৪ নেতার মৃত্যুর পর তাদের ভয় ছিল শেখ হাসিনাকেও হত্যা করা হতে পারে। এদিকে জিয়াউর রহমানকেও অন্যরা পরামর্শ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনাকে(আপদ দূরে থাকলেই তো ভাল!) ফেরত না আনার জন্য। কিন্তু উনি কারো কথা শোনেননি। স্ত্রী খালেদা জিয়াও হয়তো পরামর্শ দিয়েছেন ফেরত আনার জন্য। কারণ, তারা ছিল পারিবারিক বন্ধুর মত। খালেদা জিয়া যদি জানতেন তিনি সতীন আনতে যাচ্ছেন তাহলে জিয়াকে মানা করতেন! পরে জিয়া নিজের লোক পাঠিয়ে শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার ব্যবস্থা করেন। তাদের পৈত্রিক বাড়ি ধানমন্ডির ৩২ নং বুঝিয়ে দেন। শেখ হাসিনা বাড়ি বুঝিয়া পাইলাম বলে তা গ্রহণ করেন(view this link)।
৩. ২০০৭/২০০৮ সাল। ১/১১ সরকারও তখন প্রবল প্রতাপশালী। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া দুইজনই জেলের ভাত খেয়ে জামিনে বের হয়েছেন। তারেক রহমান আর্মির মার খেয়ে পা ভেঙে চিকিৎসার জন্য সাদা কাগজে সাইন করে লন্ডনে চলে যান। শেখ হাসিনা জামিনে বের হয়ে চলে যান বোন শেখ রেহানার কাছে লন্ডনে। খালেদা জিয়া দেশেই থাকেন। ভোটের সময় এগিয়ে আসছে। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া দুইজনই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নির্বাচনের...
৪. তলে তলে মাইনাস টু ফর্মূলা এগিয়ে যাচ্ছিল। শেখ হাসিনাকে টিকেট দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ। তিনি দেশে আসতে পারছিলেন না। কয়েকবারই তাঁকে টিকেট দেয়া হয়নি। অন্যদিকে দেশে 'খালেদা জিয়া অসুস্থ' এই অজুহাতে তাঁকে চিকিৎসার নামে বিদেশ যেতে বলা হয় ১/১১ সরকার কর্তৃক। খালেদা জিয়া টের পান তাঁকে দেশ থেকে বের করে শেখ হাসিনার মত আর ফেরত না আসতে দেয়ার পাঁয়তারা করছে সরকার। খালেদা জিয়া রাজি হননি বিদেশ যেতে। তিনি দেশেই চিকিৎসা করাবেন বলে স্থির করেন। একদিকে দেশী ও বিদেশী মিডিয়াতে শেখ হাসিনাকে দেশে আসতে দেয়ার চাপ বেড়েই চলেছে, অন্যদিকে খালেদাকে বাইরে না পাঠালে মাইনাস টু বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। খালেদা জিয়ার অাপোষহীনতার কারণেই সেই সরকার পরে বাধ্য হয় শেখ হাসিনাকেও দেশে আসার অনুমতি দিতে...
৫. জিয়াউর রহমানের কারণেই আওয়ামী লীগ-এর পূনর্জন্ম, শেখ হাসিনার উত্থান। খালেদা জিয়ার কারণেই শেখ হাসিনার দ্বিতীয়বারের মত রাজনৈতিক জীবন লাভ। আর আজকে জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের চর, বাই চান্স মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধুর খুনী। খালেদা জিয়া হিসাব গরমিলের মামলায় জেলে। ইচ্ছাকৃত ভাবে জামিন দেয়া হচ্ছে না। এভাবেই স্বামী স্ত্রীকে প্রতিদান দিচ্ছেন শেখ হাসিনা...
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০১৮ রাত ৮:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



