
১. ২০০৭/২০০৮ সাল। ১/১১'র সরকারের সময় জরুরি অবস্থা জারির পর অনেকের মত বিএনপি'র প্রয়াত সাংসদ নাসিরউদ্দিন পিন্টুও আত্মগোপনে ছিলেন। তারপর একদিন আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। তখন তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাতি খাদে পড়লে চামচিকাও লাথি মারে।’ পিন্টু আমার প্রিয় কোন নেতা নয়। কারণ সে ছিল ছাত্রদলের সভাপতি(আমি ছাত্র রাজনীতি ঘৃণা করি)। আর পুরান ঢাকার একজন সন্ত্রাসী। পিন্টুর কথাটা টেনে আনলাম এজন্য যে, বিএনপি'র ব্যপারে গত কয়েক বছর আওয়ামী লীগের(সাথে আগাছা ইনু) নেতাদের কথা বার্তাও সেই প্রবাদটিকে স্মরণ করিয়ে দেয়...
২. ২০০৬ সাল। মওদুদের কুবুদ্ধিতে কে এম হাসান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হওয়ার কথা। কিন্তু লগি, বৈঠা, কাস্তে, শহীদ-গাজীর চক্র দেখে কে এম হাসান অপারগতা প্রকাশ করলেন। সংবিধান অনুযায়ী ২য় বিকল্প দায়িত্ব নিতে রাজি হলেন না। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী একই ভাবে ৩য় ও ৪র্থ বিকল্পও রাজি হলেন না দায়িত্ব নিতে(অবশ্য ২য়/৩য়/৪র্থ বিকল্পের কেউ কেউ পরে বলেছেন তেনারা প্রস্তাব পাননি) । ইয়াজউদ্দিন সাহেব সংবিধান অনুযায়ী ৫ম বিকল্প হিসেবে নিজেই দায়িত্ব নিলেন...
৩. ইয়াজউদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক প্রধান থাকা অবস্থায় ড. ইউনুস নোবেল প্রাইজ পেলেন। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ব্যপক সংবর্ধনা দেয়া হল। সেই সংবর্ধনায় ড. ইউনুস তাঁর বক্তৃতায় ইয়াজউদ্দিনকে প্রেরণা দিলেন, সাহস দিলেন। বললেন, আমরা সবাই আপনার সাথে আছি। একটা সুষ্ঠ নির্বাচন দেন। আওয়ামী লীগ কিছুটা নাখোশ হলেও(যেহেতু বিএনপি'র প্রেসিডেন্ট) ব্যপক সমালোচনা করেনি(যতটা কে এম হাসানের ব্যপারে করেছিল)। ইয়াজউদ্দিন সাধ্যমত ব্যপক রদবদল করেছিলেন প্রশাসনে। এর মধ্যে আওয়ামী পন্থী ৪ উপদেষ্টা(আকবর আলী খান,সি এম শফী সামি, সুলতানা কামাল, হাসান মশহুদ প্রমূখ যাদের নেয়াই হয়েছিল নিরপেক্ষতার ভারসাম্য রাখার জন্য) পদত্যাগ করে বসেন। আরও নিরপেক্ষ উপদেষ্টাদের দিয়ে স্থান পূরণ করা হয়। সিইসি এম এ আজিজকে নিয়ে বিতর্ক উঠার পর তাঁকেও নির্বাচনের সময় ছুটি দেয়া হয়। ভারপ্রাপ্ত সিইসি করা হয় মাহফুজুর রহমানকে শুধু যেন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে আসে...
৪. ৯ম সংসদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হয় ২২ জানুয়ারী, ২০০৭। সব দলের মনোনয়নপত্র কেনা শেষ। এরশাদ মাত্র কিছুদিন আগেই তারেক জিয়ার সাথে ছোট মাছ দিয়ে ভাত খান জোটে থাকবেন বলে। সেই এরশাদ চলে যায় আওয়ামী জোটে। ঐ সময় আদালত কর্তৃক এরশাদ জনতা টাওয়ার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। ফলাফল নির্বাচনে অযোগ্য(বাজারে প্রচলিত আছে খালেদার ইশারাতেই ইয়াজউদ্দিনের প্রশাসন এই রায় দেয় আদালতের মাধ্যমে)। আওয়ামী লীগের সাথে বড় কোন দল নেই। বিএনপি জোট বিজয়ের স্বপ্ন দেখছিল। আর তখন আওয়ামী লীগ ভূয়া ভোটার লিস্টের অজুহাতে(এতদিন মনে ছিল না!) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন বা আগের দিন গিয়ে সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়...
৫. তাহলে কী বুঝলেন? যেই মাত্র এরশাদ নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে গেলেন তখন লীগারদের মনে হল একা নির্বাচনে জিততে পারবে না। কারণ বিজয়ের আশা ছিল বলেই এবং ইয়াজউদ্দিন, তেনার উপদেষ্টা পরিষদ, আর্মির উপর কিছুটা ভরসা ছিল বলেই তেনারা মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। তেনাদের দাবী অনুযায়ী কে এম হাসান ও এম এ আজিজও সরে গিয়েছিলেন। তবুও তেনারা নির্বাচনে যাননি। কাজেই বিজয়ের নিশ্চয়তা শুধু বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগও চায়। আর এই নিশ্চয়তা না পাওয়াতেই নির্দলীয় সরকার এবং আর্মির অধীনে নির্বাচন দিতে তেনারা ভয় পায়...

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




