১. বাবার মৃত্যুর পর তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কিছুদিন বসে দেনা পাওনা শোধ করে ব্যবসা বন্ধ করে দিই। উদ্দেশ্য দেশের বাইরে যাওয়া। পরিবারকে শহরে রাখতে হবে। কারণ গ্রামে আমাদের বাড়ি নেই। বড় বোনের বিয়ে বাকী আর ছোট ভাই সবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকেছে। আমার তখনো মাস্টার্স বাকী। শক্তিশালী মামা চাচা নেই বলে সহসা চাকুরিও পাওয়া যাবে না। তাই দুই মামা ও এক খালু সৌদি আরবে থাকাতে তাদেরকেই বলা হল আমার মাস্টার্স, লেখালেখি ও তারুণ্য কোরবানী দিতে হবে বিদেশ গিয়ে...
২. আমার আম্মা গ্রাম থেকে উঠে আসা শহুরে। বিয়ের পর শহুরে হন। কিন্তু মন একদম নরম। যে কোন পরিস্থিতিতে চোখে পানি আসে তাঁর। পাশের বাসার ভাড়াটিয়া দীর্ঘদিন পর চলে গেলেও কান্না করেন, ছোট ভাই বিদেশ গেলেও কান্না করেন, আর আমার বাবা মারা যাওয়ার পর কান্নার কথাতো বলাই বাহুল্য। আমার কান্না খুব কম আসে। বাবার মৃত্যুর পর খুবই সামান্য কেঁদেছিলাম। আমি আম্মার সাথে ফ্রি ছিলাম। বলেছিলাম, আমি বিদেশ যাওয়ার সময় যেন অন্য মায়েদের মত আপনার কান্না না দেখি। আমার আম্মা হেসে হেসে বলেছিল, 'জ্বি না, আমি কান্না করব না'...
৩. পাসপোর্ট, ভিসা, টিকেট হয়ে গেল। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা গিয়ে ফ্লাইট। ট্রেনে করে যাব। তাই বাসা থেকেই আম্মার কাছ থেকে বিদায় নিতে হবে। ব্যাগ নিয়ে ছোট ভাই নেমে গেল। আমার ছোট চাচা বাসায় ছিল বিদায় জানাতে। আমি খুব দ্রুত ছোট চাচা ও আম্মাকে সালাম করে 'যাচ্ছি' বলে নীচে নামতে থাকি। আম্মার দিকে তাকাইনি। আম্মা ডাক দিলেন। আমি তাকালাম। আম্মা হঠাৎ করে হাউ মাউ করে কেঁদে দিল। আমি তবুও নীচে যেতে চাইছিলাম। ছোট চাচা ধমক দিলেন, 'দাঁড়াও, এদিকে আস' আমি পেছন ফিরে আম্মার দিকে তাকাতে পারছিলাম না। আপাও কান্না করছিল আম্মার সাথে। আমি কিছু একটা বলে নীচে চলে গেলাম। আম্মা তাঁর কথা রাখেননি। উনি ঠিকই কেঁদেছিলেন...
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



