
১. চাঁদগাজীর মতে বাংলাদেশে নির্বাচনের উপর তেমন জরিপ/টরিপ করার মত নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান নেই। তবে বিগত নির্বাচনগুলোর ভোট ও ফলাফল বিশ্লেষণ করে অনেক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি'র 'মূল(core) ভোটার' কিন্তু প্রায় একই রকম এবং এরা খুব একটা সিদ্ধান্তের পরিবর্তন করে না। মানে ব্যক্তির চেয়ে এনারা মার্কাকেই বেশী সমর্থন করেন। তবে জয় পরাজয়ে অনেক সময়ই নিয়ামক ভূমিকা পালন করে নতুন ও 'দৌদুল্যমান (swing) ভোটার' রা। যেনারা একটা নির্দিষ্ট দল বা মার্কাতে আবদ্ধ থাকেন না। ব্যক্তি বা দলের কার্যক্রম দেখে তেনারা সিদ্ধান্ত নেন...
২. যে কারণে দেখা যায় কোন আসনে স্বতন্ত্র, কোন আসনে মূল দলের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়লাভ করে হেভিওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে। অনেকে বলেন, নতুন ভোটাররাও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক জাতীয় নির্বাচনের জন্য। তবে আমার মনে হয়, নতুন ভোটাররাও পারিবারিক ভাবে একই রাজনৈতিক ধারা কর্তৃক প্রভাবিত। যদিও অনেক পরিবারেই দেখা যায়, এক ভাই আওয়ামী লীগ, আরেক ভাই বিএনপি করে। তথাপি, নতুন ভোটার রাও 'কোর ভোটার'দের মতই পারিবারিক সিদ্ধান্তের উপর আস্থা রাখে। ঠিক অনেক টা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মত...
৩. নির্বাচন মৌসুমে নির্বাচন ছাড়া লেখা বের হচ্ছে না। তাই নতুন ও সুইং ভোটাদের এবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। তেনাদের মনে রাখতে হবে, বিএনপি-কে সাম্প্রদায়িক দল, যুদ্ধাপরাধীদের দল বলে আর ক্লাসিফাইড করা যাবে না। কারণ, এবার বিএনপি-কে চালাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর প্রিয় ও ঘনিষ্ট পাত্র। আওয়ামী লীগকে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষের দল বলে বিশেষ অনুভূতি প্রকাশ করার দিন শেষ...
৪. তেনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আওয়ামী লীগ পছন্দ করেন বলেই ইয়াবা সম্রাটের বদলে তার বউকে ভোট দিবেন কিনা। তেনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আওয়ামী লীগ করেন বলেই মীরপুরের জমিদার আসলামুল হককে ভোট দিয়ে রাজা বানাবেন কিনা, তেনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আওয়ামী লীগ করেন বলেই শামীম উসমানকে সংসদে পাঠাবেন কিনা, শিক্ষা ব্যবস্থায় মারাত্মক অবনতির পরও নুরুল ইসলাম নাহিদকে আবারও ভোট দিবেন কিনা। এভাবে বিতর্কিত ও অযোগ্যদের অন্ধর মত ভোট দিবেন কিনা...
৫. বিএনপি যেহেতু ১২ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে তাই তেনারা এখন সাফ সুতরা হয়ে আছেন। তবে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টে-ও বিতর্কিত, গডফাদার, সন্ত্রাসী প্রার্থী থাকলে তাদেরকেও বর্জন করা উচিত হবে নতুন ও সুইং ভোটারদের। তেনাদের মনে রাখতে হবে, 'জোর করে কারো মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করে পরে সুখ দিলেই পাপ মোচন হয় না', তেনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, ধর্ষণের পর বিয়ে করার নামে আজীবন ধর্ষণের বৈধতা দেয়ার সুযোগ দেয়া উচিত কিনা। জোর করে, কায়দা করে ক্ষমতায় এসে উন্নয়ন করলেই সেটা গণতান্ত্রিক দেশের জন্য ঠিক কিনা...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

