
১. প্রথমেই সেসব ফেসবুক যোদ্ধাদের কাছে প্রশ্ন, যারা লুবাবা‘র বাল্যবিবাহ নিয়ে খুব উৎসাহ দিচ্ছেন, তেনারা নিজেদের ১৪/১৫ বছরের কন্যা সন্তানকে বিয়ে দিবেন কিনা। বিয়ে মানে কিন্তু শুধু জীবনসঙ্গীর সাথে এক সাথে থাকা নয়, বিয়ে মানে কিন্তু জৈবিক চাহিদা পূরণও…
২. পাপ থেকে দূরে থাকার জন্য বাল্যবিবাহ বা ১৮’র আগেই বিয়ে দেয়ার ইচ্ছে যে কোন প্র্যাকটিসিং মুসলিমেরই থাকতে পারে। বর্তমানে প্রেম, ভালবাসা, লিটনের ফ্ল্যাট এত বেশী বেড়ে গিয়েছে সতীত্ব ধরে রাখাটাই চ্যালেঞ্জ। যারা এখনো ওল্ড স্কুলে বিশ্বাসী তারা শেষ পর্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই কন্যাদান করতে চান। তার উপর সকল অভিভাবকই মনে করে, অন্যের সন্তান যাই করুক, আমার সন্তান তা করবে না…
৩. কিন্তু সময়টা যে ২০২৬ সাল। ১৯২৬ নয়। অনেকেই বলতে পারেন, বর্তমানে আকাশ সংস্কৃতি আর মোবাইল/ইন্টারনেটের কারণে, ১৩/১৪ বছর বয়সেই ছেলে মেয়েরা যৌনতার বিষয়গুলো বুঝতে পারে, জানতে পারে, তাহলে অল্প বয়সে বিয়ে দিতে সমস্যা কোথায়? সমস্যাটা আসলে ছেলেদের নিয়ে নয়, মেয়েদের নিয়েই। কারণ, ’ঝড়’টা বেশী যায় মেয়েদের উপরেই…
৪. ৮০/৯০ দশকেও এত বোরকার ব্যবহার ছিল না, তখনো স্কুল কলেজের মেয়েরা বোরকা পরা শুরু করত না। কিন্তু এখন? কেন অল্প বয়সেই বোরকার ব্যবহার শুরু হচ্ছে? যে ছেলে নামাজ পড়ে না ঠিক মত, সেও কেন স্ত্রীকে বোরকা ছাড়া বের হতে দেয় না। কারণ, এখনকার সমাজ খারাপ। এখনকার পুরুষদের বিকৃত মন মানসিকতা, যেটা পুরুষ নিজেই উপলব্দি করে। অশ্লীল গল্প/সিনেমা দেখার পর এক সময়ের পারিবারিক ভাল সম্পর্ক গুলোও এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে…
৫. মেয়ের বিয়ে ১৪ তে দিলেও ছেলে কিন্তু ১৪ হবে না। ছেলের বয়স হয় ২১/২২ (বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে)। আর যারা আরো প্রতিষ্ঠিত পাত্র চায় তারা ২৫/২৬ বছরকেই প্রাধান্য দেয়। তাহলে ২৫/২৬ বছরের একজন তরুণ কিন্তু বিয়ের পর তার জৈবিক চাহিদা মেটানোর জন্য ‘বাচ্চা’ বলে কাউকে ছাড় দিবে না। এখানেই আমার আপত্তি। এই বয়সের শারিরীক ধকল অনেক মেয়েই নিতে পারবে না। আমাদের আবহাওয়া, জলবায়ু, পরিবেশও সেটাকে সমর্থন দেয় না। তাহলে নিজের কন্যা সন্তানকে সম্ভাব্য বিপদে ফেলে দেয়ার আগে আরেকটু ভেবে দেখা কি উচিত নয়?
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



