somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'দেড় ভরি ভারতীয় হাইকমিশনের এই অপমান আমার নয়, রাষ্ট্রের দেয়া সম্মাননার'- আসিফ আকবর, রাষ্ট্রের অপমানের ভার বয়ে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয় ।

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সরকারে ভারতের প্রতি নতজানুতা পাগল, বোধহীন, শিশু আর দলান্ধরা ছাড়া সকলেই জানে বোঝে। আবার নিরবও থাকে।
কিন্তু দিনকে দিন তাদের হামবড়া ভাব বেড়েই চলছে এই নতজানুতার পথ বেয়ে!

ভিসা জটিলতা নিয়ে বহু বহু মহাকাব্য লিখা যাবে। কিন্তু একজন জাতীয় পুরস্কারের সম্মান পাওয়া বাংলাদেশী নাগরিককেও এভাবে অপমান করা মেনে নেয়া যায় না।
ঘটনা-
ভিসা বাতিল করার কারণে ভারতীয় হাই কমিশনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় গায়ক আসিফ আকবর।
ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করে তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, পৃথিবীর অন্তত আটত্রিশটি দেশ ভ্রমণের পর দেড় ভরি ভারতীয় হাই কমিশনের এই অপমান আমার নয়, রাষ্ট্রের দেয়া সম্মাননার।

রাষ্ট্রের অপমানের ভার বয়ে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয় । তাই আগামী সপ্তাহে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে জাতীয় পুরস্কার রাষ্ট্রের কাছেই ফেরত দিয়ে দেবো।

সংবাদ সূত্র

ফেস বুকে আসিফের ষ্ট্যাটাস দুটো..


২০০৪ সালে ভারতীয় হাই কমিশন আমার পাসপোর্ট আটদিন আটকে রেখে ভিসা দেয়নি। গত এগারো বছর ভিসা চাইনি, প্রয়োজন বোধ করিনি কখনোই। এবার ভারত থেকে সম্মানজনক দাওয়াতপত্র পেয়ে হাইকমিশনে গিয়েছিলাম ভিসার জন্য।

পাঁচটি পাসপোর্টসহ যাবতীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছি। এবারই প্রথম কাবিন নামা দিলাম, বলেছি প্রয়োজনে ডেথ সার্টিফিকেট দেয়া হবে।

এগারো বছর পর দীর্ঘ ১৩ দিন পাসপোর্ট রেখে দিয়ে ১৪ দিনের মাথায় প্রদর্শিত হল ভারতীয় হাই কমিশনের ব্লক বাষ্টার সিনেমা-‘এখানে প্রশ্রাব করা নিষেধ’।

এখানে নায়ক ভিলেন দুটোই আমি, ওরা টিকেটের কালোবাজারি মাত্র । দাওয়াতের মর্যাদা ভারতীয় হাইকমিশন বুঝবে না, এটা একটা স্রেফ ব্যবসা কেন্দ্র। এবারো ভিসা না দেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি,তবে আদায় করা হবে ।

গত কয়েকদিন শরীরটা মোটেও ভাল যাচ্ছে না, এবার মেজাজটাও খিচড়ে গেলো। আমি অপমানিত, ক্রোধান্বিত,বিরক্ত।

ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করছি। পরের বার ভিসা বাড়ী এসে দিয়ে যেতে হবে। ভারতীয় বন্ধুরা- যারা ভালোবেসে দাওয়াত দিয়েছেন আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। এবার শুরু হবে আসল লড়াই।


সতেরো বছরের সঙ্গীত ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় ইন্ডাস্ট্রির মানুষের সুখে দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। নিজের স্বার্থে যুদ্ধ কখনোই করিনি, করবও না । ভারতীয় কোনো শিল্পীর সাথে বাংলাদেশ হাই কমিশন এ ধরনের আচরণ করলে ফুঁসে উঠতো পুরো ভারত। তারা তাদের সন্তানদের দেশে খাওয়াতে পারুক বা না পারুক , অন্তত এভাবে নিজ ভূখণ্ডে অপমানিত হতে দিত না।

বাংলাদেশে এটা হবে না, আমি পথচলা শুরু করেছি এই ইন্ডাস্ট্রির ওপর ভরসা না করেই। সঙ্গীতের নানা পদের সংগঠন, তথাকথিত এজেন্ডাধারী বুদ্ধিজীবী, নাগরিক সমাজ কিংবা রাষ্ট্র কখনোই আমার পাশে দাঁড়াবে না জেনেই আমি আমার পথচলা অব্যাহত রেখেছি। রাষ্ট্রে অবরুদ্ধ আছি নয় বছর, তাতেও কোনো অসুবিধা নেই, দেশে তো থাকতে পারছি অন্তত ...!!!

সর্বোচ্চ সম্মাননা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি দেশে যখন জরুরি অবস্থা চলছিল। এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব ‘রানী কুটির বাকী ইতিহাস’ ফিল্ম টিমের। কোনো দলবাজির মাধ্যমে এ সম্মাননা পাইনি।

পৃথিবীর অন্তত আটত্রিশটি দেশ ভ্রমণের পর দেড় ভরি ভারতীয় হাই কমিশনের এই অপমান আমার নয়, রাষ্ট্রের দেয়া সম্মাননার।

রাষ্ট্রের অপমানের ভার বয়ে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয় । তাই আগামী সপ্তাহে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে জাতীয় পুরস্কার রাষ্ট্রের কাছেই ফেরত দিয়ে দেবো।

ভারতীয় হাই কমিশনের গৃহপালিত শিল্পাঙ্গনের সমস্ত শিল্পীদের বলতে চাই, আমি এবং আমার পরিবার নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, হয়তো আরো হবো, কিন্তু আপনারাও জয়ী হননি।

শুভাকাঙ্খীদের সবাই থামাতে চায় আমাকে, বুদ্ধি দেয়-মানিয়ে চলো। আমার উত্তর স্পষ্ট- যাই ঘটুক আমার জীবনে - আমি নতুন এবং তরুন প্রজন্মের সামনে বিশাল হয়ে থাকতে চাই- জীবিত কিংবা মৃত।


ভারতীয় হাই কমিশনের স্বেচ্ছাচারিতা, বানিজ্য নিয়ে বহু কথা হয়েছে । তাদের মেডিকেল সার্ভিসের বড় ভোক্তা বাংলাদেশীরা! ভব্যতা না থাক মিনিমাম কাস্টমার কেয়ার হিসাবেওতো যেটুকু প্রাপ‌্য তাও দিতে ভূলে যাচ্ছে অহংকারী ভারত!

নাগরিক হিসাবে এই অপমানের দৃঢ় জবাব দিতে সকলকেই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

যে চেতনায়, কষ্টে এবং দেশপ্রেমে আসিফ ভাবতে পারছেন- এই অপমান আমার নয়, রাষ্ট্রের দেয়া সম্মাননার।রাষ্ট্রের অপমানের ভার বয়ে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয় ।
আপনি কি তেমন ভাবছৈন?
আপনি কি এই অপমান বয়ে বেড়াতে রাজি?
নয়তো যারযার স্থান থেকে আওয়াজ তুলুন।

জাতি হিসাবে নূনত্যম লজ্জ্বা, আত্মসম্মানবোধের জায়গা টুকু ছেড়ে দেয়া যাবেনা কোন ভাবেই।

বাংলাদেশ ৭১এ রক্তের সাগর পেরিয়েই স্বাধীন হয়েছে। সেই স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিকের আত্ম সম্মান মর্যাদা আর দেশের সম্মান রাখতে বাঙালী এখণো সক্ষম! যে কোন মূল্য।

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:২৫
২৬টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশে ইসলামপন্থা বনাম গণতন্ত্র: মানুষ যখন নাগরিক থেকে অনুসারী হয়ে উঠছে!

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩


কিছুদিন আগেও আমরা বলতাম, "দয়া করে ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মেশাবেন না"। সরল এই কথাটির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বোধ ছিল - ধর্মীয় বিশ্বাস আর রাজনীতি এক জিনিস নয়। গত দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার হিসেবে আপনার স্ট্র্যাটেজি কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬



গত আড়াই দিনে, অর্থাৎ, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১০-তে ব্লগার ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা থেকে শুরু, এরপর থেকে আজ ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় বিকাল ৪টা ৪২... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×